খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম

সঙ্গীতের নানা রূপ April 18, 2010

Filed under: সংগীত — rezowan @ 1:36 am

মোবারক হোসেন খান [লেখক: কথাশিল্পী ও সঙ্গীতজ্ঞ]
মানব জীবনের সঙ্গে সঙ্গীত ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষের মানসিক বৃত্তি বিকাশে সঙ্গীতের ভূমিকা অপরিসীম। সংগীতানুশীলকে সার্বজনীন করা গেলে সংগীত সাধনার ভেতর দিয়ে সাংস্কৃতিক ভুবনে উন্নতি সাধিত হতে পারে।
সংগীতের একটা গৌরবময় ইতিহাস আছে। সেই ইতিহাস আমাদের দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে নিয়ে গড়ে উঠেছে। সংগীত সেই সংস্কৃতিরই একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সংগীত শিক্ষা ও সংস্কৃতির আবশ্যকীয় উপাদান। সংগীত আবার নানা উপাদানে সমৃদ্ধ। এ সকল উপাদানে শ্রুতি, স্বর, রাগ, গ্রাম, অলঙ্কার, রস, বর্ণ, ভাব প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত। সংগীতের এ সকল উপদানের মহিমা ও মাধুর্যকে ইতিহাসের নিরীখে জনসাধারণের কাছে পরিবেশন করার জন্যে একদিকে যেমন সঙ্গীত শিল্পীরা অক্লান্তভাবে ফলিত সঙ্গীতের অনুশীলন করছেন, অপরদিকে তেমনি অনুশীলনকারীরা সঙ্গীত-ইতিহাসের বিচিত্র উপাদান সংগ্রহ করছেন এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রচনা করছেন সংগীতের ইতিহাস, সংগীতের ব্যাকরণ, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও দর্শন। আর এভাবেই রচিত হয়েছে সঙ্গীতের ঔপপত্তিক বা শাস্ত্রীয় রূপ। শিল্প-সাধকেরা এর সাহায্য নিয়ে ব্যবহারিক সংগীত-রূপকে করছেন সমৃদ্ধ। অতএব সংগীতানুশীলনের মূলত দুটো দিক রয়েছে। একটি ঔপপত্তিক এবং অপরটি ব্যবহারিক। ঔপপত্তিকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সঙ্গীতের ব্যাকরণ, সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস, মনোবিজ্ঞান ও দর্শন আলোচনা। রাগ, স্বর, শ্রুতি, বাদী, সমবাদী ইতাদি ব্যাকরণের পাশাপাশি কম্পোজিশন বা পাঠ্য-আলোচনা ঔপপত্তিকেরই অংশ।


সংগীত তেমনি আবার বিজ্ঞান। সায়েন্স বা ফিজিক্স বলতে সাধারণভাবে সঙ্গীতের বিজ্ঞান রূপায়িত। স্বরের কম্পন, শ্রুতির বিকাশ এই বিজ্ঞানের সাহায্যেই নির্ণীত হয়। আদিম যুগ থেকে ক্রমবিবর্তনের মাঝ দিয়ে বর্তমান যুগ পর্যন্ত যে একটা ধারাবাহিকতা সঙ্গীতের ভেতর পাওয়া যায় সেটাই হলো সঙ্গীতের ইতিহাস। মানুষের মন চিন্তা ও ভাবের রাজ্য। তাই মনোবিজ্ঞান বা মনের বিজ্ঞান তথা গঠন, বিকাশ প্রভৃতি সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে সঙ্গীতানুশীলন সার্থক হয় না। সঙ্গীতের দর্শন সঙ্গীতের স্বর বা শব্দ থেকে উদ্ভূত। তাই সঙ্গীত শ্রেষ্ঠ বিদ্যা। কেননা সঙ্গীত মানুষকে জন্ম-মৃত্যুর পারে নিয়ে যায় ও শাশ্বত শান্তি দান করে।


