মণিরাজ April 21, 2010
আর্টিলারি April 19, 2010
সবচেয়ে ছোট ফুলের গাছ আর্টিলারি। এই উদ্ভিদের ফুল এত ছোট যে হাতে প্রায় ধরাই যায় না। এর আকার ১ মিলিমিটারের তিন ভাগের এক ভাগ।
ফণিমনসা April 1, 2010
ফণিমনসা মূলত উষ্ণ অঞ্চলের উদ্ভিদ- যা ক্যাকটাস নামে বেশি পরিচিত। সব প্রজাতির ক্যাকটাসে ফুল হয় না।বিশেষ প্রজাতির ক্যাকটাস গাছে বছরে মাত্র দু’বার দৃষ্টিনন্দন ফুল ফোটে।
মাধবী March 5, 2010
সুন্দরীতমা চিরযুবতী মাধবীর রূপ-গুণ-সৌরভ কিছুরই অভাব নেই। কোনো মোক্ষম বিশেষণই তার উপযুক্ত নয়। কোনো একটি নামেই তার রূপ-গুণ সম্পূর্ণ প্রকাশ পায় না। কত কত তার নাম! বাসন্তী, পুণ্ড্রক, মণ্ডক, অতিমুক্ত, বিমুক্ত, কামুক ও ভ্রমরোৎসব_এসব তার মনের ভাব প্রকাশক নাম। বাসন্তী বা হলদে রঙে রঞ্জিত বলে সে বাসন্তী, আবার বসন্তকালে ফোটে সেই ভাবপ্রকাশক।
পুণ্ড্রদেশে জন্ম বলে পুণ্ড্রক। সম্পূর্ণ বিকশিত হয় বলে অতিমুক্ত। বন্ধনহীন বা নানা রোগের বন্ধন মোচন করে বলে বিমুক্ত। কামনাশীল, ইচ্ছু, দয়িত, প্রিয় বলে সে কামুক। তার ফুল ফুটলে দলে দলে ভ্রমরেরা মধু সংগ্রহে আসে বলে ভ্রমরোৎসব নাম। আবার সমার্থবাচক নাম হলো_চন্দ্রবল্লী (চন্দ্রলতা), সুগন্ধা, ভৃঙ্গপ্রিয়া (ভ্রমরপ্রিয়া), ভ্রমরোৎসব, ভদ্রলতা। আবার কামী, কার্মুক (ধনুক), অতিমুক্ত, অবিমুক্ত (অপরিত্যক্ত), সুবসন্ত, মণ্ডন, পরাশ্রয়_এসবও মাধবীর নাম। কামী নাম কেন হলো? কাকে সে কামনা করে, কার প্রতি কামনাশীল? কার জন্য কামুকী? মাধবী মদকারক সুগন্ধবিশিষ্ট বলে এই নাম? আবার মাধবী পিত্ত, কাস, ব্রণ, দাহ ও তৃষ্ণা নিবারক। মধুর, শীতবীর্য, লঘু এবং ত্রিদোষ নাশক। ত্রিদোষ অর্থ বাত, পিত্ত ও কফ নাশ করে। ওষধি গুণের জন্যও সে সবার কামী বা কাম্য।
মজার ব্যাপার হলো পুণ্ড্রক নামটি। এটি তার জন্মস্থান বা বাসস্থানের বর্ণনাদ্যোতক। পুণ্ড্র বা ময়মনসিংহ অঞ্চলে এক সময় মাধবীর প্রাচুর্য ছিল। এখন সেখানে দুর্লভ হয়ে গেছে। মাধবীকে অবহেলার পরিণাম। মাধবীদের অবহেলা করলে সে চলে যাবেই। ওই তারারা তাকে আকাশে বরণ করে নেবে। পূর্ণিমার চাঁদ বলবে, ও দেশে তুমি থেক না। দখিনা বাতাস যাওয়ার সময় তাকে সঙ্গে নিয়ে যাবে। দখিনা হাওয়ার নামই তো মলয় সমীরণ। তেমনি পারুল ফুলও এখন নেই।
