খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম

লাল পান্ডা December 6, 2009

Filed under: পান্ডা(Panda) — rezowan @ 3:15 pm

লাল পান্ডা প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৮২১ সালে। অথচ জায়ান্ট পান্ডা আবিষ্কৃত হয় এর ৪৮ বৎসর পরে ১৮৬৯ সালে।বনের ভিতর মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণে এদের অবস্থা ধীরে ধীরে সঙ্গীন হয়ে উঠেছে। যার জন্য এদের নাম বিপন্ন প্রজাতির খাতায় উঠে গেছে।নেপাল ও চীনের দক্ষিণ প্রান্তের বনে এই লাল পান্ডার বাস। এদের নামকরণ করা হয়েছে নেপালি ভাষায়। নেপালি ভাষায় “nigalya ponya” শব্দের অর্থ যেসব প্রাণী বাঁশ এবং বিভিন্ন ধরণের গাছ খায় আর চীনাভাষায় এদের নাম Hunho অথবা Firefox, গায়ের রং এবং আকারের জন্য এদের এরকম নাম হয়েছে। ইংলিশ নাম Shining cat বা The Red Panda । খুব জোরে জোরে চীৎকার করে বলে এদেরকে সহজেই দেখা যায়। এরা সম্পূর্ণরূপে উদ্ভিদভোজী। লাল পান্ডা তাদের শরীরের ওজনের ৪৫ ভাগেরও বেশি ওজনের খাবার খেয়ে থাকে। দিনে প্রায় ২০০,০০০টি বাঁশের পাতা এরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। এদের কথা প্রথম লিখিত অবস্থায় পাওয়া যায় ১৩শ শতকের ছৌ রাজবংশের সময়।

এরা রেকুন প্রজাতির প্রাণী। দেখতেও প্রায় রেকুনের মত। লাল পান্ডা বেশ লাজুক এবং শান্ত। দিনের বেশিরভাগ সময় গাছের ডালে ঘুমিয়ে কাটায়। সমস্ত শরীর লালচে রঙের ফার দিয়ে মোড়ানো।

আকারে গৃহপালিত বিড়ালের চেয়ে একটু বড়। ওজন প্রায় ৪-৬ কেজি।
এদের শরীরের প্রধান রং বাদামী, পেট, গলা ও বাহুগুলো কালো রঙের। মাথা, মুখ, চোখ ও হাত-পায়ের সম্মুখভাগ সাদা রঙের। জায়ান্ট পান্ডার মত এদের অতিরিক্ত একটা বৃদ্ধাঙ্গুলি আছে। এটা আসলে কোন আঙ্গুল নয়, শরীরের একটা হাড়ের বর্ধিতাংশ মাত্র।আয়ু প্রায় ১২-১৪ বৎসর।
এরা প্রধানত: বাঁশ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের ফল, গাছের শিকড় এবং মাঝেমধ্যে পাখির ডিম এবং ছানা খেয়ে থাকে।

১-৪ বৎসরের মধ্যে স্ত্রীপ্রজাতির লাল পান্ডা বাচ্চা প্রসব করে। এদের গর্ভধারণকাল ১১২-১৫৮ দিন। একবারে এরা তিনটার বেশি বাচ্চা প্রসব করে।
এরা সাধারণত সকাল এবং অপরাহ্নে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। এই সময় তারা খাবার খেয়ে থাকে। আর দিনের অন্যান্য সময় ঘুমিয়ে কাটায়। এরা সাধারণত একা থাকে। তবে প্রজননকালে জোড়া বাঁধে।

এই Red Panda বা লালপান্ডা’র বৈজ্ঞানিক নাম Ailurus fulgens


 

পান্ডা December 1, 2009

Filed under: পান্ডা(Panda) — rezowan @ 7:09 pm

পান্ডা ভালুকের মতো দেখতে সাদা-কালো প্রাণী। দুই প্রকারের পান্ডা আছে জায়ান্ট ও লাল পান্ডা। এরা পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব চীনের পাহাড়ি ঢালের বাঁশপূর্ন জঙ্গলে বাস করে। শ্বাপদকূলের অন্তর্গত হলেও এর খাদ্য কেবল বাঁশ পাতা।
বাঁশের কঞ্চি ধরার জন্য জায়ান্ট পান্ডার পাঁচটি সাধারণ আঙুল ছাড়াও হাতের তালু ও কব্জির সংযোগস্থলে একটি বুড়ো-আঙুলের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের) মত অংশ দেখা যায়। এটি আঙুল নয়। পান্ডার একার জন্য ভগবানের দানও নয়। বর্ধিত রেডিয়াল সিসাময়েড অস্থি মাত্র– যা জায়ান্ট পান্ডার নিকট আত্মীয় (উরসিডে পরিবার)– লাল পান্ডা ও ভালুকেরও খানিকটা বড়, তবে এতটা না।

এরা যে শ্বাপদ এবং বাঁশ পাতা খাওয়ার জন্য পুরোপুরি বিবর্তিত নয় তার অন্যতম প্রমাণ এদের খাদ্যনালী। তৃণভোজী প্রাণীদের খাদ্যনালী লম্বা হয় এবং পাকস্থলীর আগে অথবা বৃহদান্ত্রের সিকাম বা কোলনে আঁশ(fibre) গেঁজিয়ে পাচন সম্পূর্ণ করার ব্যবস্থা থাকে। পান্ডার এর কোনটাই নেই। আছে শুধু অন্যান্য শ্বাপদদের মত কেবল ছোট (নাতিদীর্ঘ) ক্ষুদ্রান্ত্র। তাই খুব বেশী পরিমাণ (বাঁশ পাতা) খেতে হয়। বেচারা বাঁশগাছ ছেড়ে নামার পর্যন্ত সময় পায়না।

 

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.