সঙ্গীতের স্বরকে আরো বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। স্বর হলো ধ্বনি। ধ্বনি সঙ্গীতের পরিভাষায় নাদ নামে পরিচিত। সঙ্গীতে এই নাদকে বলা হয়েছে, নিয়মি ও স্থির। আন্দোলন থেকে যে মধুর ধ্বনির উত্পত্তি তারই নাম নাদ। যে কোনো নাদ থেকেই কিন্তু সঙ্গীতের সৃষ্টি হতে পারে না। তাই নাদকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। কোনো আঘাত ছাড়া যে নাদের সৃষ্টি সেটা হলো অনাহত নাদ। সঙ্গীতের ক্ষেত্রে অনাহত নাদের কোনো প্রয়োজন হয় না। আঘাত দ্বারা উৎপন্ন স্থায়ী শব্দ হলো আহত নাদ। আহত নাদ থেকে সঙ্গীতের সৃষ্টি। নাদের উত্পত্তি সঙ্গীতের ক্রমবিকাশ ধারাবাহিক একটা রূপ লাভ করে। আহত নাদ দু’প্রকার-বর্ণাত্মক ও ধ্বন্যাত্মক। কণ্ঠ দ্বারা গান গাওয়া, আবৃত্তি করা, বই পাঠ করা বর্ণাত্মক নাদ। কোনো বস্তুর দ্বারা কোনো বস্তুর ওপর আঘাত করলে যে নাদের উত্পত্তি হয় তার নাম ধন্যাত্মক নাদ।


সঙ্গীত পরিবেশন করা হয় স্বরের মাধ্যমে। সঙ্গীতে সাতটি স্বরের প্রচলন রয়েছে। এই স্বরগুলো নির্ধারিত হয়েছে নাদ থেকে। আগেই বলা হয়েছে নাদ হলো ধ্বনি। ধ্বনি বা নাদের উত্পত্তি দুটো বস্তুর সংঘর্ষে বা আঘাতে। তার মানে, কোনো বস্তুর সংঘর্ষ থেকে যে আন্দোলন বা কম্পন হয়, তা থেকে ধ্বনি না নাদের উত্পত্তি।


নাদ থেকে শ্রুতির উদ্ভব। ঝঙ্কার ছাড়া শুধু শব্দের স্বরূপের শ্রবণ থেকে যে নাদের উত্পন্ন হয় সেটা শ্রুতি। সংগীতে বাইশটি শ্রুতি প্রচলিত। শ্রুতিগুলোর মনোরঞ্জনের গুণ রয়েছে। এই শ্রুতিই সংগীতের মূল ভিত্তি। শ্রুতিকে অবলম্বন করেই স্বরের নামকরণ করা হয়েছে। বাইশটি শ্রুতির মধ্যে সাতটি শ্রুতি মুখ্য। এগুলো হলো শুদ্ধ স্বর। সাংগীতিক পরিভাষায় এদের নাম ষড়জ, ঋষভ বা রেখাব, গান্ধার, মধ্যম, পঞ্চম, ধৈবত, নিখাদ বা নিষাদ। সংক্ষেপে, সা রে গা মা পা ধা নি। এই সাতটি স্বরে বাইশটি শ্রুতি আছে।


নাদের কথা বলতে গিয়ে আন্দোলন বা কম্পনের উল্লেখ করা হয়েছে। দুটো বস্তুর সংঘর্ষের ফলে যখন সেই বস্তু দুটো নিজের জায়গা ছেড়ে উপরে-নিচে বা আশে-পাশে দুলতে থাকে সেটাই হলো আন্দোলন বা কম্পন।


সংগীতকে শাস্ত্রের নিয়ম মেনে চলতে হয়। শাস্ত্রীয় গ্রন্থে সঙ্গীতের পরিচয় লিপিবদ্ধ করা আছে। অর্থাত্ সংগীতকে যে-সকল নির্দিষ্ট নিয়মের ভেতর দিয়ে চলতে হয় সেই নিয়মগুলো সঙ্গীতশাস্ত্রে বিধিবদ্ধ করা আছে।


