খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম

নিল December 15, 2009

Filed under: নীল,ভেষজ,শস্য — rezowan @ 3:15 pm

লিখেছেন : রাজামশাই

পুরাকালে মিশর, গ্রীস ও রোমের লোকেরাও নীলের কথা জানতো। মিশরের ১৮তম রাজবংশের মমিগুলি নীলরং এর কাগজে মোড়া থাকতো।


বাংলা ভূখন্ডে ইন্ডিগোফেরা এর ১৫ প্রজাতির গাছ জন্মে। তার মধ্যে indigofera tinctoria নীল রং এর চাষ করা হতো ভারতে। নীর পানিদে দ্রব্য গুকোসাইড নামক রাসায়নিক হিসাবে থাকে।
এর বাংলা নামঃ নীল
অন্যান্য স্থানীয় নামঃ নিলিনী, রঞ্জনী, গ্রামিনিয়া, কালোকেশী, নীলপুষ্প, মধুপত্রিকা।
বৈজ্ঞানিক নামঃ indigofera tinctoria পরিবারঃ Fabaceae
বৈজ্ঞানিক বিভাজনঃ
Kingdom: Plantae
Division: Magnoliophyta
Class: Magnoliopsida
Order: Fabales
Family: Fabaceae
Subfamily: Faboideae
Tribe: Indigofereae
Genus: Indigofera
Species: I. tinctoria
Binomial name: Indigofera tinctoria L.
নীল রং তৈরীর পদ্ধতি নিম্নরূপ – গাছ কেটে বড় কড়াইতে পানির মধ্যে প্রায় ১২ ঘন্টা ডুবিয়ে রাখলে তা থেকে সবুজ রং এর নির্যাস রের হয়। এরপর এই নির্যাস নতুন পাত্রে ঢেলে এই দ্রবনকে কাঠি দিয়ে অনেক্ষন নাড়তে হয় যাতে নী বাতাসের অক্সিজেন এর সংস্পর্শে আসে। এর ফলে অদ্রাব্য নীল এর তলানী নীচে জমা হয় এবং পড়ে তা পৃথক করে শুকিয়ে টুকরো টুকরো করে কাটা হয়। ইন্ডিগোটিন ছাড়া তাতে অন্যান্য পদার্থ থাকে তার মধ্যে ইন্ডিরুবাইনম ইন্ডিগো গ্রীন ও ইন্ডিগো ব্রাউন।

এই গাছের ভেষজগুনও বিদ্যমান। প্রাচীন ভারতে অয়ুর্বেদ শাস্ত্রে নীলে আছে প্রশস্তি। আধুনিক কবিরাজি চিকিৎসায় নীলে শিকড় ও পাতার নানা অসুখে ব্যবহৃত হয়। পাতার রস মৃগীরোগীর জন্য উপকারী।

এই উপমহাদেশের মাটি নীল চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী হওয়ায় বৃটিশ নীল করেরা বিপুল পুঁজি বিনিয়োগ করে নীলচাষে। নদীয়া, যশোর, বগুড়া, রংপুর প্রভৃতি জেলায় নীলচাষ ব্যাপক ভাবে করা হতো। উনিশ শতকের শেষের দিকে নীলচাষ অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক না হওয়ায় কৃষকরা ধান ও পাট চাষের দিকে ঝুকে পড়ে। বৃটিশ নীলকরেরা অত্যাচার আর নিপীরনের মাধম্যে নীলচাষে বাধ্য করলে ১৮৫৯-৬০ সালে নীলচাষীরা এর বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলে। এর পরে বাংলায় নীল চাষ ক্রমে বিলুপ্ত হয়।
 

নীল November 25, 2009

Filed under: নীল,শস্য — rezowan @ 10:44 pm

নীল চাষ, নীল বিদ্রোহ, নীল কর ইত্যাদি শব্দ গুলো আমাদের ইতিহাসে আছে। ইংরেজরা একসময় আমাদের কৃষকদের দিয়ে জোর পূর্বক নীল চাষ করাতো, তবে আমাদের দেশে এখন ঢাকা বোটানিক্যাল গার্ডেন সহ মাত্র কয়েকটি জায়গায় এই গাছ রয়েছে।

 নীল রংয়ের একমাত্র উৎস হচ্ছে এই নীল গাছ। যদিও বর্তমানে বেশীরভাগ নীল রঙই সিনথেটিক, কিন্তু এখন্ও উদ্ভিদজাত বিশুদ্ধ নীল বাজারে পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক ভাবে নীল এশিয়া ও আফ্রিকার কিছু অংশে জন্মে, কিন্তু সারা বিশের অনেক দেশেই নীল চাষ করা হয়।
নীল উদ্ভিদ মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে মাটির উর্বরতা বাড়ায়। গাছটি ১-২ মিটার লম্বা হয়। একবর্ষজীবী, দ্বিবর্ষজীবী বা বহুবর্ষজীবী হতে পারে, এটা নির্ভর করে আবহাওয়া ও জন্মানোর স্থানের উপর।
এর পাতাগুলো হালকা থেকে গাঢ় সবুজ এবং ফুল গুলো পিংক রঙের, জম্মে গুচ্ছে-গুচ্ছে।


একটি নীল ক্ষেত
নীল রং সংগ্রহ করা হয় পাতাগুলো বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে। প্রথমে পাতা সংগ্রহ করে পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয় এরপর ঐ পানিতেই পাতাগুলোকে গাঁজানো হয়। গাঁজন শেষে পাতা ও পানিকে ছেঁকে আলাদা করে পানি শুকিয়ে নীলের কেক পাওয়া যায়, পরবর্তীতে কেক গুড়ো করে পাউডার করেই কাঙ্খিত নীল রং পাওয়া যায়।

ইতিহাস বিখ্যাত কয়েকটি নীল বিদ্রোহের কাল নিম্নরূপ:
১। বীর তিতুমীরের নেতৃত্বে ১৮২৩ সাল থেকে ১৮৩১ সাল পর্যন্ত অত্যাচারী জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।
২। ১৮৪০ সাল থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত দুদুমিয়ার নেতৃত্বে নীলকরদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ।
৩। ১৮৫৯ সাল থেকে ১৯৬১ সালের মধ্যে বাংলার সর্বত্র প্রজাসাধারনের নেতৃত্বে ব্যাপক নীল বিদ্রোহ।
৪। ১৮৮৯ সালের মাগুরা-মুহম্মদপুর ও কুষ্টিয়া এলাকার সর্বশেষ নীলবিদ্রোহ।
(তথ্য সূত্র: নড়াইল জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য — মহসিন হোসাইন।)

অন্যান্য ভাষায় এর নাম:
• English: True Indigo
• Hindi: नील neel
• Manipuri: নীম Neem
• Marathi: निळंबी nilambi, नीली nili
• Tamil: அவுரி avuri, நீலி nili
• Malayalam: അമരീ amari, നീലമരീ nilamari, nili
• Telugu: అవిరి aviri, నీలి nili
• Kannada: ajara, nili
• Bengali: নীল nil • Konkani: नीली Nilli
• Urdu: نیل Nel
• Assamese: ৰংগপাত Rangapat
• Gujarati: નીલ neel • Sanskrit: नीली neeli, nilika, नीलिनी nilini, रंगपत्री rangapatri
বৈজ্ঞানিক নাম: Indigofera tinctoria
গোত্র: Fabaceae

 

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.