খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম

শেরউড এন্ডারসন January 6, 2010

Filed under: শেরউড এন্ডারসন — rezowan @ 2:50 am
১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও অঙ্গরাজ্যে জন্ম নেন একেবারেই দরিদ্র ঘরে। এরউইন এস এবং এমা এস এন্ডারসনের সাত ছেলেমেয়ের মধ্যে তিন নম্বর এ সন্তানটি বড় হয়েছে নানা ঝড়-ঝঞ্ঝার মধ্য দিয়ে। পিতা ছিলেন ব্যবসায়ী। কিন্তু ব্যবসায় চরমভাবে ধরাশায়ী হলে এরউইনকে পথে বসতে হয়। ফলে পরিবর্তন করতে হয় বাড়ি। বাস করতে থাকেন অপেক্ষাকৃত দরিদ্র অঞ্চলে। কিন্তু জীবন নিয়ে অসম্ভব হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে একদিন তিনি সিসা খেয়ে আত্মহত্যা করেন। ফলে এরউইনের পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো শেরউডকেও জীবিকার জন্য বিচিত্র পেশা বেছে নিতে হয়। শ্রমিক থেকে শুরু করে হেন কাজ নেই, যা শেরউড করেননি। ১৪ বছর বয়সে স্কুলে পড়াশোনা বাদ দিয়ে বড় ভাইয়ের সঙ্গে প্রথমে নেমে পড়েন নানা রকম কাজে। পরে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে। স্পেন ও আমেরিকান যুদ্ধে তার ডাক পড়লে তিনি সে যুদ্ধে যোগ দেন ঠিকই, কিন্তু মানুষ হত্যার তিনি পক্ষে ছিলেন না। ফলে সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দিয়ে ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে শিকাগো শহরে কাজ নেন টাইপরাইটারের। এ কাজে তিনি বেশ সফলও হন। বিয়ে করেন সে সময়। ব্যবসা করার মনোবাসনা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ডাক পাঠানোর কাজ শুরু করেন। ব্যবসা ভালোই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ দেখা দেয় বিপত্তি। শেরউডের মাথায় কিসের যেন ভূত চাপে। চারদিন এমন অবস্থায় থাকার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তার অনেক মৌলিক কাজ করার আছে আর এজন্য লেখালেখিই উপযুক্ত স্থান। তিনি বেছে নিলেন লেখক জীবন। লিখলেন অসংখ্য বই। বস্তুবাদী চিন্তা-চেতনার অধিকারী হওয়ায় তরুণ লেখকদের কাছে তিনি পরিণত হলেন আদর্শ ব্যক্তিত্বে। পরে শিকাগোয় ফিরে এসে প্রকাশনা ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেন। কিন্তু এই বিশিষ্ট লেখক খামখেয়ালিপনা কাজেও ছিলেন বেশ সিদ্ধহস্ত। তখন তার বয়স ষাট ছুঁইছুঁই। উদ্ভট কাজের এই কাজী প্রায়ই যেতেন ভার্জিনিয়ার রাউন্ড হিলের মারিয়ন ভাস্কর্যের কাছে। নানা রকম মজার মজার খেলা দেখিয়ে এখানে আসা দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতেন। একদিন এমনই এক পার্টিতে সবাইকে অলৌকিক কিছু দেখাতে গিয়ে পড়ে গেলেন মহাবিপদে। ওই অনুষ্ঠানে তিনি চেয়েছিলেন তলোয়ারের টুকরো দিয়ে দাঁত খিলাল করে সবাইকে অবাক করে দিতে। কিন্তু তলোয়ারের টুকরোটি মুখের ভেতরের সামনের অংশে প্রবেশ করিয়ে ভাবলেন আরও একটু চমক সৃষ্টি করতে। তাই প্রায় পুরোটাই মুখের ভেতর চালান করে দিলেন। কিন্তু ততক্ষণে কেটে গেছে তার মুখগহ্বরের অনেক অংশই। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। জনগণ ভালোবাসতেন তাকে, বুঝতেন তার খামখেয়ালিপনাও। তাই তো শেরউডের মৃত্যুর পর তার এপিটাফে লিখে দেওয়া হয় ‘জীবন মানেই মৃত্যুহীন এক অপার বিস্ময়’। সত্যিই তাই। জীবনের রহস্য ভেদ করা খুবই কঠিন।
 

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.