সঙ্গীতের দুটো রূপ-তত্ত্বীয় বা ঔপপত্তিক ও ক্রিয়াত্মক বা ব্যবহারিক। তত্ত্বীয় শিক্ষার ওপর নির্ভর করে ক্রিয়াত্মক রূপে পারদর্শিতা অর্জন করা যায়। তবে সঙ্গীতের দুটো রূপ আয়ত্ত আনার ব্যাপারে দক্ষতা অর্জন করতে হলে শুধু শাস্ত্র অধ্যয়ন করলেই চলে না, ব্যবহারিক বিদ্যাতেও পারদর্শিতা অর্জন করতেই হবে।

 

সংগীত February 26, 2010

Filed under: সংগীত — rezowan @ 10:46 am

লিখেছেন : মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন
পর্ব-১
গীত, বাদ্য ও নৃত্য এই তিনটি ক্ষেত্রের সমন্বয়েই সংগীত। সংগীতরসিক, সংগীতপিপাসু, ও সংগীত-শিল্পীদের ঞ্জানের পরিচয় বৃদ্ধির ব্যাপারে দানের উদ্দেশ্যে সংগীতের পরিভাষা সর্ম্পকে আলোচনা করবো। সংগীতেকে নির্দিষ্ট নিয়মের ভিতর দিয়ে চলতে হয়। এই নিয়মগুলো সংগীতশাস্ত্রের বিধিবদ্ধ। সংগীতের সংঞ্জা, গঠন, রাগসমূহের বিস্তৃত পরিচয় থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব কিছুর নির্দেশই রয়েছে সংগীশাস্ত্রে। সংগীতের ২টা রুপ আছে-
১। ব্যবহারিক বা প্র্যাকটিক্যাল এবং
২। তত্ত্বীয় বা থিওরিটিক্যাল।


সংগীত সর্ম্পকে পরিপূর্ণ ঞ্জন আহরণ করতে হলে অবশ্যই সংগীতের পরিভাষাগুলোর সংগেও ভাল পরিচয় থাকা দরকার।


পরিভাষাঃ যে ভাষা দিয়ে কোনো শব্দের বিশেষ অর্থ বুঝানো হয়ে থাকে তাকে পরিভাষা বলা হয়।
সংগীতঃ সংগীত বলতে, চিত্তবিনোদনে সমর্থ স্বরসমূহের বিশিষ্ট, বিচিত্র ও মধুর রচনাকে বুঝায়। সংগীতের পরিভাষায় গীত, বাদ্য. নৃত্য এই তিনের একত্র সমাবেশ হলো সংগীত।


গীত- কথা,সুর ও তালের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করাকে গীত বলে।
বাদ্য-সুর ও তালের মাধ্যমে যন্ত্রের সাহায্যে মনের ভাব প্রকাশ করাকে বাদ্য বলে।
নৃত্যের- ছন্দ ও মুদ্রা সহযোগে সুললিত অংঙভংগীর দ্বারা ভাব প্রকাশ করাকে নৃত্য বলে।
প্রাচীনকাল থেকে সংগীত এ দেশে প্রচলিত আছে। কখনও বাউলের কন্ঠে ধ্বনিত হয়েছে বাউল গান, মাঝির কন্ঠে অনুরণিত হয়েছে ভাটিয়ালী গান, আবার কখনও মৈষাল বন্ধুর দরাজ কন্ঠে গেয়ে উঠেছে ভাওয়াইয়া গান। কখনও বাউল আঙুল দিয়ে টংকার তুলছে একতারার তারে,কখনও আবার গলায়ঝুলানো দোতারায় টুং টাং তুলছে পল্লী গায়ক। লাউয়ের ঝংকারে কিংবা খমকের গুবাগুবাগুর ধ্বনি পরিবেশেকে করে তুলেছে সুরেলা। আমাদের দেশে প্রতিটি মানুভষর মনেই যেন সুরে ভরা। আর তারই প্রতিফলন ঘটেছে এদেশের সংগীতে। এ দেশের সংগীত তাই আবহমানকালের সংগীত।
পর্ব-২
গত পর্বে বলেছি গীত, বাদ্য ও নৃত্য ।
গীত- কথা,সুর ও তালের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করাকে গীত বলে।
বাদ্য-সুর ও তালের মাধ্যমে যন্ত্রের সাহায্যে মনের ভাব প্রকাশ করাকে বাদ্য বলে।
নৃত্যের- ছন্দ ও মুদ্রা সহযোগে সুললিত অংঙভংগীর দ্বারা ভাব প্রকাশ করাকে নৃত্য বলে।


