খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম

কলা January 6, 2010

Filed under: কলা,ফল — rezowan @ 2:57 am

কলার আদিভূমি মালয়েশিয়া। ধারণা করা হয়, ৪ হাজার বছর আগে সেখানে কলাগাছ ছিল। পরবর্তীকালে কলার চাষ শুরু হয় ফিলিপাইন ও ভারতে। বিশ্বের সবার পছন্দের ফল কলা। বিভিন্ন দেশের মতো আমাদের দেশেও সারাবছর কলা জন্মে। আর দামের দিক থেকেও ফলটি অনেক সস্তা। কলা শরীরের প্রয়োজনীয় পটাশিয়ামের অন্যতম উৎস এবং খাদ্যমানের দিক থেকে অনেক সমৃদ্ধ। প্রতিটি কলা থেকে শক্তি পাওয়া যায় ৯০ কিলোক্যালোরি। এছাড়া প্রতিটি কলায় আছে কার্বোহাইড্রেট ২৩ গ্রাম, চিনি ১২ গ্রাম, ভিটামিন সি ১১ গ্রাম, আঁশ ৩ গ্রাম, পটাশিয়াম ৪৬৭.২৮ গ্রাম। এছাড়া আছে ভিটামিন বি সিক্স, ম্যাঙ্গানিজ, প্রোটিনসহ বিভিন্ন উপাদান। কলার খাদ্য উপাদান হাই বল্গাডপেসার রোধে সাহায্য করে এবং কমিয়ে দেয় যাবতীয় হৃদরোগের আশঙ্কা। এছাড়া আলসার এবং ডায়রিয়ার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়। হাড়ের গঠন, চোখের দৃষ্টি এবং কিডনি ঠিক রাখতে কলার খাদ্য উপাদান বিশেষ ভূমিকা পালন করে

জংলি কলায় বীজ থাকলেও চাষ করা কলায় বীজ নেই, কারণ এদের বিজোড় সংখ্যক (সাধারণতঃ তিন) জিনোম গুণিতক (ploidy=3) মায়োসিস বিভাজনে বাধা দেয়।কলা গাছের কাণ্ড থাকেনা, পাতার গোড়া অভিযোজিত হয়ে ছদ্মকাণ্ডে পরিনত হয়েছে যা কাণ্ডের কাজ করে ।

 

বিলিম্বি December 26, 2009

Filed under: ফল,বিলিম্বি — rezowan @ 5:32 am

বিলিম্বি ফলের সাথে বা এই নামের সাথে অনেকেই পরিচিতনয়।স্থানভেদে এ নামের ভিন্নতা আছে।যেমন- সিলেটে এটাকেবলা হয় ‘বেলেম্ব’এর গুণাগুণ ওউপকারিতা বহুমাত্রিক
বেলেম্বু গাছ দেখতে অনেকটা লেবুর গাছের মত।কামরাঙ্গা পরিবারেরএ গাছের পাতা, ফুল ও ফল দেখতে খুবই সুন্দর।গাছে নতুন পাতাগজালে সে পাতাকেও আবার ফুলের মত মনে হয়।গাছ প্রায় একই রকমতবে ফল আকারে লম্বা-২/৩ ইঞ্চি, রঙ সবুজ।দেখতে আঙুরের মত হলেও সুন্দর।এ ফলটি কাঁচাঅবস্থায় খুব টক হলেও রান্নার পর বা চাটনি কিংবা আচার তৈরি করার পর টক থাকেনা।পুষ্টিমানে আমিষ, শ্বেতসার, চর্বি, খনিজ, ভিটামিন, কারোটিন, ক্যালোরি সবইআছে।রক্তচাপ ও ডায়াবেটিকসের ঝুঁকি কমাবার প্রতিশ্র“তিও রয়েছেএতে।বীজথেকে এর বি¯-ার ঘটে।এপ্রিল থেকে নভেম্বরপর্যন্ত- এ গাছে প্রচুর ফল আসে।নিয়মিত পাতা ওডালপালা পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখলে সারা বছরই এ গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়।শীতকালে বিলিম্বিগাছের পাতা ঝরে পড়ে তবে বসšে-র আগমণে আবার নতুন কুঁড়ি ও পাতা গজাতে থাকে।একটি পূর্ণ গাছেবছরে প্রায় ৩০০ কেজি বিলিম্বির ফলন হয়।
বিলিম্বি দেশের বিভিন্ন জেলায় পাওয়া যায় তবেকুমিল¬া, চট্টগ্রাম অঞ্চলে এর ফলন বেশি।ইদানিং সিলেটঅঞ্চলেও এর প্রচুর ফলন হয়।বিলিম্বি ছোট মাছ, বড় মাছের মাথা বা মাছের ডিম দিয়ে রান্না করেখেলে স্বাদ অনেকগুণ বেড়ে যায়।ডাল বা মাংশতেও বিলিম্বি ব্যবহার করা যায়।একটি বিলিম্বি গাছবাড়িতে থাকলে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে সারা বছরই পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলি করাযায়।অপ্রচলিত এ ফলটি এখন বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়াযায়।বিক্রিও হয় বেশ চড়া দামে।পরিচিতি বৃদ্ধিরসঙ্গে সঙ্গে এর চাহিদাও বাড়ছে দিনে দিনে।
বীজ থেকে চারা উৎপাদনকরে তা রোপণ করলেই খুব স্বল্প সময়ে বড় হয়েথাকে।দো-আঁশ মাটিতে অবশ্য ভাল জন্মে।বছরের যেকোন সময়েবিলিম্বি চারা রোপণ করা যায় তবে বর্ষাকালেই রোপণ করা উত্তম।চারা রোপণের জন্য ১ী ১ ী ১ গর্ত করে কিছু পচা গোবর বা পচন সার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে রোপণ করাভাল।
বাণিজ্যিকভাবে বিলিম্বি চাষ করতে হলে ৫ থেকে ৬ মিটার দূরদূর চারা রোপণ করতে হবে।ফ্রেব্র“য়ারি মার্চ মাসে গাছের চারদিকে রিং করে একবার সার প্রয়োগকরলেই ফলন অনেক বেড়ে যায়।একটি পূর্ণ গাছের চারদিকে আধা মিটার দূর রিং করে ১০ কেজিপচা গোবর তার সঙ্গে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম এমপি ও ইউরিয়া এক সাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করতেহয়।ফলখুব সাবধানে সংগ্রহ করতে হয়, কারণ ডালপালা খুবই নরম হয়ে থাকে।এ গাছের রোগবালাই বাপোকা মাকড়ের আক্রমণের সম্ভবনা নেই বললেই চলে।
-আফতাব চৌধুরী, সিলেট

