খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম

এ.আর.রহমান January 15, 2010

Filed under: এ আর রহমান — rezowan @ 6:16 am

আল্লাহ রাখা রহমান(এ আর রহমান) ১৯৬৬ সালের ৬ জানুয়ারি দক্ষিণ ভারতের চেন্নাইতে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর নাম ছিল এ এস দিলীপ কুমার। বর্তমানে তিনি এ আর রহমান নামেই পরিচিত সারা বিশ্বে। তিনি একজন বিখ্যাত সুরকার, সংগীত পরিচালক, প্রযোজক এবং গায়ক। তিনি হিন্দি, চায়নীজ, তামিল ও ইংরেজী ছায়াছবিতে(কাপলস রিট্রিট) সংগীত পরিচালনা করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ২০০৯ সালে  ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’ ছায়াছবিতে সঙ্গীতের জন্য অস্কার পুরস্কারও পেয়েছেন। এই একই চলচিত্রের থিম সং ও সাউন্ডট্রাক ‘জয় হো’র জন্য ২০১০ সালে ৪৪ বছর বয়সী  এই সঙ্গীতজ্ঞ সংগীতের সবচেয়ে বড় পুরস্কার গ্রামী এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন ।তাছাড়া তিনি মারিশাস ন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড, মালোয়েশিয়ান এ্যাওয়ার্ড, চারবার ন্যাশনা ফিল্ম এ্যাওয়ার্ড(ভারত), তামিল নাড়ু স্টেট ফিল্ম এ্যাওয়ার্ড, ১৩টি ফিল্মফেয়ার এ্যাওয়ার্ড, বারটি দক্ষিণ ভারতীয় ফিল্মফেয়ার এ্যাওয়ার্ড, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানী এ্যাওয়ার্ড, ক্রিটিক্স চয়েজ এ্যাওয়ার্ড, বাফটা এ্যাওয়ার্ড, গোল্ডেন গ্লোব এ্যাওয়ার্ড, একাডেমিক এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। ভারত সরকারের কাছ থেকে পদ্মশ্রী সম্মানে/’পদ্ম ভূষণ’ ভূষিত হয়েছেন। এটি ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক খেতাব।তাছাড়া আলীগড় ও মিডলসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানী ডক্টরেট প্রদানের ঘোষনা দিয়েছে।

এ আর রহমানের বাবার নাম আর কে শেখর যিনি মালোয়লাম ছায়াছবির একজন সুরকার ও পরিচালক ছিলেন। তাঁর মায়ের নাম কারিমা বেগম(জনাব শেখরের সাথে বিয়ের পর নাম রাখেন কস্তুরী)। এ আর রহমান পিতার তত্বাবধানেই সংগীতে জগতে পা রাখেন।কিন্তু মাত্র নয় বছর বয়সেই তিনি পিতাকে হারান। তারপর থেকে শুরু হয় তাঁর সংগ্রাম। তিন বোন ও মাকে নিয়ে সংসারের দায়ভার তাঁর কাঁধে পড়ে।তিনি বিভিন্ন জায়গায় সঙ্গীত দলের সাথে কাজ করেছেন। বিখ্যাত তবলা বাদক জাকির হোসেনের সাথে বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন, তাছাড়া আরও নামকরা কলাকারদের সাথে তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করেছেন, নিজের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এভাবে তারঁ অভিজ্ঞতা ও প্রদর্শনের কারণে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি সংগীত মহাবিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৮৭ সালের দিকে তিনি টিভি বিজ্ঞাপনের জন্য জিংগল কম্পোজ করেন। পাঁচ বছরের মাথায় তিনি ৩০০ এর বেশি জিংগল করেন। এভাবে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই চলছিল তাঁর জীবন।

১৯৮৮ সালে তাঁর এক বোন হঠাৎ করে রোগাক্রান্ত হোন। কোন ভাবেই আরোগ্য লাভ হচ্ছিল না। তখন একদিন এক দরবেশের(শেখ আব্দুল কাদের জিলানী) আগমন ঘটে। দরবেশের এবাদতে তাঁর বোন আরোগ্য লাভ করেন। এ আর রহমানের ভাষ্যমতে জানা যায়- ১৯৯৮৮ সালে তিনি যখন মালোয়েশিয়ায় ছিলেন তখন একদিন স্বপ্নে দেখেন- একজন বৃদ্ধ লোক তাঁকে ইসলাম গ্রহন করতে বলছেন। প্রথম প্রথম বিষয়টিকে তিনি গুরুত্বের সাথে নেননি। আরও কয়েকবার একই স্বপ্ন দেখার পর তিনি বিষয়টি নিয়ে তাঁর মায়ের সাথে কথা বলেন। তাঁর মা (যিনি একজন মুসলমান ছিলেন) তাঁকে উৎসাহ প্রদান করেন। পরবর্তিতে বোনের রোগ ও অলৌকিকভাবে আরোগ্য লাভ তাঁকে ইসলাম গ্রহনে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি তাঁর মায়ের সাথে একই ধর্ম বিশ্বাসে চলতে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন। তাঁর বোনেরাও গ্রহন করেন। এ আর রহমান এখন একজন সুফী মুসলিম। তাঁর বিভিন্ন সংগীতে সুফী প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এভাবেই শুরু হয় একজন দিলীপ কুমারের এ আর রহমান হিসেবে পথ চলা। তবে তাঁর সাফল্যের শুরু আরও দুই বছর পরে।

১৯৯১ সালের কথা। ভারতের বিখ্যাত পরিচালক মণিরত্নম একজন সুরকার খুঁজছিলেন। একটি অনুষ্ঠানে তাঁর সাথে এ আর রহমানের দেখা হয়। ঐ অনুষ্ঠানে শারদা ত্রিলোকের নির্মিত লিও কফির বিজ্ঞাপনের জিংগল বেস্ট জিংগল হিসেবে পুরস্কার পায়। সেই অনুষ্ঠানে শারদা মণিরত্নমের সাথে এ আর রহমানের পরিচয় করিয়ে দেন। এর ছয় মাস পরে ছায়াছবি “রোযা”-তে কাজের সুযোগ পান এ আর রহমান। এরপর থেকেই নিজের প্রতিভার গুণে পথ চলা একজন সংগীত প্রেমীর, একজন সুরকারের, একজন গায়কের।
নিচে এ আর রহমানের বিখ্যাত কিছু সংগীত যুক্ত করা হলো।
এ আর রহমানের সংগীত পরিচালনায় নির্মিত ভারতের জাতীয় সংগীতের ভিডিওটি সবার নজর কাড়ে। এত আবেগ আর এত দেশপ্রেমের সংমিশ্রণ এর আগে মনে হয় আর ঘটেনি। ( ভাবতে আফসোস লাগে- আমাদের দেশের কিছু কুলাঙ্গার এখনও জাতীয় সংগীতকে শ্রদ্ধা করে না।)

 

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.