বসন্ত ঋতু পর্যায়ের আর একটি গানে রবি ঠাকুর গেয়েছেন, ‘হে মাধবী, দ্বিধা কেন, আসিবে কি ফিরিবে কি_’। এই গানে আরো আছে, ‘বাতাসে লুকায়ে থেকে কে যে তোরে গেছে ডেকে,/পাতায় পাতায় তোরে পত্র সে যে গেছে লেখি\’ বসন্তের মাধবীকে নিয়ে গাওয়া গানের বাণী লিখে কি অর্থ বোঝানো যায়! তাকে ভালোবাসতে হলে চাই গানের আসর। এ জন্যই বোধকরি বসন্তোত্সব। রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে বসন্তোৎসব প্রবর্তন করে গেছেন। ক্ষণিকের কাম্য অতিথির জন্যও চাই উপাচার, উপকরণ ও উপহার। বসন্তের জন্যও, বাসন্তীর জন্যও, মাধবীর জন্যও। মালতি, পারুল, জুঁই, জাতি, মলি্লকা, নবমলি্লকা, শারদ মলি্লকার জন্যও চাই উৎসব-উপহার। আর মনের বনে হলেও এদের জন্য উৎসব প্রয়োজন।
ঢাকায় এখন মাধবীকে পাবেন বলধা গার্ডেন, রমনা পার্ক, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ও ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহারে। ছবিটি ধর্মরাজিকের ঝোপালো গাছ থেকে তোলা। শিশু একাডেমী ও ধর্মরাজিকে আমি উদ্যোগ নিয়ে রুয়েছি। গত দুই বছর ধরে ধর্মরাজিকের গাছটিকে আমি ইচ্ছে করে ডালপালা ছেঁটে দেইনি। তাতে গাছটি বড় ও ঘন ঝোপালো হয়ে গেছে তার খেয়াল-খুশি মতো। তাতেই থরে থরে ফুল ফুটেছে, হয়ে উঠেছে দুর্দান্ত উসকানিমূলক যৌবনবতী সুন্দরী। ফুলের সোমত্ত গুরুভারে তার বক্ষ বিদীর্ণ হওয়ার সুগন্ধ সৌন্দর্যে ভরপুর। ডাল না ছাঁটলে তাকে বশে রাখাই দুরূহ মুশকিল। অমনি ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে উদ্যত, বারণ করেও ধরে রাখা মুশকিল।
তার লতা লকলক করে বেড়েই চলে। সরল লম্বা লম্বা ডালের পর্বের মাথায় পাতা ও ফুল ফোটে। ফুল আসার আগে এলোচুলে বড্ড বেমানান মনে হতে পারে, কিন্তু বসন্তে দেখবেন তাতে ফুলের যৌবনধন্য জৌলুস। কোমল রোমশ পাপড়ির স্পর্শে পার্থিব ও অপার্থিব সুখ অনুভবযোগ্য। তবে আপনি যদি মাধবীর দেখা ও স্পর্শের দুর্লভ সুযোগ পেয়ে যান। পাবেন না, কারণ মাধবীরা দুর্লভ। মাধবীরা হারিয়ে যাচ্ছে অনাদরে, অবহেলায়। এখন শৌখিন ও সৌন্দর্যপিপাসু ছাড়া মাধবীদের কেউ মনে করে না। মাধবী তাই যাকে ধরা দেয় শুধু তাকেই আকুল করা সুখ-সম্ভোগ দিতে রাজি হয়।
মাধবীকে নিয়ে রাধার বিরহ বেদনা ও পূর্ব রাগের চিত্র দিয়ে এই লেখা শেষ করলে আমাকে দোষ দেবেন না যেন,
এই তো মাধবী তলে/আমার লাগিয়া পিয়া
যোগী যেন সদাই ধেয়ায়।
পিয়া বিনে হিইয়া-কোণ/ফাটিয়া না পড়ে গো
নিলাজ পরাণ নাহি যায়।
সখি হে! বড় দুঃখ রহল মরমে
আমারে ছাড়িয়া পিয়া/মথুরা রহল গিয়া
মাধবী রহিছে আজও ভরমে।