 

লিচু December 15, 2009

Filed under: ফল,লিচু — rezowan @ 4:25 pm

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলের উত্কৃষ্ট ফলসমূহের মধ্যে লিচু অন্যতম৷ চীনের দক্ষিণাঞ্চল বিশেষত কাওয়াং তুং ও ফুকিং প্রদেশ লিচুর উত্‌পত্তিস্থল৷ এখান থেকে ধীরে ধীরে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন সময়ে লিচুর বিস্তার ঘটে৷ বর্তমানে লিচু উত্‌পাদনকারী দেশসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানের দক্ষিণাংশ, ফরমোজা, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ব্রাজিল, বার্মা, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ভারত, বাংলাদেশ, প্রভৃতি৷ রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, পাবনা, চট্রগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ প্রভৃতি এলাকায় লিচুর চাষ বেশি হচ্ছে৷ বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয় এবং মোট উত্‌পাদন প্রায় ১৩ হাজার টন৷ হেক্টর প্রতি ফলন ২.৫-২.৭ টন৷ লিচু টিন টিনজাত করে সংরক্ষণ করা যায়৷দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষের প্রচুর সম্বাবনা রয়েছে এবং রপ্তানির সুযোগ রয়েছে৷

উদ্ভিদতত্ত্ব :

লিচু গাছ একটি চিরসবুজ, মজবুত, বহুবর্ষী, বহু শাখাযুক্ত, মাঝারি থেকে বড় আকারের বৃক্ষ৷
মূলতন্ত্র – প্রধান৷
বীজ থেকে উত্পাদিত গাছ ১২-১৫ মিটার লম্বা হয়৷
পাতা পক্ষল যৌগিক এবং প্রতিটি পাতায় ৫-৭ টি অনুপত্র থাকে৷
পুষ্পমঞ্জুরী – যৌগিক রেসিম৷
ফল রসালো ১-১.৫ ইঞ্চি ব্যাস (২.৫-৩.৫ সে.মি. চওড়া)বিশিষ্ট গোলাকার বা লম্বাকার৷ পাকা ফলের রঙ লালচে ৷

বীজের চারপাশে রসালো অর্ধস্বচ্ছ সাদাটে এরিল থাকে৷ এই এরিলই ভক্ষণযোগ্য অংশ৷
কলমের গাছে ৪/৫ বছরের মধ্যেই ফল ধরতে আরম্ভ করলেও ভাল ফলন পেতে ৭/৮ বছর লেগে যায়৷ প্রায় ২০-৩০ বছর পর্যন্ত ফলন ভাল পাওয়া যায়৷ বীজের গাছে ফুল আসা ৮/১০ বছর লাগে৷ ফেব্রুয়ারি মাসে লিচু গাছে ফল আসে এবং মে মাস থেকে ফল বাজারে পাওয়া যায়৷ এ সময় বোটার সঙ্গে কিছু পাতাসহ ছোট ডাল ভেঙে ফল সংগ্রহ করতে হয়৷ সাধারণত ২০/৩০ বছর বয়স পর্যন্ত লিচু গাছে ফলন বাড়তে থাকে৷ সাধারণত প্রতিটি গাছ থেকে বছরে ১৫০-২০০ কেজি বা ৪২০০-৭০০০ টি লিচু পাওয়া যায়৷ অবস্থাভেদে এর তারতম্যও লক্ষ করা যায়৷
গাছ থেকে লিচু সংগ্রহের পর লিচুকে সাধারণত ২-৩ দিনের বেশি ঘরে রাখা যায় না৷ কেননা, এতে লিচুর খোসা লাল ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে বাদামি বর্ণ ধারণ করে এবং বাজারমূল্য কমে যায়৷ তবে ২.২-২.৩০ সে. তাপমাত্রায় ৮০-৮৪% আর্দ্রতায় লিচুকে একমাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়৷