গীত, বাদ্য ও নৃত্য এ তিনটিই পৃথক পৃথক কলা। সংগীত তিনটি কলারই সমাবেশ করা।
উপমহাদেশের সংগীতে দু’টি প্রধান পদ্ধতিতে বিভত্ত- ১। হিন্দুস্থানী সংগীত পদ্ধতি এবং ২। কর্ণাটকী সংগীত পদ্ধতি।
হিন্দুস্থানী সংগীত পদ্ধতি সমস্ত উত্তর ভারতে এবং বাংলাদেশে প্রতলিত।আর কর্ণাটকী সংগীত পদ্ধতি মহীশূর, অন্ধ্র, মাদ্রাজ ও কর্ণাটক প্রভৃতি অন্চলে প্রচলিত।


সংগীত দুই প্রকার-
১। মার্গ সংগীত
২। দেশী সংগীত


মার্গ সংগীতঃ মার্গ সংগীত হচ্ছে বিশেষ বিশেষ নিয়ম অনুসারে সেকল রাগ পরিবেশন করা হয় তাকে র্মাগ সংগীত ব্রলে। ‘খ্রীস্টপূর্ব যুগে বৈদিকগান, সামগান, থেকে বিষয়বস্তু নিয়ে যে অভিজাত গানের সৃষ্টি হয় তাকে মার্গ গান বা মার্গ সংগীত বলে। বর্তমানে ক্লাসিক্যাল সংগীতকে মার্গ প্রকৃতিসম্পন্ন সংগীত বলা যেতে পারে।
দেশী সংগীতঃ যে সকল রাগ পরিবেশনে কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই এবং বিভিন্ন ঢং-এ বাজানো বা গীত হয় তাকে দেশী সংগীত বলে।
পর্ব-৩
কন্ঠসংগীত বা গীত, যন্ত্রসংগীত বা বাদ্য এবং নৃত্যকলা বা নৃত্য- এই তিনটি কলার একত্র সমাবেশকে সংগীত বলা হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে সুর, তাল এবং মনের ভাব প্রকাশ করার বিষয়সমূহ বিদ্যমান থাকায় গীত-বাদ্য-নৃত্য- এই তিনটি কলাকে একত্র করে এর নাম দেয়া হয়েছে সংগীত।
নাদ
নাদ শব্দের দুটি অক্ষর ‘ন’ এবং ‘দ’ ন-কার অর্থ প্রান বায়ু (Breath) এবং দ- কার অর্থ অগ্নি (Energy), এই দুটির সংযোগে নাদের সৃষ্টি। নাদ অর্থ শব্দ বা ধ্বনি। নাদ থেকে শ্রুতি, শ্রুতি থেকে স্বর, স্বর থেকে স্বপ্তক, স্বপ্তক থেকে ঠাট, ঠাট থেকে রাগ সৃষ্টি হয়।
আরও বিভিন্ন ভাবে রাগ গঠণ হয়।
প্রাচীন কালে রাগ-রাগিণীর সংখ্যা সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রচলিত ছিল। হনুমন্ত মতে ছয় রাগ আর ত্রিশ রাগিণী রয়েছে।
নাদ দুই প্রকার -



ক) আহত নাদ- আঘাতের মাধ্যমে যে নাদ বা ধ্বনি উত্পন্ন হয় তাকে ‘আহত নাদ’ বলা হয়। আহত নাদ থেকে সংগীতের সৃষ্টি। মানুষের কন্ঠ, জিহ্বা, তালু ও ওষ্ঠের দ্বারা আহত নাদ প্রকাশ পায়।
খ)অনাহত নাদ- কোন জড় বস্তুর পারস্পরিক সংঘাতের দ্বারা যে নাদের উৎপন্ন হয় তাকে ‘অনাহত নাদ’ বলা হয়।
নাদের বৈশিষ্ট্যঃ
ক) রূপভেদ (Magnitude)
খ) জাতিভেদ (Timbre)
গ) স্থানভেদ (Pitch)
ঘ) বিরামভেদ (Timbre Prolongation or Pause)
পর্ব-৪
বিস্তারিত আলোচনা_
ক) রূপভেদ (Magnitude)- নাদের ছোট ও বড় হওয়াকে রূপকভেদ বলে। মৃদুস্বর অর্থাৎ যে শব্দ খুব কাছে থেকেই শোনা যায় তাকে ছোট নাদ এবং য়ে শব্দ বহুদূর থেকেও শোনা যায় তাকে বড় নাদ বলা হয়।


