খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম

নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু January 25, 2010

Filed under: সুভাষ চন্দ্র বসু — rezowan @ 5:41 am

সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম ১৮৯৭ সালে ২৩ শে জানুয়ারি। জন্মস্থান: উড়িষ্যার কটক কে পিতার নাম জানকি নাথ বসু। মাতার নাম প্রভাতী। প্রাথমিক শিক্ষা ভারতের কটকে। কলেজ শিক্ষা কলকাতা। ডিগ্রী লাভের পর ১৯১৯ সনে তিনি ভারতের সিভিল সার্ভিসে পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হন। সম্ভবত ৪ র্থ স্থান অর্জন করেছিলেন । ভারতকে ব্রিটিশদের হাত থেকে স্বাধীন করার ইচ্ছায় তিনি তৎকালীন সময়ের সরকারি চাকুরি ত্যগ করেছিলেন। গান্ধিজির সাথে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। গান্ধীজির অহিংস আন্দোলনের প্রতি তার কোনো আগ্রহ ছিল না। গান্ধিজিকে ছেড়ে তিনি আসেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের নিকট। তার সান্নিধ্যে থেকে তিনি নিজেকে রাজনীতিতে আরো পরিপক্ক করে গড়ে তুলেন। ১৯২৪ সালে তিনি স্বদেশী বিপ্লবীদের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হন। ব্রিটিশরা তাকে বার্মার কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। ১৯২৭ সালে তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। এর মাঝে অর্থাৎ ১৯২৫ সালে তিনি মান্দালয় কারাগারে ছিলেন। ১৯২৮ সালে তিনি কলকাতায় সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়্। এ সময় তিনি বেঙ্গল ভলান্টিয়ার বাহিনী গড়েন। যার চরিত্র ছিল সামরিক। “হিন্দুস্থান সেবক দল ” নামে আরেকটি বাহিনী সেসময় তৈরী হয়েছিল । কিন্তু সে দলের সাথে এ দলের পার্থক্য হল বেঙ্গল ভলান্টিয়ার বাহিনীতে নারী ও পুরুষ বিপ্লবী ছিল। বেঙ্গল ভলান্টিয়ার বাহিনীকে সামরিক মানসিকতায় শিক্ষা প্রদান করা হয় এবং স্বাধীনতার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করা হয় এ বাহিনী প্রতিটি সদস্যকে। পরবর্তীকালে আজাদ হিন্দ ফৌজ গড়ার ক্ষেত্রে সুভাষচন্দ্র বসু এই বেঙ্গল ভলান্টিয়ার বাহিনী থেকে প্রেরণা পায়। ১৯২৯ সালে পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসে তিনি ও বিপ্লবীরা ব্রিটিশ সরকারের পাশাপাশি একটি প্যরালাল সরকার গঠন করার প্রস্তাব করেন। এভাবে তিনি বিপ্লবীদের স্বজন হয়ে উঠেন। ১৯৩১ তিনি কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের মহিরুপে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৩২ সনে তিনি আইন অমান্য করে আন্দোলনের পুরোধা হন। ব্রিটিশ সরকার তাকে কারাগারে প্রেরণ করে। । কিন্তু জনতার আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ সরকার তাকে মুক্ত করে দিতে বাধ্য হয়। ১৯৩২ সনে তিনি স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে ভিয়েনা যান।১৯৩৩ থেকে ১৯৩৬ সন পর্যন্ত তাঁকে ইউরোপে নির্বাসিত থাকতে হয়। এ সময় তিনি সমগ্র ইউরোপ ঘুড়ে বেড়ান এবং ভারতের স্বাধীনতার জন্য তীব্র প্রচার চালান।
তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রাগে,বার্লিনে,মিলানে,মিউনিখে,সোফিয়া ও রোমে সভা সমাবেশ করেন। ভারতের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বজনমত সংগ্রহ করেন এবং ভারতীয়দের সংগঠিত করেন।
সংগ্রহঃ আমার ব্লগ

 

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.