বাংলাদেশে চার জাতের মুনিয়া পাওয়া যায়। এগুলো হল ধলাকোমর মুনিয়া, কালাগলা মুনিয়া, বুটিমুনিয়া, কালামাথা মুনিয়া। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বুটি মুনিয়া। তিলা মুনিয়ার মাথার থেকে লেজের আগা পর্যন্ত বাদামী। পেটের দিকে কালচে বাদামী ফোঁটা আছে। দূর থেকে দেখলে মোজাইক করা মনে হবে। ঠোঁটটি গাঢ় ধূসর। পা, আঙুল ও নখ নীলচে ধূসর।
মুনিয়ার বাসা বানানোর কৌশল খুবই সুন্দর। ঘাস, লতা-পাতা দিয়ে গোলাকৃতির বাসা বানায় এরা। ৬-৮টি সাদা ডিম পাড়ে।
মুনিয়ার ঝাঁক, খাবার কৌশল, বাসা বানানো দেখাই আজ দূরূহ ব্যাপার। আজকাল প্রকৃতিতে মুনিয়ার দেখা পাওয়াই মুশকিল। চোখের সামনেই দেখা যায়, অনেক বিজ্ঞ ব্যক্তিও শখের বসে মুনিয়া কিনছে। এরই ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রকৃতি থেকে যেমন মুনিয়া ধরছে তেমনি খাঁচার মধ্যেও কৃত্রিমভাবে মুনিয়ার প্রজনন করা হচ্ছে। মুনিয়া পাখির সংসারসহ সমস্ত জীবন প্রণালীই এখন কৃত্রিম। মুনিয়ার কিচির মিচির ডাক এখন গানের সুর নয়, যেন কান্নার সুর।
আরেক ধরণের মুণিয়া দেখা যায়, যা লাল রঙের ও পোষ মানে। লাল মুনিয়া’র আপদামস্তক প্রায় ১০সে.মি লম্বা। ঠোঁট,বুক,লেজ লাল রংয়ের,ডানা ও পিঠ কালচে বাদামী,লেজের আগা ও পেটের নিচ থেকে লেজের নিচের শেষ প্রান্ত পর্যন্তও তাই।চোখে লাল বৃত্তের মাঝখানে কালো ফোঁটা,পা গোলাপী রংয়ের। শরীরের পালকে ছোট ছোট সাদা ছিট ছিট দাগ আছে। প্রজনন সময়ে পুরুষ পাখি দেখতে খুব সুন্দর হয়।মেয়ে পাখির চাঁদি,পিঠ ও ডানার পালক এবং লেজ গাঢ় বাদামী আর ঘাড়,গলা, বুক হালকা বাদামী,লেজের গোড়ার পালক লাল বর্ণের হয়।জলাপূর্ণ জঙ্গলা ঝোপে বা ঘাসবনে আমার দেখা মেলে,নরম শুকনো ঘাস দিয়ে গোলাকার বাসা বানিয়ে থাকে।
খাবার মেন্যু – নানান রকম শস্যদানা।
প্রজনন সময় – জুন থেকে জুলাই। ডিম সংখ্যা – ৪/৭ টি।


Recent Comments