খ) জাতিভেদ (Timbre)- নাদের গুণকে জাতিভেদ নাদ বলে। নাদ শুনলেই বোঝা যায় যে, সে নাদ মানুষের কন্ঠ থেকে নিঃস্বত হচ্ছে, না বাদ্যয্ন্ত্র থেকে আসছে। অর্থাৎ কন্ঠ হতে সৃষ্ট নাদ আর যন্ত্র হতে সৃষ্ট নাদ পৃথক হয় যা নাদের ‘জাতিভেদ’ বলে পরিচিত।


গ) স্থানভেদ (Pitch)- নাদের উচ্চতা ও নিম্নতাভেদকে বুঝায় অর্থাৎ স্বর আরোহণমুখী হলে উঁচু হয় এবং অবহরণমুখী হলে নীচু হয়। নাদের উচ্চতা ওনিম্নতা নির্ভর করে স্বরের উঠা নামার উপর। একটি স্বর থেকে অপরটি যখন উঁচু হয় তখন তাকে উচ্চ নাদ এবং নীচু হলে তাকে নিম্ন নাদ বলে।


ঘ) বিরামভেদ (Timbre Prolongation or Pause)- নাদের স্থায়িত্ব স্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়া – যেমন এক, দই অথবা তিন মাত্রা অনুযায়ী কতক্ষণ থামতে হবে তা মাত্রা দ্বারা বোঝা যায়।


আহত নাদ দুই প্রকার -
বর্ণাত্নাকঃ কন্ঠ দ্বারা গান গাওয়া, আবৃত্তি করা, বই পাঠ করাকে বর্ণাত্নক নাদ বলে।
ধ্বন্যাত্নকঃ কোনো বস্তুর দ্বারা অন্য কোনো বস্তুর উপর আঘাত করলে যে নাদের উৎপন্ন হয় তাকে ধ্বনাত্নক নাদ বলে।
পর্ব-৫
শ্রুতি এবং স্বর নিয়ে আলোচনা
শ্রুতিঃ নাদ থেকে শ্রুতির উদ্ভব। ঝংকার ভিন্ন কেবল শেব্দের স্বরুপের শ্রবণ থেকে যে নাদের উত্পত্তি হয় তাকে শ্রুতি বলে। কিংবা অসংখ্য নাদ থেকে এক স্থান বা সপ্তকের মধ্যে যে নাদগুলো শ্রুতিগোচর হয় এবং একটি থেকে আরেকটি পৃথক করা যায়, সে নাদগুণলোকে শ্রুতি বলা হয়। শ্রুতি সংগীতের ভিত্তি। শ্রুতির মোট সংখ্যা ২২টি। প্রত্যেকটি শ্রুতিই মনোরঞ্জনকারী। ২২টি শ্রুতির মধ্যে সাতটি প্রধান ।
১. ষড়জ (সা)
২. খষভ (রে)
৩. গান্ধার (গা)
৪. মধ্যম (মা)
৫. পঞ্চম (পা)
৬. ধৈবত (ধা)
৭. নিষাদ (নি)
এই সাতটি শ্রুতি হলো শুদ্ধস্বর। ষড়জ (সা) ও পঞ্চম (পা) ছাড়া বাকী ৫টি স্বরের ৫টি বিকৃত স্বর আছে। যেমন,
১. শুদ্ধ রে, কোমল ঋ
২. শুদ্ধ গা, কোমল ঞ্জা
৩. শুদ্ধ মা, কড়ি ক্ষা
৪. শুদ্ধ ধা, কোমল দা
৫. শুদ্ধ নি, কোমল ণি


