মধ্য এবং দক্ষিন আমেরিকার রেইন ফরেষ্ট গুলোতে সুন্দর ও বিভিন্ন রঙের এই ব্যাঙ দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবীর বিষাক্ত প্রাণিদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দুই ইঞ্চি (৫সেমি) লম্বা এই জাতীয় লাল ব্যাঙ, যার বিষ ১০ জন পূর্ণ বয়স্ক মানুষ অথবা ২০,০০০ ইঁদুরকে মারতে সক্ষম। মাত্র ২ মাইক্রোগ্রাম প্রাণঘাতী বিষ একজন মানুষ বা বৃহৎ কোন স্তন্যপায়ী প্রানির মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট। এরা ণীলচে, হলুদ রঙেরও হয়ে থাকে।
বিষাক্ত ব্যাঙ January 3, 2010
ব্যাঙ December 7, 2009
ব্যাঙ উভচর শ্রেণীর অ্যানিউরা (লেজহীন, অ্যান=নাই, ইউরো=লেজ) বর্গের মেরুদণ্ডী প্রাণী। এদের লাফ (দেহের আয়তনের তুলনায় বিশ্বরেকর্ড) ও বর্ষাকালে (প্রজনন ঋতু) ঘ্যাঙর্ ঘ্যাঙ্ ডাক (প্রণয় সম্ভাষণ) বিখ্যাত।ব্যাঙের সংস্কৃত নাম দর্দুর যা থেকে বাংলা নাম দাদুর বা দাদুরী এসেছে। আরেক নাম ভেক।
লালচোখো গেছো ব্যাঙ December 7, 2009
লালচোখো গেছো ব্যাঙ আকারে তেমন বড় নয় তবে অন্য সব গেছো ব্যাঙের চেয়ে বড়। গড় দৈর্ঘ্য দুই থেকে তিন ইঞ্চি। পুরুষ-ব্যাঙের চেয়ে স্ত্রী-ব্যাঙ সামান্য বড় হয়ে থাকে। আমেরিকার মধ্যাঞ্চল ও মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলের বৃষ্টি-অরণ্যের গাছগুলোতে এরা বাস করে। লাল এক জোড়া ড্যাবডেবে চোখ ও সবুজ গা ওদের দিয়েছে সুন্দর রূপ। শরীরে নীল, হালকা হলুদ ও কমলা রঙের ছোপও আছে। রঙিন ব্যাঙেরা সাধারণত বিষাক্ত হয়ে থাকে; কিন্তু লালচোখোরা বিষাক্ত নয়।
সবুজ রং ওদের গাছের সবুজ পাতার আড়ালে গা ঢাকা দিতে কাজে লাগে। এতে একদিকে যেমন সাপ ও শিকারি পাখির মতো শত্রুদের ধোঁকা দেওয়া যায়, তেমনি আবার ছোটখাটো পোকামাকড় শিকারেও এ ছদ্মবেশ কাজে দেয়। গেছো ব্যাঙ বলেই গাছ বাওয়া বা যেকোনো উঁচু জায়গায় উঠতে ওরা খুব পারদর্শী। এ জন্য এদের পাগুলো বিশেষভাবে গঠিত।
লালচোখো গেছো ব্যাঙ নিশাচর। দিনের বেলা এরা পাতার আড়ালে গা ঢাকা দিয়ে থাকে; রাতে খাবার খুঁজতে বের হয়। ডিম পাড়ার সময় হলে স্ত্রী-গেছো ব্যাঙ পাতার ওপর একগাদা ডিম পাড়ে, তবে গাছের ডালসহ পাতাটি ঝুলে থাকতে হবে কোনো পুকুর বা জলাশয়ের ওপর। ডিমের ভেতর ব্যাঙাচি বড় হতে হতে একসময় মোচড় খেতে শুরু করে। এতে ডিমের নরম আবরণ ছিঁড়ে ওরা পানিতে গিয়ে পড়ে। পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত ব্যাঙাচিগুলো ওই পানিতেই থাকে।
কটকটি ব্যাঙ December 7, 2009
কটকটি ব্যাঙ জীবনের প্রথম পর্যায়ে পানিতে ও পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় স্থলে বসবাস করে। দেহ ত্বক সাধারণত আইশবিহীন, মসৃণ ও গ্রন্থসমৃদ্ধ। পনিতে ফুলকার সাহায্যে ও স্থলে ফুসফুসের সাহায্যে শ্বসন চালায়। চামড়া সিক্ত ও অনাবৃত। পা ২ জোড়া, অগ্রপদে ৪টি ও পশ্পাদপদে ৫ নখরহীন আঙ্গুলযুক্ত থাকে।এরা বহ্যিক নিষেক ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রজনন ঘটিয়ে ডিম পারে। লার্ভা দশা থেকে রূপান্তরের মাধ্যমে পরিপূর্ণ রূপ নেয়।একে ইরেজীতে Skittering frog বা Indian Skipper frog বলে আর বৈজ্ঞানিক নাম Euphlyctis cyanophlyctis।