আর মাধবী কুঞ্জে প্রিয়তম কৃষ্ণকে দেখে চন্দ্রাবলী কী বলেছিলেন শুনুন, ‘ওরে সখি পদ্ম! স্বপ্নে দেখলাম মোষের গায়ের রঙের একটি নদী, তার তীরে মাধবীলতার কুঞ্জ, ফুলে ফুলে ভরা, তাই ভ্রমরের দল চারদিক মুখরিত করছে গুণ গুণ স্বরে। তারপর দেখি, ওই কুঞ্জের ভিতর বসে আছে কালোয় কালো মিশে যাওয়া এক স্বরূপ। পরণে তার হলুদ রঙের অপূর্ব বস্ত্র। অনেকক্ষণ চেয়ে চেয়ে দেখছি, সেও বোধহয় আমার দিকে চেয়ে আমারই মতো স্তব্ধ হয়ে রয়েছে।’
মাধবীর দুধ-সাদা পেলব পাপড়িতে আছে হলুদ রঙের জ্বলন্ত বসন্ত-উদ্ভাস। ওকে আপন চোখে ঘন সবুজ পাতার পটভূমিতে না দেখতে পেলে বৃথাই হবে এই বাগাড়ম্বর।
আর, অতি জরুরি বিষয়টি হলো মধুমালতীকে (কুইসকুয়ালিস ইন্ডিকা লিন, ফ্যামিলি কমব্রেটাসে) মাধবী (বৈজ্ঞানিক নাম হিপটাজে বেঙ্গলেনসিস, ফ্যামিলি মেলপিখিয়াসে) বলে অনেকে ভুল করেন। এখানে মাধবীর কথাই বলা হলো। মধুমালতী বা মধুমঞ্জরীর নয়।
নেওয়া হয়েছেঃ কালের কন্ঠ থেকে
চামেলি March 2, 2010
চামেলি ফুলকে হিমালয়কন্যা বলে অভিহিত করেছেন। চামেলি হিন্দি নাম। ফুলের সেই হিন্দি নামটিই আমাদের দেশে প্রচলিত ও জনপ্রিয়। তবে বাংলায় কেউ কেউ জাঁতি বলে ডাকে। ইংরেজি নাম জেসমিন। মারমা সম্প্রদায় বলেন বিলাই লোকচারী। চামেলি ফুলটি স্প্যানিশ জেসমিন নামেও পরিচিত। অনেকটা লতানো ধরনের এবং ক্ষুদ্র ও সরু আকৃতির পাতাসংবলিত গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। উচ্চতা দুই থেকে চার মিটার। গাঢ় সবুজ পাতার ছোট ও সুদৃশ্য চামেলির গাছ দেখলেও অভিভূত হতে হয়।
দুধ-সাদা রঙের চামেলি ফুল একেকটি আলাদা করে ফুটে সারা গাছ ছেয়ে যায়। এর স্নিগ্ধ গন্ধ ফুল শুকিয়ে গেলেও পাওয়া যায়। ফুলের চমৎকার সৌরভের জন্যই এর আদর বেশি। পুজোয় ব্যবহারের জন্য এর কদর রয়েছে। এ ছাড়া চামেলির পাতা আয়ুর্বেদিক হারবাল ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। প্রসাধন সামগ্রীতেও এ ফুলের ব্যবহার রয়েছে। সুগন্ধিশিল্পে চামেলি ফুলের চাহিদা পৃথিবীজুড়ে।
চামেলি Oleaceae পরিবারের সদস্য। চামেলির বৈজ্ঞানিক নাম Jasminum Grandiflorum. পাকিস্তানে যাকে বলা হয় ফ্লোরা অব পাকিস্তান। কমপক্ষে ৩০০ প্রজাতির এই চিরহরিৎ বৃক্ষের আদিবাড়ি এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ।
গোলাপ January 27, 2010
গোলাপ এক প্রকারের গুল্ম জাতীয় Rosaceae পরিবারের Rosa গোত্রের কাঁটা যুক্ত কান্ড বিশিষ্ট গাছের ফুল।এর পাতার কিনারাতেও ক্ষুদ্র কাঁটা রয়েছে। গোলাপের আদি নিবাস এশিয়া মহাদেশে। অল্প কিছু প্রজাতির আদি বাস ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ও উত্তরপশ্চিম আফ্রিকা মহাদেশে।