শ্রুতিকে ধ্বনি ভিত্তিতে তিন ভাবে ভাগ করা হয়। যথা-
উদাত্তঃ যে স্বরে দুটি শ্রুতি থাকে তাকে উদাত্ত বলা হয়।যেমন, গা ও নি। উচ্চ ধ্বনিকে উদাত্ত বলে।
অনুদাত্তঃ যে স্বরে তিনটি শ্রুতি থাকে তাকে অনুদাত্ত বলা হয়।যেমন, রে ও ধা। নিম্ন ধ্বনিকে অনুদাত্ত বলে।
স্বরিতঃ যে স্বরে চারটি শ্রুতি থাকে তাকে স্বরিত বলা হয়। যেমন, সা, মা ও পা। সমান ধ্বিনিকে স্বরিতবলে।
স্বর
বাইশটি শ্রুতির বিশেষ বিশেষ কয়েকটি শ্রুতি হল স্বর। যে শ্রুতি থেকে মধুর ধ্বনি নির্গত হয়ে শ্রোতাদের মনো আনন্দ দান করে তাকে স্বর বলে।
স্বর দুই প্রকার।
ক) শুদ্ধ স্বরঃ যে স্বর স্থির এবং অবিকৃতভাবে প্রকাশ পায় তাকে শুদ্ধ স্বর বলা হয়। শুদ্ধ স্বর সাতটি যেমন, সা, রে, গা, মা, পা, ধা ও নি।
খ) বিকৃত স্বরঃ যে স্বর আপন স্থান থেকে বিচ্যুত হয না তাকে বিকৃত স্বর বলে। বিকৃত স্বর পাঁচটি যেমন, কোমল- ঋ, কোমল- ঞ্জা, কড়ি- ক্ষা, কোমল-দা, কোমল-ণি।


প্রাকৃত স্বরঃ শুদ্ধ স্বরকে প্রাকৃত স্বর বলা হয়।
চল স্বরঃ বিকৃত স্বরকে চল স্বর বলা হয়।
অচল স্বরঃ যে স্বরের কোনো বিকৃতি নেই অর্থাৎ অবিকৃত বা স্থায়ী স্বরকে অচল স্বর বলে। যথা- সা ও পা।
পর্ব-৬
গত পর্বে ২২টি শ্রুতির মধ্যে প্রধান সাতটি শ্রুতির আলোচনা করে ছিলাম।
আজ ২২টি শ্রুতি আলোচনা করবো।

ক্রমিক নং শ্রুতির নাম প্রাচিন শ্রুতি স্বর-ব্যবস্থা বর্তমান শ্রুতি স্বর-নাম কম্পন সংখ্যা স্বরের নাম
তীব্রা   ষড়জ (শুদ্ধ) ২৪০ ষড়জ
কুমুদ্বতী       অতি কোমল ঋষভ
মন্দা     ২৫৪.১১৮ কোমল ঋষভ
ছন্দবতী ষড়জ (শুদ্ধ)     তীব্র কোমল ঋষভ
দয়াবতী   ঋষভ (শুদ্ধ) ২৭০ শুদ্ধ ঋষভ
রঞ্জনী       কোমল গান্ধার
রক্তিকা ঋষভ (শুদ্ধ)   ২৮৮ তীব্র কোমল গান্ধার
রৌদ্রী   গান্ধার (শুদ্ধ) ৩০১.৩৯৫ শুদ্ধ গান্ধার
ক্রোধী গান্ধার (শুদ্ধ)     তীব্র গান্ধার
১০ বজ্রিকা   মধ্যম (শুদ্ধ) ৩২০ শুদ্ধ মধ্যম
১১ প্রসারিণী       তীব্র মধ্যম
১২ প্রীতি     ৩৩৮.৮২৪ তীব্রতর মধ্যম
১৩ মার্জ্জনী        
১৪ ক্ষীতি        
১৫ রক্তা     ৩৬০  
১৬ সন্দিপনী        
১৭ আলাপনী     ৩৮১.১৭৬  
১৮ মদন্তী        
১৯ রোহিনী     ৪০৫  
২০ রম্যা        
২১ উগ্রা     ৪৩২  
২২ ক্ষোত্তিনী     ৪৫২.২৯৩  

 

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.