লিচু পাড়ার পর পরই যদি তাকে দ্রুত ঠাণ্ডা করা হয় এবং ২.৫০ সে. তাপমাত্রায় রাখা হয় তবে তা ১ মাস পর্যন্ত ভাল থাকে৷
এ ছাড়া লিচুকে রোদে খুব ভালভাবে শুকিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়৷
অনেক দেশে লিচুর মোরব্বা তৈরি করে চিনির রসে সামান্য সাইট্রিক এসিড দিয়ে শাসগুলি ডুবিয়ে টিনের কৌটায় আবদ্ধ করা হয়৷
তাজা ফল রেফ্রিজারেটরে ৫-৭ দিন রেখে খাওয়া যায়৷
এর ইংরেজী নাম lychee, laichi বা lichu। আর দ্বীপদ নাম Litchi chinensis
বাংলাদেশে নিম্নলিখিত জাতের লিচু পাওয়া যায়

চায়না ৩

বোম্বাই লিচু
মোজাফ্ফরপুরী লিচু
মঙ্গলবারী লিচু
বারি লিচু ১
বারি লিচু ২

বারি লিচু ৩
বেদানা লিচু
এলাচ লিচু

 

হিজল December 15, 2009

Filed under: ফল,ভেষজ,হিজল — rezowan @ 2:51 am

হিজল একটি বিষাক্ত উদ্ভীদ।

বৈজ্ঞানিক নামঃ Barringtonia acutangula

বিষাক্ত অংশঃ ফল
বিষক্রিয়ার ধরনঃ ফল মারাত্মক বমনকারক

 

পানিফল বা শিংড়া December 15, 2009

Filed under: পানিফল,ফল — rezowan @ 2:28 am
বাংলায় এটিকে বলে পানিফল বা শিংড়া। বৈজ্ঞানিক নামঃ Trapa natans এটি Trapaceae পরিবারের একটি উদ্ভিদ।
এটি একটি বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। এটি ৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। পানির নীচে মাটিতে এর শিকড় থাকে এবং পানির উপর পাতা গুলি ভাসতে থাকে। এটি বাংলা একটি পরিচিত গাছ। ফলগুলিতে শিং এর মতে কাটা থাকে বলে এর শিংড়া নামকরণ হয়েছে বলে মনে করা হয়। এই ফল গুলো ১২ বছর পর্যন্ত অংকুরোদগম সক্ষম থাকে। অবশ্য ২ বছরের মধ্যে অংকুরোদগম হয়ে যায়। ইতাহাস ঘাটলে দেখা যায় ৩০০০ বছরে পূর্বেও চীনে এর চাষ হতো।
 

ডুমুর November 25, 2009

Filed under: ডুমুর,ফল — rezowan @ 10:53 pm

 ডুমুরের ফুল আসলে অদৃশ্য থাকে অর্থাৎ ফুল থাকে ডুমুরের ভিতরে। বাইরে থেকে এটি দেখা যায় না। ডুমুর কাটলে ভিতরে দেখা মেলে প্রচুর ফুলের। নিচের ছবিটাতে দেখুন।

ডুমুর কাষ্ঠল বৃক্ষ। যত্রতত্র এটি জন্মাতে দেখা যায়।

২-৩ বছর বয়সী গাছেই ডুমুর দেখা যায়। পূর্ণবয়স্ক গাছে প্রচুর পরিমানে ডুমুর ধরে।

 আমাদের দেশে আরেকটি প্রজাতির ডুমুর আছে যেটি যজ্ঞ-ডুমুর নামে পরিচিত। এই ডুমুরগুলো পাকলে লাল হয়ে যায়। তখন দেখতে এটি অপূর্ব লাগে। আর এগুলো খাওয়ার জন্য রাতে বাদুড় ও চামচিকার দল ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে আসে।
দেশের অনেক অঞ্চলে ডুমুর একটি প্রিয় সব্জি হিসেবে খাওয়া হয়।

অন্যান্য ভাষায় এর নাম:
• English: Hairy Fig, devil fig, opposite-leaved fig-tree, rough-leaved fig
• Hindi: गोबला gobla, कगशा kagsha, काला उम्बर kala umbar, कटगूलरिया katgularia, फल्गु phalgu
• Marathi: बोकेडा bokeda, बोखाडा bokhada, बोखेडा bokheda, धेड उंबर dhed umbar, काळा उंबर kala umbar, करवती karavati
• Tamil: பேயத்தி peyatti
• Malayalam: എരുമനാക്ക് erumanaakk, കാട്ടത്തി kaattaththi, പാറകം paarakam
• Telugu: బొమ్మమేడి bomma-medi
• Kannada: kada atthi
• Konkani: खरवोटी kharvoti
• Gujarati: ધેડ ઉંબર dhed umbar
• Sanskrit: काकोदुम्बरिका kakodumbarika, मलयूः malayuhu, फल्गु phalgu, फणिका phanika
• Nepali: खोथया दुमरी kothaya-dumari
বৈজ্ঞানিক নাম: Ficus hispida
গোত্র: Moraceae

 

কাঁঠাল November 24, 2009

Filed under: কাঁঠাল,ফল — rezowan @ 5:31 pm

পৃথিবীতে যতগুলি ফল আছে তারমধ্যে সবচেয়ে বড় ফলও এটি। বাংলাদেশের জাতীয় ফল হলো কাঁঠাল। দেশের সব এলাকাতেই এই ফলের গাছ দেখা যায়। তবে গাজীপুর, ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, নওগাঁ, সাভার, মধুপুর, সিলেটে প্রচুর পরিমানে কাঁঠাল উৎপন্ন হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা সহ বেশ কয়েকটি দেশেও এই ফল দেখা যায়। এই ফলের কাঁচা অবস্থায় নাম এঁচোড়। এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ আকৃতির ফল।

