খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম

প্যাঁচা January 2, 2010

Filed under: পেঁচা(Owl) — rezowan @ 4:33 pm

প্যাঁচা, পেঁচা, বা পেচক এক প্রকার নিশাচর শিকারী পাখি। স্ট্রিজিফর্মেস বর্গভূক্ত এই পাখিটির এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০০টি প্রজাতি টিকে আছে। বেশীরভাগ প্যাঁচা ছোট ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণি যেমন ইঁদুর এবং কীটপতঙ্গ শিকার করে, তবে কিছু প্রজাতি মাছও ধরে। প্যাঁচা উপর থেকে ছোঁ মেরে শিকার ধরতে অভ্যস্ত। শিকার করা ও শিকার ধরে রাখতে এরা বাঁকানো ঠোঁট বা চঞ্চু এবং নখর ব্যবহার করে। কুমেরু, গ্রীণল্যান্ড এবং কিছু নিঃসঙ্গ দ্বীপ ছাড়া পৃথিবীর সব স্থানেই প্যাঁচা দেখা যায়। বাংলাদেশে ১৭টি প্রজাতির প্যাঁচা পাওয়া যায় যার মধ্যে ২৫টি স্থায়ী এবং ২টি পরিযায়ী আর সারা এশিয়াতে আছে ৯৩ প্রজাতি।
প্যাঁচা মূলত নিঃসঙ্গচর। এরা গাছের কোটর, পাহাড় বা পাথরের গর্ত বা পরনো দালানে থাকে। প্যাঁচার অদ্ভূত রকমের ডাক এবং নিশাচর স্বভাব একে নানা কুসংস্কার এবং অলৌকিক চিন্তার সাথে যুক্ত করেছে। কিন্তু মজার ব্যাপারটি হলো এমন ডাক কিন্তু দুটো পেঁচা মিলে ডাকে।
অধিকাংশই রাতের বেলা বের হয় শিকারের জন্য। আগে আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চলে প্রচুর হুতোম পেঁচা দেখা যেত। এখনও খুঁজলে দেখা ২ -১ টা পাওয়া যাবে। পেঁচাদের দৈহিক বৈশিষ্ট্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ওদের বড় বড় গোল দুটো চোখ। একদম যেন গাড়ির সাদা হেড লাইট। চোখদুটো পেঁচার এতোই বড় যে অক্ষিগোলকের মধ্যেও সেগুলো ঢোকেনা। মাথা ঘুরিয়ে এরা প্রায় পুরোপুরি পেছনের দিকে তাকাতে পারে। একারণেই এক জায়গায় চুপটি করে বসেই ওরা চারদিকে নজর রাখতে পারে। 

দিনের আলো এই বড় বড় চোখের পেঁচা সইতে পারে না, একারণই বেচারা পেঁচা রাতের পাখি খেতাব পেয়ে গেল। চাকতির মতো ওদের মুখমন্ডলের সুবিধা হলো এর ফলে খুব সূক্ষ্ম শব্দের প্রতিধ্বনিও হয় এদের কানে। পেঁচার শ্রবণ শক্তি কিন্তু দুর্দান্ত। অন্ধকারে খসখস নড়াচড়ার শব্দ শুনেই সে বুঝে ফেলতে করতে পারে শিকারের অবস্থান।

পেঁচা এক মারাত্মক শিকারী পাখি। বেশির ভাগ পেঁচারই লম্বা ও ধারালো নখর আছে। পাখা দুটো বেশি না দুলিয়েই এরা উড়তে পারে, এবং সে কারণেই শব্দ না করে খোলা বাতাসে পাক খেতে পারে অনায়াসে। একবার যখন তার শিকারকে খুঁজে পায় অমনি সে বাঁকানো নখড়ের থাবা নিয়ে নেমে আসে শিকার ধরতে। ওদের খাবারে তেমন কোন বাছবিচার নেই।
সংগ্রহ: উইকি পিডিয়া থেকে ও বিডি নিউজ24 থেকে।

 