ফুলের রানী গোলাপের সৌন্দর্য ও সুবাসের জন্য চাহিদা রয়েছে সারা বিশ্বজুড়ে| ফুলের জগতে বর্ণ-গন্ধ আভিজাত্যে এর সমাদরই সব চেয়ে বেশী|রোম সম্রাট নিরো আর মিসরের সুন্দরী ক্লিওপেট্রারও প্রিয় ছিল গোলাপ। নিরো তাঁর প্রাসাদের এমন কোনো জায়গা ছিল না যেখানে গোলাপগাছকে ঠাঁই দেননি। ঘরের মেঝেতে গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে রাখতেন সারাক্ষণ, গোলাপের সুরভি নেওয়ার জন্য। অতিথি মার্ক অ্যান্টনির আগমনে মিসরের রানি ক্লিওপেট্রা তাঁকে তাঁর হাঁটু পর্যন্ত গোলাপ বিছিয়ে দিয়ে অভিবাদন জানিয়েছিলেন। সেসব আজ অলীক কল্পনার মতোই।
গোলাপের আছে অসংখ্য জাত। প্রায় ১০০ প্রজাতির বিভিন্ন বর্ণের গোলাপ ফুল রয়েছে। এর কোনোটা বুনো, ছোট ছোট প্রচুর ফুল ফোটে। কোনোটার ফুল অনেক বড়। এগুলো হাইব্রিড ‘ট্রি’ শ্রেণীর। কোনোটার গাছ লতানো, কোনোটার ঝোপালো। শীতে ফোটার জন্য আশপাশের নার্সারিতে গোলাপি(গ্ল্যাডিয়েটর), গাঢ় গোলাপি(ফাস্টরেড), লাল(খৃশ্চান ডিয়ার), মেরুন(মন্টেজুমা), খয়েরি, ঘিয়া, হলুদ, সাদা, দুইরঙা, মিশ্রবর্ণা অনেক রকমের গোলাপ পাবেন। যেহেতু গোলাপ ফোটে শীতকালে তাই তীব্র শীতে অনেক সময় এদের বর্ণ খয়েরী বা কালো হয়ে যায়।
কলম গোলাপ টবেই লাগানো যায়।টবের জন্য ছোট গাছবিশিষ্ট মিনিয়েচার শ্রেণীর গোলাপই ভালো। এতে চাষ ও যত্ন করতে সুবিধা হয়, প্রদর্শনীতেও নেওয়া যায় সহজে। এসব শ্রেণীর গোলাপ কলম লাগানোর জন্য বড় টবের দরকার নেই, আট থেকে ১০ ইঞ্চি মুখের টব হলেই চলবে। কিন্তু হাইব্রিড টি এবং ফ্লোরিবানদা শ্রেণীর গোলাপের জন্য চাই বড় মুখের টব, যার মুখের ব্যাস ১২ ইঞ্চি বা তার বেশি। মাটির টবই ভালো।
গোলাপের জন্য সার-মাটি অন্য ফুলের মতো নয়, একটু আলাদা। মাটি তৈরির আগে সার জোগাড় করতে হবে। পচা গোবর বা প্যাকেটজাত জৈব সার, কাঠের ছাই, পাতা পচা সার বা পচা আবর্জনা সার অথবা ফেলে দেওয়া চায়ের পাতি টবের মাটিতে মেশানো যেতে পারে। খৈল দেওয়া যায়, তবে খৈল দিলে পিপড়ার উপদ্রব হতে পারে, ওরা শিকড় নষ্ট করে দেয়। তিনভাগ দো-আঁশ মাটির সঙ্গে একভাগ জৈব সার ও একভাগ কাঠের ছাই মিশিয়ে টবের জন্য সার-মাটি তৈরি করতে পারেন। টবে কোনো রাসায়নিক সার দেওয়ার দরকার নেই। জমির গর্তে লাগানোর অন্তত ১০ দিন আগে জৈব সারের সঙ্গে দুই-তিন চাচামচ করে টিএসপি ও এমপি সার মিশিয়ে দিতে পারেন।