গেছো ব্যাঙ December 6, 2009
নানা প্রজাতির ব্যাঙের মধ্যে গেছো ব্যাঙ উড়তে পারে মানে বেশ লাফিয়ে অনেক দূর যেতে পারে।এই গেছো ব্যাঙেরা থাকে ঝোপে-ঝাড়ে, বনে-বাদাড়ে ও গাছে। অন্যান্য ব্যাঙের চাইতে দেখতে এরা অবশ্য একটু কমই বেঢপ আকৃতির হয়। এদের হাত-পা একটু বেশীই লম্বা লম্বা ধরনের আর সেই লম্বা লম্বা হাত-পায়ের সাহায্যে সে ধাক্কা দিয়ে উঠে পড়ে শূণ্যে।
বাতাসে ভেসে সে এভাবে পাড়ি দিতে পারে অনেকটা পথ। তারপর আবার যেখানে খুশি সেখানে নেমে আসতে পারে নির্বিঘ্নে। আর এর জন্য তার পায়ের নিচে থাকে বিশেষ গ্রন্থি। যার মাধ্যমে সে অনেকটা টিকটিকির মতো যে কোন জায়গা বেয়ে নেমে উঠে যেতে পারে। পারে আকাশ থেকে নেমে আসার সময় গাছের গায়ে লেপ্টে যেতেও।
এর ডিম পাড়ার সময় পানির ধারে এমন গাছ বেছে নেয় যার কিছুকিছু পানির ওপর বরাবর থাকে। এরা এদের ডিমগুলোকে একরকম আঠালো নিঃসরণের সাহায্যে ঠিক পানির উপরে পাতার গায়ে আটকে দেয়। ডিম ফুটে ব্যাঙাচি বের হলে ব্যাঙাচিগুলো সরাসরি পানিতে পড়ে যায় ফলে ব্যাঙাচিগুলোর বেঁচে থাকতে কোনো অসুবিধা হয় না।
গেছো ব্যাঙের থাবা থেকে সম্প্রতি ভারতের গবেষকরা এক ধরনের অতি শক্তিশালী এবং বারবার ব্যবহারযোগ্য আঠা আবিষ্কার করেছেন।গেছো ব্যাংর থাবার মশৃণ হস্তু রেখা” রয়েছে বলে আঠার শক্তির দুবর্লতা এড়ানো সম্ভব হয়। জানা গেছে গেছো ব্যাংএর থাবার ওপর গবেষণা করে আবিষ্কৃত এই নতুন ধরনের আঠার শক্তি আগের সাধারণ আঠার শক্তির চাইতে ৩০ গুণ বেশি। উপরন্তু এ ধরনের আঠা বারবার ব্যবহার করা ও যায়।
এর ইংরেজী নাম Tyler’s Tree Frog বা Tree Frog ও বৈজ্ঞানিক নাম Litoria tyleri।
সোনা ব্যাঙ December 6, 2009
সোনা (কোলা) ব্যাঙ আর্দ্র জায়গায় বা জলে বেশী থাকে। একে ইরেজীতে Golden toad, Monteverde golden toad, the Monte Verde toad, Alajuela toad, orange toad ইত্যাদি নানা নামে ডাকা হয় আর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo periglenes বা Rana tigrina।
কুনো ব্যাঙ December 6, 2009
কুনো ব্যাঙ শুকনো বা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় বেশী থাকে। প্রধাণত সুন্দরবনে এদের বেশী দেখা যায়। এরা লাল পিঁপড়া, কালো পিঁপড়া, মশা, মাছি ও নানা রকম পোকা মাকর খেয়ে বেচে থাকে। একে ইরেজীতে Toad বলে আর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo melanostictus।
সেরাটোফাইরিন ব্যাঙ December 6, 2009
সেরাটোফাইরিন ব্যাঙ (cerato firin frogs) আক্রমণাত্মক মনোভঙ্গীর ব্যাঙ।অনেকক্ষণ ধরে এক জায়গায় ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থেকে হঠাৎ করে শিকারের ঘাড়ে লাফিয়ে পড়ে।আকারে ছোট, তবে চোয়াল বড়।
দৈত্য ব্যাঙ December 6, 2009
দৈতাকৃতিরএই ব্যাঙের ইংরেজী নাম goliath frog ও বৈজ্ঞানিক নাম Conraua goliath । এরা আকারে ১৩ ইঞ্চি বা ৩৩ সেমি লম্বা হয় আর ওজন প্রায় ৩ কেজি(৮ পাউন্ড) মত। এরা কাঁকরা, পোকা মাকড়, ছোট ব্যাঙ খেয়ে থাকে। ১৫ বছরের উপরে বাঁচে।West Africa’র Cameroon ও Equatorial Guinea এলাকার নদীর চরের বালুতে ঘাপটি মেরে থাকে।