লক্ষ্মী পেঁচা December 24, 2009

Filed under: পেঁচা(Owl) — rezowan @ 11:24 pm
হরতনের মতো অদ্ভুদ গোল চাকতি মুখ। তার মধ্যে বেশ বড় বড় দুটি চোখ। ঠোঁট লম্বাটে। নাকের ছিদ্র ডিম্বাকার। শরীরের উপরের পালক হলদেটে-লাল ও ধূসর, তার উপর সর্বত্র কালো-সাদা ছিট। ঘাড় ও ডানা হলদে-পাটকিলে। ঠোঁটের রঙ মাংসল সাদা। পা ও আঙুল মাংসল। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম। ওড়ার সময় শরীরের নিচের সাদা পালক দেখা যায়।
ছোট পাখি, ইঁদুর, টিকটিকি-গিরগিটি, চামচিকে, ব্যাঙ ইত্যাদি প্রধান খাদ্য। তবে সাপের মাংসতেও কোন অরুচি নেই। সবচেয়ে প্রিয় ইঁদুর, এই জন্য এই লক্ষ্মী পেঁচাকে চাষীরা বন্ধু ভাবে।সাধারণত রাতেই সে খাদ্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। তবে দিনের বেলাতেও তাকে শিকার করতে দেখা গেছে।
গাছের কোটরে বাসা বানায়। সন্ধ্যার পর থেকে চিৎকার চেঁচামেচিতে চারপাশ সন্ত্রস্ত করে তোলে। ক্ষেতের মধ্যে বসার উপযোগী ডাল, বাঁশ বসিয়ে দিলে একটা লক্ষ্মী পেঁচা এক রাতে বার তেরোটা ইঁদুরকে সাবাড় করতে পারে।
এর ইংরেজী প্রতিশব্দ Barn Owl আর বৈজ্ঞানিক নাম Tyto alba.
 

হুতুম পেঁচা December 24, 2009

Filed under: পেঁচা(Owl) — rezowan @ 11:18 pm
হুতোম পেঁচা খয়রা মেছপেঁচা, ধুপু দুতাং, কুদুম পেঁচা নামেও পরিচিত। এদের সারা শরীর খয়েরী পালকে ডাকা। রাতের বেলা শিকার ধরতে বেড় হয়, এরা প্রধানত ছোট ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণি যেমন ইঁদুর এবং কীটপতঙ্গ শিকার করে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Bubo blakistoni, ইংরেজী নাম Blakiston’s Fish-owl .
 

ভুতুম পেঁচা December 24, 2009

Filed under: পেঁচা(Owl) — rezowan @ 11:14 pm

এরা লম্বায় ৫৬ সে.মি., বড় কানওয়ালা লালচে-পাটকিলে পেঁচা। লম্বা লম্বা কালো টানে পিঠ ভর্তি, তলা সাদাটে-লালচে, তার উপর ঢেউ ছিট। ঘাড়ে ও গলায় সাদা ছোপ। চোখ উজ্জ্বল সোনালি-হলুদ, চঞ্চু মলিন ধূসর। পালকহীন পা ও আঙুল ধোঁয়াটে হলুদ। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম।
খাদ্য মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, ইঁদুর, পাখি ও সরীসৃপ। সাধারণত জোড়ায় থাকে। মেঘলা দিনেও ওদের উড়তে ও শিকার করতে দেখা যায়। সন্ধ্যের মুখে ‘বুম বুম’ ডাকে।
পুকুর-নদী-জলার ধারে বসে শিকার খোঁজে, কখনো বা এক চক্কর উড়ে এসে আবার বসে। পানি ঘেঁষে উড়ে যাওয়ার সময় তীক্ষ্ম নোখ দিয়ে পানির উপর ভেসে উঠে আসা মাছ ধরে। তবে কখনো শিকারি বাজ বা ঈগল পাখির মতো পানির উপর ঝাঁপিয়ে ধরে না।
প্রজননকাল নভেম্বর থেকে মার্চ। শীতেই বেশি ডিম পাড়ে। একটা বা দুটো সাদা গোলাকার ডিম। বাসা বাঁধে পুরনো বট বা আম গাছে দুই ডালের ফাঁকে। পুরনো দেব-দেউলে (মন্দিরে)। প্রতি বছর একই জায়গায় বাসা বাঁধে। ডিম ফুটে বাচ্চা হতে পাঁচ সপ্তাহ লাগে।
এর ইংরেজী নাম Brown Fish Owl (Bubo zeylnensis).

 

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.