টবের ঠিক মাঝখানে গোলাপের কলম লাগিয়ে হালকা সেচ দেবেন। লাগানোর পর টবসমেত গাছটিকে দিনকয়েক ছায়ায় রাখতে হবে। এ সময় কিছু পাতা ঝরিয়ে দিতে পারেন। এতে কলম দ্রুত বেঁচে উঠবে। নতুন পাতা ছেড়ে গাছ বাড়তে শুরু করলে রোদে বের করে দিতে পারেন। শীত শেষে যখন গাছে নতুন ডালপালা গজানো শুরু করবে, সে সময় অল্প করে ইউরিয়া সার (এক চিমটি সার প্রতি লিটার পানিতে গুলে) গাছের গোড়ায় দিতে পারেন। এতে গাছ দেখতে ভালো হবে, বাড়বে ভালো। তবে সার বেশি হলে ক্ষতি হবে। আজকাল বাজারে বিভিন্ন রকমের ট্যাবলেট সার পাওয়া যাচ্ছে। দুটি সার বড়ি কিনে গাছের গোড়ার মাটিতে দুই ইঞ্চি গভীরে পুঁতে দিতে পারেন। এটা দিলে এক বছরের মধ্যে আর কোনো সার দিতে হবে না। মাঝেমধ্যে অল্প করে চায়ের পচা পাতি টবের ওপরের মাটি হালকা করে নিড়িয়ে তার সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারেন। টবের মাটি যাতে একবারে শুকিয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। নিয়মিত সেচ দেবেন। বেয়াড়া ডালপালা অবশ্যই ছেঁটে দেবেন। জুন আর সেপ্টেম্বরে গোলাপগাছ ছাঁটতে পারেন। না হলে ভালো ফুল ফুটবে না। দুই-তিন বছর পর টবের মাটি পুরো বদলে দেবেন। পুরোনো মাটি রাখলে তাতে ফুল ভালো হবে না। তবে আমার পরামর্শ হলো—একঘেয়েমি কাটাতে শুধু মাটি বদল নয়, নতুন জাতের অন্য গোলাপের কলম এনে লাগাতে পারেন। ঠান্ডা কমে এলে ফেব্রুয়ারি থেকেই গোলাপ বাগানের কাজ শুরু করতে পারেন। তবে বর্ষাকালের আগে লাগানো ভালো। ওই সব গাছে আগামী শীতজুড়ে প্রচুর ফুল ফুটবে।
গোলাপের খোঁজ
কৃষিবিদ উপকরণ নার্সারি, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট চত্ব্বর, ফার্মগেট, ঢাকা। ফোন: ০১৮৯১৯৪৩০৩।
ভোসড নার্সারি, গ্রিনফিঙ্গার নার্সারি, এগ্রিটেক, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট চত্বর, ফার্মগেট, ঢাকা।
ডালিয়া নার্সারি, কেডিএ আউটার বাইপাস রোড, সোনাডাঙ্গা, খুলনা। ফোন: ০১৭১৪০৫৭৭৮৩
রাঙাবন নার্সারি, সাভার বাসস্ট্যান্ড, সাভার, ঢাকা।
ক্যামেলিয়া January 22, 2010
ক্যামেলিয়াকে ‘শীতের গোলাপ’ বলা হয়। ওর ডাকনাম ‘বুরবন ক্যামেলিয়া’। গোলাম, কার্নেশন, চন্দ্রমলি্লকা, আজেলিয়ার পাশে ক্যামেলিয়ার গর্বিত আসন নির্দিষ্ট আছে। শীতে ফুল ফোটে তবে বর্ষার বৃস্টি তার প্রিয়, কিন্তু গাছের গোড়ায় বৃষ্টির পানি জমা চলবে না। চা গাছের মতো এর পরিচর্যা চাই। আবাদিত ক্যামেলিয়ার মধ্যে ‘এলিগানস’ হলো বড় টকটকে লাল, তাতে মাঝে মাঝে সাদা ডোরা দাগও থাকে। ‘গুলিও নুসিও’ হলো লাল থেকে পিংক পাপড়ির এবং পুংকেশর হলদে। ‘মাথোটিনা আলবা’ হলো ধ্রুপদী সাদা ফুল। ‘দ্য সিজার’ হলো হালকা ক্রিমসন সেমি-ডাবল পাপড়ির ফুল। এরা ক্যামেলিয়া-জগতের রূপসী তারকা। তবে সবচেয়ে মূল্যবান বা গৌরবময়ী বলা হয় ‘আলবা প্লিনা’ ক্যামেলিয়াকে, তার সৌন্দর্যখ্যাতি বিশ্বজুড়ে। কমনীয় সৌন্দর্য তার ভূষণ।