কাঁকড়াভুক ব্যাঙ December 6, 2009
কাঁকড়াভুক ব্যাঙ বা ম্যানগ্রোভ ব্যাঙ সুন্দরবনের একটি সাধারণ ব্যাঙ। কিন্তু কোলা ও কটকটি ব্যাঙের সঙ্গে এদের খুব বেশি সাদৃশ্য থাকায় এত দিন আমরা তাদের পরিচিতি ঠিকমতো জানতে পারিনি। ব্যাঙটি আমাদের কাছে রহস্যময় হিসেবেই পরিচিত ছিল। এরা মূলত কাঁকড়া (crab) খেয়ে থাকে। cancri অর্থ কাঁকড়া (crab) আর vorus মানে খাওয়া (feeder, eating)। এদের খাদ্যাভ্যাস থেকেই এ ধরনের নামকরণ। তবে ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের বাইরে থাকার সময় এটি পতঙ্গ ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণী খেয়ে থাকে। মনুষ্যবসতির কাছে স্বাদু পানির পরিবেশেও এদের বাস করতে দেখা যায়।
কাঁকড়াভুক ব্যাঙের সঙ্গে আমাদের দেশে সচরাচর দেখা পাওয়া কোলা বা সোনা ব্যাঙ ও কটকটি ব্যাঙের সাদৃশ্য রয়েছে। কিন্তু এরা উপকূলীয় এলাকা থেকে দূরে বাস করে না। চোখের পেছন থেকে উভয় পাশে টানা শৈলশিরা বা উত্তোলিত রেখা এই ব্যাঙের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। উপরন্তু পিঠের ওপর শৈলশিরা বা উত্তোলিত রেখা একটানা নয়, ভঙ্গুর। চোখের সামনে থেকে নাকের ছিদ্র পর্যন্ত পারতপক্ষে কোনো রেখা নেই, যা সহযোগী প্রজাতিতে আছে। এ ছাড়া চঞ্চু থেকে দেহের শেষ ভাগ পর্যন্ত সচরাচর কোনো হালকা ডোরা দেখা যায় না। এরা ছয় থেকে আট সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষ করে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিজ্ঞানীদের মতে, পুরুষ-ব্যাঙের চেয়ে স্ত্রী-ব্যাঙ বড় হয়। এই ব্যাঙ আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। আর তা হলো, এরা শরীরে অতিমাত্রায় ইউরিয়া জমা রাখতে পারে। এ কারণে এরা প্রায় সাগরজলের সমপরিমাণ লবণাক্ততা সহনক্ষম। তবে এদের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় কেবল স্বাদু পানিতে। বর্ষাকালে সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে সাময়িক কিছু ডোবা তৈরি হয়। এসব ডোবার মধ্যে এদের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত Knut Schmidt-Nielsen তাঁর প্রাণীর শারীরবৃত্ত: অভিযোজন ও পরিবেশ গ্রন্থে বলছেন, পূর্ণ বয়সী ব্যাঙের চেয়ে ব্যাঙাচির লবণাক্ততা সহনক্ষমতা বেশি। এই ব্যাঙ যে পরিমাণ ঘন লোনাপানিতে বাস করে, দেশের অন্য কোনো ব্যাঙ তা পারে না।
এগুলো কাঁকড়া খাওয়া (Crab-eating) ব্যাঙ বা ম্যানগ্রোভ ব্যাঙ নামে পরিচিত।বৈজ্ঞানিক নাম Fejervarya cancrivora। আগে এর নাম ছিল Rana cancrivora বা Limnonetes (Hoplobatrachus) cancrivora। ২০০৭ সালের জুলাইয়ে অধ্যাপক দত্ত উড়িষ্যার উপকূলে প্রথমবারের মতো এমন ব্যাঙের প্রজাতির সন্ধান পান।
আর আমাদের দেশে ব্যাঙের ৩৫টি প্রজাতির সঙ্গে আরেকটি নতুন প্রজাতি হিসেবে তা যুক্ত হলো।
মূল লেখা: রেজা খান (প্রথম আলো)






















Recent Comments