একেকটা কাঁঠালের ব্যাস ২৫ সেন্টিমিটারের মত আর লম্বায় ৯০ সেন্টিমিটার হয়। ওজন ৩-৭ কেজি স্বাভাবিকভাবে হয়ে থাকে এর বেশি ও হতে দেখা যায়। সাধারণত: লাল মাটিতে ও উচু এলাকায় বেশি দেখা যায়। গাছের কাঠ হলুদ রংএর, উন্নত মানের দামি কাঠ বলে সমাদৃত। একেকটা কাঠাল আবার অনেকগুলো কোষ তার খাঁজকাটা দেহের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। হলুদ রঙের কোষগুলোর ভিতরে আবার একটা করে বীজও থাকে। একেকটা কাঁঠালে ৫০০ পর্যন্ত কোষ থাকতে পারে। এই কোষগুলো বেশ রসালো।

কাঁঠাল গাছ চিরসবুজ বৃক্ষ। উচ্চতায় ৯ থেকে ২৫ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। কাঁঠাল ও কাঁঠাল গাছের কোন অংশই ফেলনা নয়। প্রায় সব অংশই কাজে লাগে। এর কাঠ আসবাবপত্রের জন্য বেশ ভালো। আবার গাছের পাতা গবাদি পশুর প্রিয় খাদ্য। একটি কাঁঠাল পরিবারের সবার চাহিদা মেটাতে পারে। আবার ফলের উচ্ছিষ্ট অংশ গবাদি পশুর প্রিয় খাদ্য।

গাছের সব জায়গাতেই কাঁঠাল ধরতে পারে। একেবারে মাটির কাছে গোড়া থেকে শুরু করে অনেক উচুঁতেও ধরতে পারে। একটি গাছে গড়ে প্রায় ১৫০ টা পর্যন্ত কাঁঠাল ধরতে পারে। অসংখ্য হলুদ রং এর ছোট রসালো কোষ একত্রে মোথার চারদিকে ঘিরে থাকে। প্রতিটি কোষে বীজ থাকে ঐ বীজ থেকে গাছ হয়। মিষ্টি এবং বেশ পুষ্টিকর। নভেম্বর- ডিসেম্বর মাসে ফুল হয় এবং মে -জুন নাগাদ পাকে। কাচা অবস্থায় ও তরকারি হিসেবে খাওয়া যায়। এর প্রায় পুরো অংশই কাজে লাগে, ফল খাওয়ার পর এর উচ্ছিষ্ট অংশ গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহার হয। বীজ শুকিয়ে আলুর বিকল্প হিসেবে খাওয়া যায় সিদ্ধ করে, আবার বাদামের মত বালুতে ভেজেও খাওয়া যায় । এছাড়া এর বীজ প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিকারক বলে মনে করা হয়। সাধারণত একটা কাঁঠাল গাছ লাগানোর তিন বছরের মধ্যেই তাতে ফল ধরতে শুরু করে।
কাঁঠাল পাকলে এমনিতেই বেশ মিষ্টি। এর রসালো কোষগুলো থেকে মজাদার রসও হতে পারে। আবার অনেকে কাঁচা কাঁঠালও সব্জি হিসেবে খায়। এছাড়াও জ্যাম, জেলি, হালুয়া, পুডিং, চিপস, সালাদ প্রভৃতি মজাদার খাবারও বানানো যায়। এর যে বীজ আছে সেগুলোও ভেজে, ভর্তা করে খায় আমাদের দেশ সহ অনেক দেশেই ।

কাঁঠালকে ইংরেজিতে বলে jackfruit। কারণ একই ফলের মধ্যে অনেক ফল থাকে বলে এই নাম।পর্তুগিজ ভাষায় কাঁঠালকে বলে জাকা (jaca), যা মালয়লাম ভাষা চাক্কা (chakka) থেকে এসেছে।

আসামে কাঁঠাল থেকে এক ধরনের আচার তৈরি করা হয়।
ভারতের কেরালায় কাঁঠালের পুডিং তৈরি হয়। এছাড়া এক ধরনের চিপস তৈরি করে তারা কাঁঠাল থেকে।

ভিয়েতনামে গয় মিট নামের এক ধরনের সালাদ তৈরি করা হয় কাঁঠাল থেকে।
বাংলা ও হিন্দিভাষা কাঁঠাল বলা হলেও এই ফলের আরও অনেক নাম আছে। যেমন গুজরাটি ভাষায় পানাসি, নেপালিতে রুখ কুট-এ-হের, তামিল ভাষায় পালা, চীনাভাষায় বৌলমী বা পৌলমী, জাপানিতে পারামিটসু, কোরিয়ান ভাষায় বারামিল বলে।

 

ডেউয়া November 24, 2009

Filed under: ডেউয়া/মাদার,ফল — rezowan @ 4:50 pm

ডেউয়া ফুল গুলো অতি ক্ষুদ্র, হলুদাভ, একসাথে জড়িয়ে একটি গোলাকৃতির হয়।

ফল অনেকটা অনিয়মিত গোলাকৃতির, ২-৫ ইঞ্চি চ্ওড়া হয়, পাকলে হলুদ রঙ ধারন করে।

প্রতিটি ফলের মধ্যে ২০-৩০টি বীজ থাকে। বীজের গায়ের মাংসল অংশটাই খাওয়া হয়। প্রতিটি ফল ২০০-৩৫০ গ্রাম হতে পারে।