ক্যামেলিয়া নামটি এসেছে জেস্যুইট পাদ্রি ও উদ্ভিদবিদ জর্জ ক্যামেল থেকে। উদ্ভিদবিদ কার্ল লিনেয়াস একে তাই ‘ক্যামেলিয়া জাপোনিকা’ নামে অভিহিত করেন। জাপোনিকা নামাংশটি এসেছে এনপেলবার্ট ক্যাসপার থেকে, যেহেতু জাপানে এই ফুলের প্রথম বর্ণনা বিশ্ববাসীকে শুনিয়েছিলেন সে জন্য। জাপানি সামুরাই যোদ্ধারা যুদ্ধে যাওয়ার সময় লাল ক্যামেলিয়া দেখলে অশুভ বলে বিশ্বাস করতেন। এ জন্য তাঁদের যুদ্ধযাত্রার সময় লাল ফুলের টব ঘর থেকে বের করে বাগানের পেছনে রেখে দেওয়া হতো। লাল ক্যামেলিয়া রোয়া হতো বাগানের পেছনের সারিতে। কিন্তু সাদা কেমেলিয়া শুভ। আর যত অশুভ বেশি বয়সী গাছে। বুড়ো গাছে ভূত-প্রেত থাকে, কিন্তু তরুণী ক্যামেলিয়ার সেই বদনাম নেই। আর টকটকে লাল ক্যামেলিয়া বাসি হয়ে ঝরে পড়লে কেমন শব্দ হয়, জানেন? নরম ঘাসের ওপর শক্ত জিনিস পড়লে যেমন ‘ধুপ’ শব্দ হয়। অর্থাৎ তীক্ষ্ন তরবারির এক কোণে কাটা মুণ্ড ঘাসের ওপর পড়লে এ রকম শব্দ হয়। প্রাচীন জাপানি সাহিত্যে এই কল্পনাচিত্র পাওয়া যায়।
ফুলের সৌন্দর্যের জন্যই প্রাণসম্রাজ্ঞী চায়ের জাতবোন ক্যামেলিয়ার সুনাম ও গর্ব। অন্তত হাজার বছর ধরে চীন-জাপানের অভিজাত মহলে এর উজ্জ্বল অভিসার চলে। ইংল্যান্ডের রবার্ট জেমস নিজ দেশে ক্যামেলিয়ার চারা নিয়ে যান ১৭৩৯ সালে। সেই শুরু ক্যামেলিয়ার ইউরোপ জয়। ১৮০৭ সালে আমেরিকার নার্সারিতে গ্রিনহাউস উদ্ভিদ হিসেবে চাষ শুরু। এখন ইউরোপের বনেদি বাগানে ক্যামেলিয়া থাকবেই। রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘ক্যামেলিয়া’ কবিতায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফুল ফুটলে সেটি সাঁওতাল মেয়েটি খোঁপায় পরে নেয়। জাপানিরা ১১ শতাব্দীতে চিত্রকলা ও চীনামাটির বাসনপত্রে ক্যামেলিয়া আঁকতে শুরু করেন। চায়ের পেয়ালা, ফুলদানি প্রভৃতি তৈজসপত্রে তার কী দাপট! এতে একস্তর পাপড়ির ফুলই প্রথম আঁকা হয়। চীনে সং রাজবংশ সাদা পাপড়ির ক্যামেলিয়াকে প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন। চীনা নববর্ষ ও বসন্ত উৎসবে এই ফুল দেবতার উদ্দেশে নিবেদন করা হতো। নববর্ষের শুভর প্রতীক এই ফুল। কিন্তু চীনা নারীরা ক্যামেলিয়াকে কখনো খোঁপায় গুঁজতেন না। কারণ ক্যামেলিয়া কুঁড়ি থেকে ফুল হয়ে ফুটতে দীর্ঘ এক মাস সময় নেয়। তার অর্থ_যে মেয়ে এই ফুল পরবেন, তিনি সহজে সন্তানবতী হতে পারবেন না।
