খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম

শুশুক December 20, 2009

Filed under: শুশুক — rezowan @ 2:05 am

শুশুক নদীর ডলফিন। বিশেষ আকৃতির লম্বা ঠোঁট, পিঠের ছোট ডানা আর দুই পাশের বড় পাখনার কারণে শুশুক দেখতে একটু অদ্ভুত। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর সব জায়গাতেই শুশুকের বাস। জন্মান্ধ এই প্রানীটাকে বাংলাদেশ, ভারত এবং নেপালের কিছু নদী ছাড়া কোথাও দেখা যায় না। সত্যিকারের নদীর ডলফিন সাগরের ডলফিনের দুরসম্পর্কের আত্মীয়। এদের ঠোঁট লম্বা এবং চোখ খুব ছোট। শুশুকের দৃষ্টিশক্তি খুবই দুর্বল। নদীর যে ঘোলা পানিতে এদের বসবাস, সেখানে দৃষ্টিশক্তির খুব একটা প্রয়োজন হয় না। এর বদলে এদের ইকোলোকেশনের শক্তি অনেক প্রখর। চলাচলের সময় জলজ স্তন্যপায়ীরা প্রতিধ্বনিত শব্দ দিয়ে মস্তিষ্কেক প্রতিচ্ছবি তৈরি করে।

শুশুকের শরীরের দুই পাশের বড় পাখনা ও নমনীয় ঘাড়ের জন্য এরা সহজে চলাচল করতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, এরা কাত হয়ে সাঁতার কাটে। বড় পাখনার সাহায্যে এরা নদীর তলদেশ ছুঁয়ে পথ নির্ধারণ করে। এরা কিন্তু মোটেই সমাজবদ্ধ নয়। সাধারণত একাই থাকে। তবে অনেক সময় নদীর বাঁকে ও মোহনায় ছোট ছোট দলে দেখা যায়।৭০এর দশকের পর থেকে ব্যাপক জনসঙ্খ্যা বৃদ্ধি পরিবেশ দুষন এবং অতিমাত্রায় মাছ শিকারের ফলে আশঙ্কাজনক ভাবে এই প্রানীটার সংখ্যা কমে গেছে।

সুসুক শুশুক,শিশু,শিশুক, শুশু, হুপ মাছ,  গাঙ্গেয় ডলফিন অথবা গাঙ্গেজ ডলফিন নামেও পরিচিত আর দ্বীপদী নাম Platanista gangetica.৭০এর দশকের পর থেকে ব্যাপক জনসঙ্খ্যা বৃদ্ধি পরিবেশ দুষন এবং অতিমাত্রায় মাছ শিকারের ফলে আশঙ্কাজনক ভাবে এই প্রানীটার সংখ্যা কমে গেছে।আরেকদল বিজ্ঞানীর ধারনা পানিতে কট কট জাতিয় শব্দ করে এরা পানির মধ্যেই একধরনের কম্পন করে। ১জোরা ফিন থাকে এবং এরা একধরনের গন্ধ জাতীয় তেল নিঃস্বরন করে মাছদের আকর্ষন করে এবং শিকার করে। বাংলাদেশের অনেক জায়গার লোকেরা এই মাছ শিকারের লোভে শুশুক হত্যা করে এই তেল সংগ্রহ করে। স্ত্রী শুশুক আকৃতিতে বড় (এভারেজে 2.4-2.6m) এবং পুরুষ শুশুক 2-2.2m হয়ে থাকে। শুশুক সারাবছর ব্রিড করে এবং স্ত্রী শুশুক ১১ মাস গর্ভ ধারন করে ।

 

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.