খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম

শামুকখোল বা শামুকভাঙ্গা January 10, 2010

Filed under: সারস(Stork) — rezowan @ 3:55 am

জীবজগতের একটা বিরাট অংশ গোটা পৃথিবী থেকেই খুব দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের বিপন্ন পশু-পাখির মধ্যে শামুকখোল অন্যতম। শামুকখোলের মত বড় পাখিদের জন্য বেশী খাবার দরকার আর সেই সাথে বাসা বানাবার জন্য চাই বেশ পুরাতন লম্বা গাছ যা বড় পাখিদের কাছে বেশ দুর্লভ হয়ে পড়েছে। এক সময় বাংলাদেশের সব জায়গায় শামুকখোল দেখা যেতো। শুধু শামুক-ঝিনুক খেয়েই বেঁচে থাকতে পারে এরা। শামুকের প্রতি আসক্তির কারণেই বাংলার মানুষ তার নাম দিয়েছিল শামুকভাঙ্গা, শামুকখোর, শামুকখোল কিম্বা শামখোল।

এখন বাংলাদেশের কয়েকটি এলাকায় এর বড় বড় কলোনি দেখা যায়। এদের মধ্যে নাটোরের পচামারিয়ায় প্রায় এক হাজারের মত একটি বড় কলোনিকে রাত কাটাতে দেখা যায়। পচামারিয়া ছাড়াও রাজশাহীর দুর্গাপুর, নওগাঁর সান্তাহার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটের পাখিবাড়ি, শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওড়ে আর কুলাউড়ার হাকালুকি হাওড়েও দেখা মেলে। পাখি দেখিয়েদের মতে,সব মিলিয়ে আমাদের দেশে শামখোলের মোট সংখ্যা তিন হাজারের বেশী হবে না।
শামখোল বেশ ঢ্যাঙ্গা আর বড়সড় পাখি। পানিতে হেঁটে বেড়াবার জন্যে লম্বা পা আছে বলে মাটি থেকে তার উচ্চতা আড়াই ফুট পর্যন্ত হয়। ছড়ানো দুই ডানার মাপ তিন ফুটের কম হবে না। দুই চঞ্চুর মধ্যে একটা বড় ফাঁক থাকায় বড় অদ্ভুত দেখায় শামখোলের ঠোঁট।


শামখোলের ইংরিজি নাম ওপেন-বিল, যার অর্থ খোলাঠোঁট। শামখোলের বৈজ্ঞানিক নামটা আরো মজার- অ্যানাস্টোমাস অসিট্যান্স – যার মানে ‘হাই-তোলা মুখ’। শামখোলের খোলা ঠোঁটের রহস্যের মতই তার কিছু কিছু আচরণেরও ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।
একবার আংটি-পরানো এক শামখোল-ছানাকে থাইল্যান্ডে তার বাসা ছেড়ে বিদায় হবার কয়েক দিনের মধ্যেই ১৫০০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশে পাওয়া গেল। শামখোল সাধারণত দূর-পাল্লার পরিব্রাজক নয়। তাই ঐ ছানাটির বাংলাদেশ সফরের রহস্য আজও ব্যাখ্যা করা যায়নি।
এক হিসেবে দেখা গেছে, পৃথিবীতে এখন মাত্র এক লক্ষ শামখোল টিকে আছে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কাই তাদের শেষ আশ্রয়। বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কায় এখন শামখোলের কোন প্রজননভূমি নেই। ভারতের প্রজননভূমিতেও প্রচন্ড খরার জন্যে কোন কোন বছর শামখোলের প্রজনন বন্ধ থাকে।
এর ইংরেজী নাম Asian Openbill বা Asian Openbill Stork আর বৈজ্ঞানিক নাম Anastomus oscitans।

 

মদনটেক December 17, 2009

Filed under: সারস(Stork) — rezowan @ 4:56 pm

মদনটাক(Adjutant Stork) বিলুপ্ত প্রজাতির একটি পাখি ।সারা বিশ্বে বর্তমানে এ পাখির সংখ্যা মাত্র পাচ হাজার। তাদের মধ্যে ইনডিয়ার আসামে দুই হাজার, ইন্দোনেশিয়ায় দুই হাজার এবং কম্বোডিয়ায় আছে ৪০০। বাকি ৬০০ মদনটাক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বাংলাদেশসহ সাউথ ও সাউথ ইস্ট এশিয়ার ১২টি দেশে। এ পাখির বৈজ্ঞানিক নাম লেপটোটিলোস জাভানিকাস (Leptoptilos javanicus)। একটি পরিণত সাইজের মদনটাকের দৈর্ঘ্য ১১০ থেকে ১২০ সেন্টিমিটার।
বাংলাদেশে চট্টগ্রামের রাউজান থানার ইয়াসিন নগরে ২০০৭ সালে ধরা পড়ে প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতির একটি মদনটাক পাখি। প্রায় ১২ কেজি ওজনের এ পাখিটি এলাকাবাসী সেদিই চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় দেয়।এ বিষয়ে আরও পড়ুন

 