ক্যামেলিয়া গাছ না ছাঁটলে ২০-৩০ ফুট উঁচু হয়ে যায়।কাজেই ক্যামেলিয়া ও চা গাছকে ক্ষুপজাতীয় বলা যাবে না। বাঁচে অন্তত এক শ বছর। বাড়তে দিলে এত উঁচু হয়ে যেত যে ক্যামেলিয়া ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করা যেত না। চা গাছ থেকে চা পাতা আহরণ করা যেত না।
একস্তর পাপড়ি ও বহু পাপড়ির ফুল হয়। চীন, জাপান, কোরিয়া ছাড়াও সারা বিশ্বে ২০০০ রকমের বেশি আবাদিত ও হাইব্রিড ফুল হয়। আর বেশি দেরি নেই নীল ও কালো রঙের ক্যামেলিয়া উৎপন্ন হবে। মনকাড়া, নজরকাড়া ক্যামেলিয়া চা বাগানে উৎপন্ন হবে খুব সহজে। কারণ ক্যামেলিয়া হলো চা-পরিবারের গরবিণী কন্যারত্ন। গোলাপ, চেরি, আপেলও একই বড় পরিবারের গর্বিত সদস্য। ক্যামেলিয়াকে আদরণীয় ভালোবাসায় সিক্ত করেছেন জাপানি ও চীনারা।
তথ্য সংগ্রহঃ কালের কন্ঠ
অ্যাজালিয়া January 13, 2010
লাল, গোলাপি, কমলা এবং সাদা রঙের অ্যাজালিয়া ফুল দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। কিন্তু গাছ তত আকর্ষণীয় নয়। জীর্ণশীর্ণ গাছে যে অমন বাহারি ফুল ফুটতে পারে, তা ফুল ফোটা অবস্থায় গাছটিকে না দেখলে বোঝা যায় না। এ জন্য এ ফুল ফুটলে তা গাছের চেয়ে ভালো দেখায়। গুচ্ছবদ্ধ হয়ে অনেকগুলো ফুল একত্রে কাট ফ্লাওয়ার হিসেবে ফুলদানিতে ভালো মানায়। সেদিক দিয়ে অ্যাজালিয়ার কদর রয়েছে। বিশেষ করে ক্রিসমাসের উত্সবের উপহারে অ্যাজালিয়ার জুড়ি মেলা ভার। অ্যাজালিয়া শীতের ফুল। কলকে বা চোঙার মতো কোনো কোনো জাতের ফুলে আছে নানা রঙের বৈচিত্র্য। গাছে ফুল থাকা অবস্থায় গোড়ার মাটি সব সময় ভেজা রাখতে হয়। টবে ও বাগানে অ্যাজালিয়া লাগানো যায়। শুকিয়ে যাওয়া ফুলগুলো সব সময় তুলে ফেলতে হবে। শাখা কলম করে অ্যাজালিয়ার নতুন চারা তৈরি করা যায়। টবে লাগানো গাছ সংগ্রহ করতে পারলে এ শীতেই হয়তো আপনার বাগানে ফুটতে পারে অ্যাজালিয়া ফুল। তবে গাছ রাখতে হবে একটু ছায়া ছায়া জায়গায় এবং খুব যত্নে। হাজার হলেও এ দেশে নতুন অতিথি। খাপ খাইয়ে নিতে একটু সময় তো দিতে হবে। অ্যাজালিয়ার উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Rhododendron sp, পরিবার ইরিয়েসি। ফুলটি এসেছে চীন, তিব্বত বা জাপান থেকে।
