খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম

কুড়োল December 20, 2009

Filed under: ঈগল(Eagle) — rezowan @ 2:52 am
কুড়োল (Kurol) বা কুড়া এক ধরনের ঈগল যা ইংরেজীতে Pallas’s Fish-eagle, Pallas’s Sea-eagle, Band-Tailed Fish-eagle,  বা Ring-tailed Fishing Eagle নামে পরিচিত। এর দ্বীপদ নাম Haliaeetus leucoryphus। এটা বাংলাদেশ ছাড়াও Central Asia’ Caspian Sea Yellow Sea হতে Kazakhstan, Mongolia, Himalayas, Persian Gulf, northern India তে দেখা যায়।
এরা ক্রুরর-ক্ররর-ক্রররল স্বরে ডাকে। বৃত্তের মত চক্কর দিয়ে শিকার খোজে। কুড়োল অত্যন্ত দক্ষ শিকারি। গাছের উঁচু ডাল থেকে শিকারকে তীক্ষ্ণ চোখে পর্যবেক্ষণ করে। তারপর ছোঁ মেরে ঝাঁপিয়ে পড়ে হাওরে বিচরণকারি জলজ হাঁসের উপর। কুড়োল দিনে অন্তত দুটি হাঁস শিকার করে। শীতের শুরুতে এরা বাসা বাঁধতে শুরু করে। একই বাসায় এরা দীর্ধ দিন বাস করে। ছোটখাট কাঠি, কঞ্চি, টুকরা বাঁশ ইত্যাদি দিয়ে তৈরি বাসা এরা প্রতি বছরই সংস্কার করে। এভাবে বছরের পর বছর বাসার আকৃতি বাড়তে থাকে। অনেক সময় বাসার ভারে গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়ে। তখন এরা পাশের গাছে অথবা দূরে কোথাও চলে যায়।
প্রথাগতভাবে কুড়োল দুটি ডিম দেয়। ডিম ফুটে বাচ্চা হতে লাগে এক মাসের কিছু বেশি। স্ত্রী ও পুরুষ কুড়োল সর্বোচ্চ ৪৫ দিন বাচ্চা দেখা শোনা করে। সদ্য শিকার করা খাবার এনে তা ছিঁড়ো ছোট টুকরা করে তা বাচ্চাদের খাওয়ায়।বসন্ত এলে বাচ্চা সহ কুড়োল এলাকা ছেড়ে চলে যায়। বছরের অবশিষ্ট সময় কাটায় ভারতের মেঘালয় আর আসামের বনাঞ্চলে।
কুড়োল একটি বিপন্ন প্রজাতি। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ২৫ জোড়া কুড়োল আছে। প্রায় ৫০ বছর আগে এদেশেই স্থায়ী বসবাস ছিল এদের। এখন কেবল শীতকালে পরিযায়ী হয় ডিম দেয়ার জন্য।
 

ঈগল December 16, 2009

Filed under: ঈগল(Eagle) — rezowan @ 4:16 am

ঈগল বিরাটাকার, শক্তিধর, দক্ষ শিকারি পাখি। ঈগল সাধারনত বনে বা ঘন জঙ্গলে বসবাস করে থাকে।বানর, ছোট জাতের পাখি, টিকটিকি, হাস-মুরগী খেয়ে জীবন ধারণ করে থাকে। একটি পূর্ণ বয়স্ক ঈগলের ওজন প্রায় ৩০ কেজি এবং লম্বায় প্রায় ৩০-৩৫ ইঞ্চি হয়ে থাকে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো একটি পূর্ণ বয়স্ক সুস্থ ঈগল ১১হাজার ফুট উপরে উঠতে পারে। শীত কালে এরা তুলনামুলক কম শীত এলাকা বা দেশে চলে যায়। এরা জনমানব এলাকার বাইরে এবং কমপক্ষে ১০০ ফুট উপরে বাসা তৈরি করে স্বামী স্ত্রী উভয়ে একত্রে বসবাস করে প্রজনন ঘটায়।

তাদের জীবন রক্ষার জন্য বড় হাতিয়ার তাদের পায়ের নখ। নখ গুলো এতই তীক্ষ্ণ যে নিমিষের মধ্যে শিকারী ছিন্ন ভিন্ন করে দেয়।

তবে এরা এখন বিলুপ্তির পথে। বাংলাদেশে এদের দেখা পাওয়া যায়না বললেই চলে। আমাদের দেশে এক সময় সাদা বুকের সমুদ্র ঈগল (Haliacetus Leucogaster), কুড়া বা পলাশ মেছো ঈগল (Haliacetus leucoryphus), কুল্লে বা সাপখেকো ঝুঁটি ঈগল (Spilornis cheela) ছোটনখের ঈগল (Little Eagle) দেখা যেত কিন্তু আজ তাদের জুরি মেলা ভার।

 

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.