পৃথিবীতে যতগুলি ফল আছে তারমধ্যে সবচেয়ে বড় ফলও এটি। বাংলাদেশের জাতীয় ফল হলো কাঁঠাল। দেশের সব এলাকাতেই এই ফলের গাছ দেখা যায়। তবে গাজীপুর, ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, নওগাঁ, সাভার, মধুপুর, সিলেটে প্রচুর পরিমানে কাঁঠাল উৎপন্ন হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা সহ বেশ কয়েকটি দেশেও এই ফল দেখা যায়। এই ফলের কাঁচা অবস্থায় নাম এঁচোড়। এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ আকৃতির ফল।
একেকটা কাঁঠালের ব্যাস ২৫ সেন্টিমিটারের মত আর লম্বায় ৯০ সেন্টিমিটার হয়। ওজন ৩-৭ কেজি স্বাভাবিকভাবে হয়ে থাকে এর বেশি ও হতে দেখা যায়। সাধারণত: লাল মাটিতে ও উচু এলাকায় বেশি দেখা যায়। গাছের কাঠ হলুদ রংএর, উন্নত মানের দামি কাঠ বলে সমাদৃত। একেকটা কাঠাল আবার অনেকগুলো কোষ তার খাঁজকাটা দেহের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। হলুদ রঙের কোষগুলোর ভিতরে আবার একটা করে বীজও থাকে। একেকটা কাঁঠালে ৫০০ পর্যন্ত কোষ থাকতে পারে। এই কোষগুলো বেশ রসালো।
কাঁঠাল গাছ চিরসবুজ বৃক্ষ। উচ্চতায় ৯ থেকে ২৫ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। কাঁঠাল ও কাঁঠাল গাছের কোন অংশই ফেলনা নয়। প্রায় সব অংশই কাজে লাগে। এর কাঠ আসবাবপত্রের জন্য বেশ ভালো। আবার গাছের পাতা গবাদি পশুর প্রিয় খাদ্য। একটি কাঁঠাল পরিবারের সবার চাহিদা মেটাতে পারে। আবার ফলের উচ্ছিষ্ট অংশ গবাদি পশুর প্রিয় খাদ্য।
গাছের সব জায়গাতেই কাঁঠাল ধরতে পারে। একেবারে মাটির কাছে গোড়া থেকে শুরু করে অনেক উচুঁতেও ধরতে পারে। একটি গাছে গড়ে প্রায় ১৫০ টা পর্যন্ত কাঁঠাল ধরতে পারে। অসংখ্য হলুদ রং এর ছোট রসালো কোষ একত্রে মোথার চারদিকে ঘিরে থাকে। প্রতিটি কোষে বীজ থাকে ঐ বীজ থেকে গাছ হয়। মিষ্টি এবং বেশ পুষ্টিকর। নভেম্বর- ডিসেম্বর মাসে ফুল হয় এবং মে -জুন নাগাদ পাকে। কাচা অবস্থায় ও তরকারি হিসেবে খাওয়া যায়। এর প্রায় পুরো অংশই কাজে লাগে, ফল খাওয়ার পর এর উচ্ছিষ্ট অংশ গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহার হয। বীজ শুকিয়ে আলুর বিকল্প হিসেবে খাওয়া যায় সিদ্ধ করে, আবার বাদামের মত বালুতে ভেজেও খাওয়া যায় । এছাড়া এর বীজ প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিকারক বলে মনে করা হয়। সাধারণত একটা কাঁঠাল গাছ লাগানোর তিন বছরের মধ্যেই তাতে ফল ধরতে শুরু করে।
কাঁঠাল পাকলে এমনিতেই বেশ মিষ্টি। এর রসালো কোষগুলো থেকে মজাদার রসও হতে পারে। আবার অনেকে কাঁচা কাঁঠালও সব্জি হিসেবে খায়। এছাড়াও জ্যাম, জেলি, হালুয়া, পুডিং, চিপস, সালাদ প্রভৃতি মজাদার খাবারও বানানো যায়। এর যে বীজ আছে সেগুলোও ভেজে, ভর্তা করে খায় আমাদের দেশ সহ অনেক দেশেই ।
কাঁঠালকে ইংরেজিতে বলে jackfruit। কারণ একই ফলের মধ্যে অনেক ফল থাকে বলে এই নাম।পর্তুগিজ ভাষায় কাঁঠালকে বলে জাকা (jaca), যা মালয়লাম ভাষা চাক্কা (chakka) থেকে এসেছে।
আসামে কাঁঠাল থেকে এক ধরনের আচার তৈরি করা হয়।
ভারতের কেরালায় কাঁঠালের পুডিং তৈরি হয়। এছাড়া এক ধরনের চিপস তৈরি করে তারা কাঁঠাল থেকে।
ভিয়েতনামে গয় মিট নামের এক ধরনের সালাদ তৈরি করা হয় কাঁঠাল থেকে।
বাংলা ও হিন্দিভাষা কাঁঠাল বলা হলেও এই ফলের আরও অনেক নাম আছে। যেমন গুজরাটি ভাষায় পানাসি, নেপালিতে রুখ কুট-এ-হের, তামিল ভাষায় পালা, চীনাভাষায় বৌলমী বা পৌলমী, জাপানিতে পারামিটসু, কোরিয়ান ভাষায় বারামিল বলে।







Recent Comments