খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম

কোকিল January 10, 2010

Filed under: কোকিল(Cuckoo) — rezowan @ 5:52 am

পরনির্ভরশীল পাখির কথা বললে প্রথমেই কোকিলের কথা আসে। কোকিল কখনও বাসা বাঁধে না। এরা অন্য পাখির বাসায় ডিম পাড়ে বিশেষ করে পাতিকাক, বুলবুলি, বাঘাটিকি, বনছাতারে এমনকি বসন্তবৌরির বাসায়ও ডিম পাড়ে। তবে পরজীবী পাখি হলেও বসন্তকালে এদের বিশেষ ডাকের কারণে সবার কাছেই পরিচিত এই পাখি।

কোকিলের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার পর পরই অন্য ডিম বা বাচ্চা ফেলে দেয় বাসার মালিক পাখিরা। কালা কোকিল সবচেয়ে বেশি ডিম পাড়ে কাকের বাসায়। কোকিল ও কাকের ডিম পাড়ার সময় এপ্রিল-আগষ্ট মাসে। এ সময় কাকের ডিমে তা দেবার সময়। বাসার চারদিকে পুর”ষ কোকিল ঘুরঘুর করে কাককে রাগান্বিত করে। কাক কোকিলকে তাড়া করে আর সে এ সুযোগে মেয়ে কোকিল কাকের বাসায় ডিম পেড়ে আসে। কাক যেন টের না পায় সে জন্য তার কয়েকটি বা সবকটি ডিম ফেলে দিয়ে ডিম পাড়ে। অথবা কাক যখন সামান্য সময়ের জন্য বাসা ছেড়ে যায় তখনই কোকিল ডিম দেয়। বোকা কাক কিছু বুঝতে পারে না। সে নিজের ডিমের সঙ্গে কোকিলের ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়।

পৃথিবীব্যাপী কোকিলের প্রায় ১৩০ টি প্রজাতি আছে, এর মধ্যে বাংলাদেশে ২০ ধরণের কোকিল দেখতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১৬ জাতের কোকিল অন্য পাখির বাসায় ডিম পাড়ে। বাকি দুইটি প্রজাতি নিজেরাই বাসা বানায়। এরা হচ্ছে সবুজ ঠোঁট মালকোয়া ও মেটে মালকোয়া। আমাদের দেশে সচরাচর যে কোকিল দেখা যায় তার নাম কালা কোকিল। কাছ থেকে পুরুষ কোকিলের শরীর উজ্জ্বল কালোর উপর নীলাভ-সবুজের প্রলেপ মনে হয়। চোখ লাল টকটকে। ঠোঁট হালকা হলুদ। স্ত্রী কোকিল পুরুষ কোকিলের থেকে একেবারেই আলাদা। স্ত্রী কোকিল বাদামী রংয়ের এবং তার উপর সাদা ফোঁটা ও দাগ রয়েছে।

 

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.