খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম

ডোডো December 26, 2009

Filed under: ডোডো(Dodo) — rezowan @ 9:11 pm

মরিশাসে ছিল ‘ইন্ডিয়ান ওশান’ নামে একটি দ্বীপ আর এখানেই ডোডো নামের কবুতর গোত্রীয় পাখিদের বসবাস ছিল। পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Raphus cucullatus। এই পাখি প্রায় এক মিটার লম্বা এবং ২০ কি. গ্রা. ওজনের হতো। ফল খেয়েই পাখিগুলো বেঁচে থাকত। তবে বাসা বাঁধত মাটিতে। কিন্তু এদের বিলুপ্তি ঘটতে থাকে সপ্তদশ শতাব্দী থেকে। আর এর জন্য সরাসরি মানুষকেই দায়ী করা হয়। পঞ্চদশ শতাব্দীর দিকে প্রথম ডোডোর চিত্র পাওয়া যায় ‘জেল্ডারল্যান্ড’ নামের এক জাহাজের ট্রাভেল জার্নালে। তবে পাখিটির নাম কেন ডোডো হলো, এ নিয়ে আছে নানা মত। অধিকাংশের মতে, ডাচ ‘ডোডুর’ শব্দ থেকেই এটি উৎপত্তি হয়েছে, যার অর্থ অলস। আর শব্দটি নেওয়া হয় ক্যাপ্টেন ভ্যান ওয়েস্টসানেন এর জার্নাল থেকে। ১৬২৭ খ্রিস্টাব্দে থমাস হার্বার্ট ‘ডোডো’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। কিন্তু উনিই প্রথম কি-না, তা নিয়েও সন্দেহ আছে। কারণ ১৫০৭ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগিজরা দ্বীপটি পরিদর্শন করে। যাই হোক, ‘এনকার্টা ডিকশনারি’ এবং ‘চেম্বারস ডিকশনারি অব ইটিমোলজি’ অনুযায়ী ‘ডোডো’ শব্দটি এসেছে পর্তুগিজ ‘ডোউডো’ থেকে, যার অর্থ ‘বোকা বা পাগল’। ডেভিড কোয়াম্মেলের মতে, ‘ডু-উ- ডু-উ’ শব্দ করে ডাকে বলেই পাখিটির নাম ডোডো হয়েছে। ধারণা করা হয়, পাখিটির পূর্বপুরুষ হলো ‘রডরিজাস সলিটেয়ার’ নামের পাখি। রডরিজাস সলিটেয়ার পাখিও হারিয়ে গেছে বহু আগে। ডোডোর খাদ্য ছিল ট্যামব্যালাকক নামের এক ধরনের গাছের ফল। অবশ্য এই ফলগাছটি ডোডো পাখির বিলুপ্তির সঙ্গেই ধ্বংস হয়ে যায়। ডোডো ছিল নির্ভীক পাখি। অন্য কোনো জন্তুর শিকারে পরিণত হয়নি কখনও। তবে মাঝেমধ্যে এরা শূকরের শিকারে পরিণত হতো। বন্যার কবলে পড়েও মারা গেছে অনেক ডোডো। কিন্তু পাখিটি একেবারেই ধ্বংস করে দিয়েছে কিছু শিকারি। বনজঙ্গল ধ্বংস করার ফলেও ডোডো’র আবাসস্থল হুমকির সম্মুখীন হয় এবং প্রাণীটির বিলুপ্তি ঘটে। সম্প্রতি কিছু ডোডোর হাড় পাওয়া গেছে বেউ ডি কলাপ নামের এক গুহা থেকে, যেখানে পলাতক দাসরা বাস করত। ২০০৭ সালে মরিশাসের একটি গুহা থেকে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন পূর্ণাঙ্গ ডোডোর একটি কঙ্কাল। গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা ঘোষণা করেছেন, পাখিটির ওড়ার ক্ষমতা ছিল না। মাটিতেই বসবাস করত এরা। ডোডোর হাড় দেখে পাখিটিকে একটি অদ্ভুত প্রাণী বলেও মনে করেন অনেকে। এটিকে ঘিরে তৈরি হয় নানা উপকথা। এই পাখিকে কেন্দ্র করে রচিত হয় লোমহর্ষক অনেক গ্রন্থও। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও এটি প্রতীকায়িত হয় নানাভাবে। ডোডো নিয়ে তৈরি হয় প্রবাদও। ‘ডেড এজ এ ডোডো’ অর্থাৎ ডোডোর মতো মৃত_ এ প্রবাদটি তো অনেকেরই জানা। এটিই প্রমাণ করে ডোডোর বিলুপ্তির কথা। এমনই আরেকটি প্রবাদ হলো, ‘ডোডোর পথের সহযাত্রী’, যার মানে ডোডো মানেই অতীত, ডোডো মানেই বিলুপ্তি, ডোডো মানেই বিস্মৃতি। এভাবেই যুগ যুগ ধরে প্রকৃতির অলঙ্কার পাখি নিধন করে আমরা নিজেদেরই ধ্বংস ডেকে আনছি।

 

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.