শীতের শুরুতেই আমাদের দেশের বড় বড় নিরাপদ জলাশয়গুলোতে সরালীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে। বাংলাদেশে সাধারণত দু’ধরণের সরালী দেখা যায়। ছোট সরালী ও বড় সরালী। এদের মধ্যে ছোট সরালীই আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশী দেখা যায়। সরালীকেই আমাদের দেশের বেশীরভাগ লোক অতিথি পাখি হিসেবে ভুল করে। আমাদের মিডিয়াগুলো ফলাওভাবে অথিতি পাখি হিসেবে প্রচার করে। আসলে সরালী অতিথি পাখি নয়। এরা একেবারেই আমাদের দেশীয় পাখি। শীতকালে এরা কলোনি বেঁধে থাকে। একসঙ্গে খাবারের সন্ধানে এরা সন্ধ্যায় বেরিয়ে পড়ে। আবার ভোর হতে না হতেই ফিরে আসে শিস দিতে দিতে। এদের প্রিয় খাবারের তালিকায় থাকে উদ্ভিদের কচি ডগা, ফলমূল, শ্যাওলা, শামুক, ছোট মাছ ও ব্যাঙ। বর্ষাকালে এরা জোড়ায় জোড়ায় থাকে। কারণ এসময় এদের বাসা বানাবার সময়। শীতকালে মিরপুর চিড়িয়াখানা, জাবি ক্যাম্পাস, বঙ্গভবন পুকুর, বিএলআরএ, মুন্সিগঞ্জের ইন্দ্রকপুর, দেশের বিভিন্ন বিল, হাওড়-বাওড়, নদী-নালা, খালে এদের ঝাঁকে ঝাঁকে দল বেঁধে থাকতে দেখা যায়। ছোটখাটো ধরণের এ পাখিটি লম্বায় প্রায় ৪০সেমির মত। সরালীর মত ছোট বাদামী রঙের হাঁস আমাদের দেশে নেই বললেই চলে। লেজের উপরিভাগের পালকগুলো চেস্টনাট, মাথার টুপিটি গাঢ় বাদামী। পা ও ঠোঁট কালো। সরালী ৭-১০টি ডিম পাড়ে। ডিমের রঙ সাদা। তবে ডিমে তা দেওয়ার পর ফ্যাকাসে বাদামি রঙ ধারণ করে। গত ক’বছর ধরে দু’একটি সরালীর জোড়া জাবি ক্যাম্পাসে বাচ্চা ফোটাচ্ছে। শ্বেত বা অ্যালবিনো সরালী দেখা খুবই বিরল একটা ঘটনা।
শ্বেত সরালী January 10, 2010
গেছো হাঁস December 24, 2009
উপমহাদেশের সবচেয়ে ছোট আকৃতির হাঁস (৩৩ সেঃ মিঃ) গেছো হাঁস (Nettapus coro-mandelianus) বড় বিল বা দীঘির পাড়ের গাছে বা জলে অনেকেই দেখে থাকবেন। সারা বছরই এরা এদেশে থাকে তবে বর্ষাকালে এদের গতিবিধি বেড়ে যায়, তখন ঘনকালো আকাশে সাদাকালো এই হাঁসগুলোর ডাক ছেড়ে ওড়াওড়ি অনেকেই দেখেছেন। গেছো হাঁসের (Cotton Pgymy Geese) পুরুষগুলোর গলা বুক ধবধবে সাদা, বুকের নিচে কালো রিং পরানো, পেটের দিকে ধূসর, পাখা কালোর উপর সবুজের আভা, নিচের দিকের পাখা সাদা কালোয়, লেজ সুচারো, মেয়েগুলো মোটামুটি কমবেশি ধূসরে বর্ণিল, উভয়ের চোখ লাল।
বাদি হাঁস December 24, 2009
রাজহাঁসের মতো বড় (৮১ সেঃ মিঃ) বাদি হাঁস (Cairina Scutulata) পার্বত্য চট্টগ্রামের পাবলাখালীর জলাভূমিতে এখনও টিকে থাকার সম্ভাবনা আছে। আমাদের এলাকায় ১২ জোড়া হাঁসসহ সমস্ত পৃথিবীতেই প্রাকৃতিক অবস্থায় এদের সংখ্যা ১৫০টির বেশি হবে না। অত্যন্ত বিপদাপন্ন এই প্রাণীটি WWF-এর সহযোগিতায় ভারতে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা সফলতা পেয়েছেন। আমাদেরও অসফল হবার কারণ নেই।