খেতে মিষ্টি জাতীয় চুকা বা টক-মিষ্টি। অনেকে কাঁচা ফল দিয়ে আচার বানায়।

ডেউয়া গাছ ১০-১৫ মিটার লম্বা হয়। দেখতে অনেকটা কাঁঠাল গাছের মত।

বাংলা নাম: ডেউয়া, মাদার গাছ
অন্যান্য ভাষায় এর নাম:
• English: Lakoocha, Monkey Jack
• Hindi: लकूचा Lakoocha, लकूच Lakooch, लकूची Lakoochi, badahara, बढ़ल Barhal, Dahu, Dahua
• Manipuri: হৰীকোকথোঙ Harikokthong
• Marathi: बढहर Badhar, Kshudraphanas, phala
• Tamil: ilagusam, irappala, solaippakku, tinippalavu
• Malayalam: chimpa, lakucham, pulinjakka
• Kannada: esuluhuli, lakucha, otehuli, vatehuli
• Bengali: মাদার গাছ, ḍēuẏā, ḍēō, Dephal, Dahu
• Oriya: Lakoocha
• Urdu: Theitat
• Assamese: Bohot
• Sanskrit: ऐरावत Airawata, Amlaka, Dahu, Dridhavalkala, Granthimatphala
• Nepali: बढहर Badhar
বৈজ্ঞানিক নাম: Artocarpus lakoocha
গোত্র: Moraceae

 

খেজুর November 24, 2009

Filed under: খেজুর,ফল,ভেষজ — rezowan @ 3:57 pm
আরব দেশের মেসোপটেমিয়াই খেজুরের আদি জন্মস্থান। উন্নত জাতের খেজুর বলতে শাঁস বেশী ও বীজ ছোট এমন খেজুরকে বোঝানো হয়। সে হিসাবে সৌদি আরব ও এর আশপাশের দেশগুলোতে যে খেজুর হয় তা উন্নত এবং বাংলাদেশে যে খেজুর হয় তা অনুন্নত জাতের। ইরাক, ইরান বা আরব দেশে যে উন্নত খেজুর উৎপন্ন হয় তার প্রজাতির নাম Phoenix dactylifera। এ গাছ লম্বায় ২৫ মিটার বা তার চেয়েও বেশি হয়ে থাকে। বাংলাদেশে যে খেজুরের চাষ হয় তার নাম Phoenix sylvestris। এ গাছের উচ্চতা ১০/১৫ মিটার হয়ে থাকে। বাংলাদেশের জাতটিকে বুনো জাত বলা হয়।
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি খেজুরের চাষ ইরাকে হলেও বর্তমানে ইরান, ভূমধ্যসাগরের উপকূলবর্তী আরব দেশগুলো, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ যেমন আলজেরিয়া, লিবিয়া, সুদান, তিউনিসিয়া, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য অষ্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান এসব দেশে খেজুর চাষ হয়।খেজুর পাতার কুটির মরুর দেশে বিখ্যাত।
পত্রবৃন্তে আবৃত খেজুরের কাণ্ডটি সরল,গোলাকৃতি ও ধূসর বর্ণের । মাথায় মুকুটের মতো ছড়ানো পাতাগুলো উর্ধ্বমুখী ও ছুরির ফলার মতো তীক্ষ্ণ। খেজুরের স্ত্রী ও পুরুষ ফুল ভিন্ন গাছে থাকে (ভিন্নবাসী)। পুং পুষ্পমঞ্জরী খাটো, ফুল সাদা কিন্তু স্ত্রী পুষ্পমঞ্জরী লম্বা ও ফুলের রং হালকা সবুজ। ফল অজস্র ও উজ্জ্বল। বাংলাদেশে খেজুরের কোনো উন্নত জাত নেই এবং উন্নত জাত বের করার ওপর কোনো কাজও হয়নি। খেজুরের প্রসিদ্ধ জাতগুলোর মধ্যে হাইয়ানী (মিসরের), সাইদী (লিবিয়ার), মেদঝল (মরক্কোর) এবং ভেগলেনটুর (তিউনিসিয়ার) উল্লেখযোগ্য।

খেজুরের পুরুষ ও স্ত্রী ফুল আলাদা আলাদা গাছে জন্মে। পুরুষ ফুলগুলো মোচার মত দেখতে, ঘিয়ে রঙ-এর, পরিপক্ক ফুলের মোচা ঝাকুনি দিলে ধুলার মত পুংরেণু বের হয়।

স্ত্রী ফুল দেখতে ভিন্ন রকম। একটা মজ্ঞরীতে অনেক স্ত্রী ফুল ফোটে, যা থেকে একটি কাঁদি তৈরী হয়।

খেজুর গাছের মাথা অসংখ্য কাঁটার সমন্বয়ে একটি ঝোপের মত কারণ খেজুর গাছের পাতার গোড়ার দিকের পত্রকগুলো কাঁটায় রূপান্তরিত। পাতা সাধারনত ৩ মিটার লম্বা হয় এবং সাধারনত নীচের দিকে বাঁকানো। খেজুর গাছ সারা বছরই একই রকম দেখায়।

পাকা ফল দেখতে পার্পেল-লাল রঙের, সুমিষ্ট, খাওয়া যায়। পাখিদের ও প্রিয় এটি। বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনেক গান ও কবিতায় খেজুরের উল্লেখ আছে। ছড়াকার সুকুমার রায় খেজুরের গুড় নিয়ে লিখেছেন ছড়া_ _