হাড়গিলা December 17, 2009

Filed under: সারস(Stork) — rezowan @ 4:52 pm

হাড়গিলা সারস জাতীয়। তবে চল্লিশের দশকেই হাড়গিলা বাংলা থেকে হারিয়ে যেতে থাকে। এদের গোত্র স্টর্ক। স্টর্ক-জাতীয় পাখি মাছ, গেঁড়ি গুগলী, ব্যাঙ, ইঁদুর, সাপসহ যা কিছু ঠোঁটের আওতায় আনতে পারে, সবই খেয়ে থাকে। শামুকখোল অনেক সময় চষা জমিতে শামুক খুঁজে বেড়ায়। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকে ব্যাপক হারে গাছ কাটা হলে এই পাখিদের বাসা বানানোর জায়গার সংকট দেখা দেয়। সেই সঙ্গে জলাভূমি ভরাট করে কৃষিজমি বা আবাসন গড়ে তোলায় এদের খাদ্যসংকটও চরম আকার ধারণ করে। ফলে এই পাখিগুলো বাংলাদেশ ছেড়ে আশপাশের দেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এর ইংরেজী নাম Greater adjutant আর দ্বীপদ নাম Leptoptilos dubius ।
 

সারস December 17, 2009

Filed under: সারস(Stork) — rezowan @ 3:12 am

আমাদের দেশে যত পখি আছে তার ভিতরে সারসই সব চেয়ে বড়। সারসের গায়ের অধিকাংশ পালকই ধূসর, মাথা উপরে পালক থাকেনা, পা ২টা লালচে। এরা খাল, বিল প্রভৃতি জলাশয়ের ধারে চড়ে বেড়ায় তাই একে কূলচর পাখিদের মধ্যে ধরা হয়। সুউচ্চ এই পাখিরা লম্বা লম্বা পা ফেলে জলাভূমিতে ঘুরে বেড়ায়। ইউরোপ,উত্তর আমেরিকা,এশিয়ায় ছড়িয়ে আছে এদের নানা প্রজাতি। গরমের সময় সাইবেরিয়াতেও এদের দেখা মেলে। এরা পোকা মাকর, শামুক, ব্যাঙ, গিরগিটি, নেংটি ইঁদুর, মাছ ও ছোটো জলজ প্রাণী ধরে খায় আবার কচি শাকপাতা,মূল,কন্দ, ধান, গম, যবও খায়।মাঝেমধ্যে ক্ষুধার্ত সারস বাসা ছেড়ে যাবার আগে নিজের বাচ্চাকেই খেয়ে ফেলে। সারস’রা গাছের ডালে বসতে পারেনা তাই মাটিতেই চড়ে বেড়াতে হয়।

এগুলো দলবেঁধে বাসা বাধে ও বাচ্চা প্রসব করে সাগর অথবা হ্রদপারের ঝোপঝাড়ে। পুরুষ সারস কোন পুলকিত মুহূর্তে এই পালকগুচ্ছ ফুলিয়ে নারী সারসকে বাসায় অবস্থান নেয়ার আহবান জানায়। ডিম পারে বর্ষা মৌসুমে, সে সময় ডাল পালা, খর কুটো, ঘাস ইত্যাদি জড়ো করে ভেলার মত করে তার উপর ডিম পারে। যাতে শিয়াল, কুকুর বা অন্য বন্য প্রাণী কোন ক্ষতি সাধন করতে না পরে। ঘলাটে সাদা রঙের ২টা ডিম দেয়।নারী ও পুরুষ উভয় সারসই ডিমে তা দেয়। তিন সপ্তাহ ধরে।
এরা এরা দল বেঁধে জোড়ায় জোড়ায় চরে বেড়ায় আর তাদের মধ্যে নাকি খুব ভাব থাকে। ১ জোড়া সারসের ভিতর যদি কোন একটা কোন রকমে মারা পড়ে তবে অন্যটি শোকে আহার নিদ্রা ত্যাগ করে।
সারসরা ৯৩-১০২ সে.মি. পর্যন্ত লম্বা হয় আর পাখার দৈর্ঘ ১৫০-১৬০ সে.মি., ওজনে ২-৩.৫ কেজি হয়। পুরুষ এবং মেয়ে প্রায় একই রকম। এর ইংরেজী নাম Storkএরা খুবই শান্ত, মানুষই এদের প্রধান শত্রু তবুও এরা কুকুর, বিড়াল আর মানুষের মাঝেই বসবাস করতে চায়।
এদের ৬টি Genus বা গণে (Anastomus, Ciconia, Ephippiorhynchus, Jabiru, Leptoptilos, Mycteria) ১৯টি প্রজাতি দেখা যায়। যেমন_
Painted Stork (Mycteria leucocephala)
Black-necked Stork (Ephippiorhynchus asiaticus)
Marabou Stork (Leptoptilos crumeniferus)
Woolly-necked Stork Ciconia episcopus with Black-headed Ibis
Milky Stork (Mycteria cinerea)
White Stork (Ciconia ciconia)
Black Stork (Ciconia nigra)
Wood Stork (Mycteria americana)
Yellow-billed Stork (Mycteria ibis)
Asian Openbill Stork (Anastomus oscitans)
African Openbill Stork (Anastomus lamelligerus)
Abdim’s Stork বা White-bellied Stork (Ciconia abdimii)
Woolly-necked Stork (Ciconia episcopus)
Storm’s Stork (Ciconia stormi)
Maguari Stork (Ciconia maguari)
Oriental Stork (Ciconia boyciana)
Black-necked Stork (Ephippiorhynchus asiaticus)
হলুদ চোখের সারসটা মেয়ে আর কালো চোখেরটা ছেলে
Saddle billed Stork (Ephippiorhynchus senegalensis)
Red Necked Jabiru (Jabiru mycteria)
Jabiru, jaburu, tuiuiu
 

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.