লালশির হাঁস December 24, 2009
বাংলার একেবারে নিজস্ব লালশির হাঁস (Pink-headed Duck) ১৯৩৫ সালের পর পৃথিবীতেই আর দেখা যায়নি। ১৮৬৪ সালে জার্ডন বলেছেন এই হাঁস বাংলায় প্রচুর আছে। কলকাতায় সেই সময় এই হাঁস ঘরে পোষা হত। প্রায় চখার আকারের (৬০ সেঃ মিঃ) এই লালশির হাঁসের (Rhodonessa caryophyllacea) মাথার দিকটা ঘাড় বেয়ে গোলাপী, শরীরে গাঢ় বাদামী, পাখার গোড়ায় সাদা দাগ, ডগায় হালকা গোলাপী, ঠোঁট হলদে গোলাপী, পা কালচে বাদামী।
জলজ হাঁস December 20, 2009
জলজ হাঁস যার ইংরেজী নাম waterfowl এরা Anseriformes বর্গের Anatidae পরিবারের সদস্য।এরা খুব দক্ষ সাঁতারু, মাংস ও ডিমের জন্য পোল্ট্রি ফার্ম ও বাসাবাড়ীতে এর চাষ হয়।
বুনো হাঁস December 17, 2009
বুনো হাঁস যাকে ইংরেজীতে বলে Wigeon । এদের genus Anas। এরা ৩ প্রজাতির হয়ে থাকে।
১. Eurasian Wigeon (Anas penelope): এরা আকারে 42–50 cm (20 inches) আর পাখাসহ বিস্তৃতি 71–80 cm (32 inch), ওজন 1.5 pounds। পুরুষ ও স্ত্রী হাঁস দেখতে আলাদা।
ঝুটি হাঁস December 5, 2009
এরা আকারে মাঝারি ধরনের। পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ হাঁসটি দেখতে একেবারে কালো তবে ডানা থেকে নিচের অংশের দিকের পালক সাদা।
মেয়ে হাঁসগুলোর চেয়ে ছেলে হাসগুলো মাথার ঝুটি ভালো ভাবে দৃশ্যত।
এরা প্রধাণত northern Eurasiaতে থাক। এছাড়াও United States, Canada, United Kingdom ও southern Asiaতেও দেখা যায়।
বড় ভুতিহাঁস December 5, 2009
বড় ভুতিহাঁস eastern Asia, Southeast Russia, north-east China তে দেখা যায়। এরা আকারে ভুতিহাঁসের মতই তবে দেখতে আলাদা।এর ইংরেজী নাম Baer’s Pochard ও বৈজ্ঞানিক নামAythya baeri।পুরুষ ও মহিলা বড় ভুটিহাঁস দেখতে প্রায় একই রকম।
ভুতিহাঁস December 5, 2009
ভুতিহাঁস মাঝারী আকারের হাঁস যার ইংরেজী নাম Fudge Duck বা Ferruginous Duck ও বৈজ্ঞানিক নাম Aythya nyroca। এই হাঁস eastern Europe, north Africa এবং southern ও western Asia দেখা যায়।
বামুনিয়া হাঁস December 5, 2009
বামুনিয়া হাঁস বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ছাড়াও আইসল্যান্ড, ওয়েষ্টার্ণ ইউরোপ, সাইবেরিয়া, western Yakutia, স্পেন, ফ্রান্স, তিউনিশিয়া, বলকান, কাজাকিস্থান, চীন ও কেনিয়াতেও দেখা যায়।
এরা দেশ ভেদে নানা নামে পরিচিত_Northern Pochard, European Pochard, Eurasian Pochard, Pochard, Fuligule milouin, Milouin d’Europe Tafelente Porrón Europeo Brunand Tafeleend Moriglione, Moriglione europeo ইত্যাদি আর বৈজ্ঞনিক নাম Aythya ferina।
















Recent Comments