দাদা গো! দেখছি ভেবে অনেক দূর-
এই দুনিয়ার সকল ভাল,
আসল ভাল নকল ভাল,
সস্তা ভাল দামীও ভাল
তুমিও ভাল আমিও ভাল,
……………………….
……………………….
গিটকিরি গান শুনতে ভাল,
শিমুল তুলা ধুনতে ভাল,
ঠান্ডা জলে নাইতে ভাল,
কিন্তু সবার চাইতে ভাল,
পাউরুটি আর ঝোলা গুড়।

শীত কালে খেজুরের রস সবারই রসনা তৃপ্ত করে। আর খেজুর গাছের মাথার কচি অংশ তো দারুন লাগে খেতে। খেজুর গাছ ছয় সাত বছর বয়স থেকে রস দেওয়া শুরু করে। পঁচিশ থেকে ত্রিশ বছর পর্যন্ত রস দেয়। গাছ পুরনো হয়ে গেলে রস কমে যায়। পুরনো গাছের রস খুব মিষ্টি হয়। মাঝ বয়সী গাছ থেকে সবচেয়ে বেশি রস পাওয়া যায়। বেশি রস সংগ্রহ করা গাছের জন্য ক্ষতিকর। রস সংগ্রহের জন্য কার্তিক মাসে খেজুর গাছ কাটা শুরু হয়। কার্তিক মাস থেকেই রস পাওয়া যায়। রসের ধারা চলতে থাকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত। শীতের সঙ্গে রস ঝরার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। শীত যত বেশি পড়বে তত বেশি রস ঝরবে। রসের স্বাদও তত মিষ্টি হবে। অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ মাস হলো রসের ভর মৌসুম। একবার গাছ কাটার পর দুই তিন দিন রস পাওয়া যায়। প্রথম দিনের রসকে বলে জিরান কাট। জিরান কাট রস খুবই সুস্বাদু। প্রথম দিনের রস থেকে ভালো পাটালি গুড় তৈরি হয়। দ্বিতীয় দিনের রসকে বলে দোকাট। তৃতীয় দিনের রসকে বলে তেকাট। রসের জন্য গাছ একবার কাটার পর পাঁচ ছয় দিন পর আবার কাটা হয়। গাছের কাটা অংশ শুকানোর জন্য এসময় দেওয়া হয়। কাটা অংশ শুকানোর সুবিধার জন্যই সাধারণত পূর্ব ও পশ্চিম দিকে গাছ কাটা হয়। যাতে সূর্যের আলো সরাসরি কাটা অংশে পড়ে। রস পেতে হলে খেজুর গাছ বিশেষ কায়দায় কাটতে হয়। যারা গাছ কাটে তাদের বলা হয় গাছি। গাছিদের গাছ কাটার জন্য কয়েকটি উপকরণ দরকার হয়। যেমন-দা, দা রাখার জন্য একটি ঝাঁপি, দড়ি এবং এক টুকরো চামড়া বা পুরনো বস্তা। গাছি যে ঝাঁপি ব্যবহার করে তা বাঁশ দিয়ে তৈরি। গাছে উঠার সময় গাছি এই ঝাঁপিতে দা রাখে। কোমরে বেঁধে নেয় চামড়া বা বস্তা। গাছ কাটার সময় শরীরের ভারসাম্য রক্ষার জন্য গাছি কোমর বরাবর গাছের সঙ্গে দড়ি বেঁধে নেয়। দড়িটা বিশেষভাবে তৈরি করা হয়। এই দড়ির দুই মাথায় বিশেষ কায়দায় গিট দেওয়া থাকে। গাছে উঠার সময় গাছি অতি সহজে মুহূর্তের মধ্যে গিঁট দুটি জুড়ে দিয়ে নিজের জন্য গাছে উঠার নিরাপদ ব্যবস্থা করে নেয়।গাছ কাটার জন্য গাছের মাথার এক দিকের শাখা কেটে চেঁছে পরিষ্কার করা হয়। কাটা অংশের নিচের দিকে দুটি খাঁজ কাটা হয়। খাঁজ থেকে কয়েক ইঞ্চি নিচে একটি সরু পথ বের করা হয়। এই সরু পথের নিচে বাঁশের তৈরি নলী বসানো হয়। এই নলী বেয়ে হাড়িতে রস পড়ে। নলীর পাশে বাঁশের তৈরি খিল বসানো হয়। এই খিলে মাটির হাড়ি টাঙিয়ে রাখা হয়। এই হাড়িতে রস জমা হয়।গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য মাটির হাড়ি ব্যবহার করা হয়। এই হাড়িকে বলে ভাঁড়। কোথাও বলে ঠিলা। ভাঁড় দেখতে অনেকটা ছোট আকৃতির কলসের মতো। মাঝারি আকৃতির দশ থেকে পনেরো ভাঁড় রস জ্বাল দিলে এক ভাঁড় গুড় হয়। এই এক ভাঁড় গুড়ের ওজন হয় ছয় থেকে আট কেজির মতো।খেজুরের রস হতে তৈরি গুড়। মিষ্টি জাতীয় খাবার। বাংলাদেশে বেশ প্রসিদ্ধ। শীত কালে তৈরি হয় এবং সারা বছর ই পাওয়া যায়। প্রচুর খনিজ ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ।