চীনা হ্যাট ফ্লাওয়ার January 13, 2010
চীনা হ্যাট ফ্লাওয়ার লতানো স্বভাবের গাছ। তাই একে ফুল ফোটা অবস্থায় হঠাত্ দেখলে দূর থেকে বাগানবিলাস ফুলেরই কোনো একটা প্রজাতি বলে ভুল হতে পারে। কিন্তু কাছে গেলেই সে ভুল ভাঙে। পাতাটা হুবহু বাগানবিলাসের মতো নয়, ফুল তো নয়ই। পোড়া ইটের মতো লালচে রঙের গোল গোল চাকতি আকৃতির ফুল ফোটে ডালে ডালে। ফুলের রঙ কখনো লাল বা হলুদ হয়। ফিনফিনে পাতলা পাপড়ি আর তা বসানো একটা খাটো সরু নলের মাথায়। চীনা টুপি ফুলের গাছ লতানো, লতিয়ে লতিয়ে ১০ মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে মূল কাণ্ড থেকে শাখা-প্রশাখা চারদিকে দুলে পড়ে। চাকতির মতো গোলাকার বা ফুল দেখতে সসার বা পিরিচের মতো হলেও চারপাশে কিনারায় হালকা পাঁচটি খাঁজ থাকে। এ জন্য এ ফুলের আরেক নাম ‘Cup and Saucer plant’. ফলের রঙ বাদামি, চ্যাপটা গোল। প্রতিটি ফলের চারটি অংশ থাকে। কাটিং ও গুটি কলম করে চারা তৈরি করা যায়। হিমালয়ের দক্ষিণ ঢালে এ ফুলের জন্ম এবং সেখান থেকে আসাম হয়ে বাংলাদেশে বিস্তৃত। এ গাছের উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Holmskioldia sangunea, ইংরেজি নাম Chinese Hat plant, পরিবার লেমিয়েসি।
গাজানিয়া January 13, 2010
গাজানিয়া গাছের উচ্চতা ১৫ থেকে ২৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে, তবে গাছের একটু লতানো স্বভাব আছে। পাতা সরু, লম্বা ও নিচের পাশ রুপালি সূক্ষ্ম পশমে আবৃত। ফুল বেশ বড়, দেখতে কিছুটা জারবেরা ও ডেইজির মতো। ফুলের মাঝের চাকতি থেকে পাপড়ির মধ্যখান বরাবর গাঢ় খয়েরি রঙের রশ্মির মতো লম্বা রেখা গাজানিয়াকে বেশি মোহনীয় করে তুলেছে। তবে দাগ ছাড়া একরঙা পাপড়ির জাতও গাজানিয়ার আছে। ফুলের রঙ সাধারণত হলুদ থেকে কমলা, তবে ঘিয়া, লাল, সাদা ও বাদামি রঙের ফুলও আছে। হাইব্রিড জাতগুলোর ফুলের পাপড়িতে লাল, কমলা, সাদা ইত্যাদি রঙের শেড থাকে। ফুল একটা ডাঁটার মাথায় ফোটে, ফোটার পর অনেকক্ষণ তাজা থাকে, বিকেলে শুকিয়ে যায়। বীজ সরাসরি বুনে গাছ তৈরি করা যায়, তবে কাটিং করেও নতুন চারা পাওয়া যায়। গাজানিয়া লাগাতে হবে রোদেলা জায়গায় এবং যেখানে পানি জমে না। গাজানিয়ার উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Gazania splendens এবং পরিবার কম্পোজিটি। ফুলটি এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে।























Recent Comments