গুড় তৈরির জন্য রস জ্বাল দেওয়া হয় মাটির জালায় বা টিনের তাপালে। খুব সকালে রস নামিয়ে এনেই জ্বালানো হয়। জ্বাল দিতে দিতে এক সময় রস ঘন হয়ে গুড় হয়ে যায়। এ গুড়ের কিছু অংশ তাপালের এক পাশে নিয়ে বিশেষভাবে তৈরি একটি খেজুর ডাল দিয়ে ঘষতে হয়। ঘষতে ঘষতে এই অংশটুকু শক্ত হয়ে যায়। এই শক্ত অংশকে বীজ বলে। বীজের সঙ্গে তাপালের বাকি গুড় মিশিয়ে দেওয়া হয়। স্বল্পক্ষণের মধ্যে গুড় জমাট বাঁধতে শুরু করে। তখন এই গুড় মাটির হাঁড়ি বা বিভিন্ন আকৃতির পাত্রে রাখা হয়। গুড় জমাট বেঁধে পাত্রের আকৃতি ধারণ করে।
এই খেজুর গুড় যারা বানায়, তাদের ঐতিহ্যগত পরিচয় তারা গুড়-শিল্পী বা শিউলি। এই শিউলিরা আদতে খেতমজুর। বর্ষার দিনে অধিকাংশ অঞ্চলে চাষাবাদের পর ভূমিহীন খেতমজুরদের কোনও কাজ থাকে না। অনাহার-অর্ধাহারে তাদের দিন কাটাতে হয়। সেই সময় শিউলিরা দাদন নেয় মহাজনের কাছ থেকে। বিনিময়ে মহাজনের নির্ধারিত দামে অনেক সময় তাদের কাছেই গুড় বিক্রি করতে বাধ্য হয়।

খেজুর গুড়

সারা বাংলাদেশেই খেজুর গাছ আছে। তবে বৃহত্তর খুলনা, ফরিদপুর, বরিশাল এবং যশোর জেলায় প্রচুর খেজুর গাছ জন্মে। এর মধ্যে যশোরের খেজুর রস আর খেজুর গুড়ই বিশেষভাবে খ্যাত। এক সময় যশোরের খেজুর থেকে চিনিও তৈরি হতো। যশোরের খেজুর গুড় থেকে এখনো স্বল্প পরিমাণে চিনি তৈরি হয়। কথায় বলে, যশোরের যশ খেজুরের রস।
একটি পূর্ণবয়স্ক তালগাছ হতে দৈনিক ১০ কেজি রস হিসেবে ফাল্গুন থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস মেয়াদে ১২০ দিনের মৌসুমে মোট আহরিত রস ১২০০ কেজি। ১০% চিনি হিসেবে প্রতি গাছ হতে চিনি পাওয়া যাবে ১২০ কেজি। ৫% হিসেবে প্রতি গাছ হতে ঝোলা গুড় পাওয়া যাবে ৬০ কেজি। একটি খেজুর গাছ হতে মাসে ৪০ কেজি রস হিসেবে অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন মাস মেয়াদে ১২০ দিনের মৌসুমে মোট আহরিত রস ১৬০ কেজি। ১০% চিনি হিসেবে প্রতি গাছ হতে চিনি পাওয়া যাবে ১৬ কেজি। ৫% হিসেবে প্রতি গাছ হতে ঝোলা গুড় পাওয়া যাবে ৮ কেজি। এ হিসেব বেশি মনে হলে ধরে নেয়া যাক প্রতি খেজুর বা তাল গাছ হতে বছরে এক মৌসুমে গড়ে ৪০ কেজি গুড়/চিনি উৎপাদন করা যাবে। এতে ১২ লাখ টন গুড় ও চিনি উৎপাদন করতে মোট গাছ প্রয়োজন হবে প্রায় তিন কোটি।
খেজুর গাছ শুধু রস দিয়েই ক্ষান্ত হয় না। খেজুর পাতা দিয়ে পাটি তৈরি হয়। খেজুর পাতা দিয়ে এক ধরনের সাহেবী টুপিও তৈরি হয়। খেজুর পাতা, ডাল এবং গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গ্রামে মোরুব্বা তৈরিতেও খেজুর কাটার ব্যবহার আছে।
ভেষজ গুন: শুকনো খেজুর থেকে বীজটা বার করে নিয়ে দুধে ভাল করে ফোটান৷ খেজুর দুধের মধ্যে মিশে যাওয়ার পর ঐ দুধটা ঠান্ডা করে শিশুদের খাওয়ান৷ এতে শিশুদের শক্তি বাড়বে৷
ফলের পুষ্টিমান:

একটি শুকনো খেজুরে প্রায় ৭৫-৮০% শর্করা, ২% আমিষ এবং প্রায় ২.৫% স্নেহজাতীয় পদার্থ থাকে। ১০০ গ্রাম শাঁসে ২০ ভাগ পানি, ৬০-৬৫ ভাগ শর্করা, ২ ভাগ আমিষ এবং খুব সামান্য কপার, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার, ভিটামিন এ, বি-১, বি-২ ও খনিজ লবণ থাকে।
  অন্যান্য ভাষায় খেজুর এর নাম:
• English: Wild Date Palm, date-sugar palm, Indian wild date, Indian winepalm, silver date palm, sugar date palm, sugar palm
• Hindi: खजूर khajur, सेंधी sendhi
• Manipuri: থাঙতুপ thangtup
• Marathi: खारीक kharik, खर्जूर kharjur, खर्जूरी kharjuri, शिंद shinda, शिंदी shindi
• Tamil: ஈந்துபனை inthupaanai, காட்டீஞ்சு kattinchu, இசம் Icham
• Malayalam: കാടിനൊത്ത kaattiintha, കാട്ടീന്തല്‍ kaattiinthal, നീലന്തെണ്ട് niilanthent • Telugu: ఈత ita • Kannada: ಈಚಲು ichalu, ಖರ್ಜೂರ kharjura
• Bengali: খর্জূর kharjura, খেজুর khejura, khejur
• Oriya: khorjurri • Konkani: खाज्जूर khajjur
• Urdu: کهجور khajur
• Assamese: খাজুৰি khaajuri
• Gujarati: ખજૂરી khajuri
• Sanskrit: खर्जूरः kharjurh, खर्जूरी kharjuri, नेपाली nepali
• Nepali: kandela, taadii
বৈজ্ঞানিক নাম: Phoenix sylvestris
গোত্র: Arecaceae
۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞۞
খেজুর গুড়ের ভাপাপিঠা
উপকরণ :
সেদ্ধ ও আতপ চালের গুঁড়া ২৫০+২৫০=৫০০ গ্রাম, খেজুর গুড় ১ কাপ (আধা ভাঙা) নারকেল কুড়ানো বড় ১ কাপ, লবণ আধা চা চামচ, পানি সামান্য। পিঠার জন্য ছোট ২টি বাটি, ২ টুকরো পাতলা কাপড়।
প্রণালী :
চালের গুঁড়া, লবণ ও পানি একসঙ্গে মেশাতে হবে। বাঁশের চালুনিতে করে চেলে নিতে হবে। এবার বাটিতে অল্প চালের গুঁড়া দিয়ে তার মাঝখানে গর্ত করে গুড় ও নারকেল দিয়ে ওপরে চালের গুঁড়া দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এবার পাতলা কাপড় ভিজিয়ে পিঠা ঢেকে দিয়ে বাটির নিচ পর্যন্ত কাপড় ধরে বাটিটি উল্টে দিয়ে ফুটন্ত পানির ওপর ছিদ্র করা ঢাকনার ওপর বসিয়ে বাটিটি উঠিয়ে পিঠার কাপড় দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। পাঁচ-ছয় মিনিট পর পিঠা উঠিয়ে পরিবেশন করুন।

 

বেল November 24, 2009

Filed under: ফল,বেল,ভেষজ — rezowan @ 3:41 pm
বেল ফুল সবুজাভ সাদা, সুগন্ধযুক্ত, পাতার কক্ষ থেকে সৃষ্টি হয়।

বেলের বহিরাবরন খুব শক্ত, মসৃন ও গোলাকার। বেল পাকলে চমৎকার একটি সুগন্ধ বের হয়।

বেলের শরবত বেশ সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও ক্লান্তিরোধক।

বেল পাতা ত্রিফলক যুগ্মপত্র। হিন্দুদের শিবপূজায় ত্রিনয়নের প্রতীক হিসাবে বিল্বপত্র ব্যবহার হয়।

জাতিবেল

বেলের মূল তিতা, জ্বরের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় । এটি অবশ্য ডায়রিয়া, ডিসপেপসিয়া, বমি ও ফোলা রোধে ব্যবহৃত হয় । এর পাতা জ্বর সহ কাশি, ডায়াবেটিস, অ্যাজমার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এর ফল মস্তিষ্ক ও হার্টের জন্য উপকারী।
পাতা খেলে গর্ভপাত বা বন্ধ্যাত্ব হতে পারে বলে মনে করা হয়। গাছের ছাল Celebes দেশে মাছ মারা বিষ হিসাবে ব্যবহার হয়।
ফলের খাদ্যগুণ:

100 g বেলের শাঁসে থাকে:
জল 54.96-61.5 g, প্রোটিন 1.8-2.62 g, স্নেহপদার্থ 0.2-0.39 g, শর্করা 28.11-31.8 g, Carotene 55 mg, Thiamine 0.13, Riboflavin 1.19 mg, Niacin 1.1 mg, Ascorbic Acid 8-60 mg, Tartaric Acid 2.11 mg
পাতা ও ফলের খোসা থেকে সুগন্ধী তেল উদ্বায়ন করা হয়। যেমন_•d-limonene, •alpha-d-phellandrene, •cineol, •citronellal, •citral; •p-cyrnene, •cumin aldehyde

বাংলা নাম: বেল
অন্যান্য ভাষায় এর নাম:
 • English: Indian quince, golden apple, holy fruit, bel (bael), bela, sirphal, maredoo, Bel, Beli fruit, Bengal quince, Stone apple, Wood apple
• Hindi: बेल Bel
• Manipuri: হৈৰীখগোক Heirikhagok
• Marathi: Maredu
• Tamil: Vilvam
• Malayalam: Vilvam, bilak, maja pahit
• Telugu: Sandiliyamu
• Kannada: Bilvapatre
• Bengali: বেল Bel
• Konkani: Bello
• Urdu: Bel
• Assamese: বেল Bel
• Gujarati: Bili
• Sanskrit: Adhararuha, Sivadrumah, Tripatra
ভিয়েতনামি: bau nau
থাই: matum, mapin
কাম্বোজ: phneou or pnoi
যব (জাভা): modjo
ফ্রেঞ্চ: oranger du Malabar
পোর্তুগীজ: marmelos
বৈজ্ঞানিক নাম: Aegle marmelos Correa (syn. Feronia pellucida Roth, Crataeva marmelos L)
গোত্র: Rutaceae
বেল গাছ ১৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। গাছে কাঁটা ও সুগন্ধী ফুল বেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বেলের পাতা তিন পত্রকযুক্ত।

 

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.