ফাল্গুন মাসজুড়ে গোপালগঞ্জ জেলার মতুয়া সম্প্রদায়ের কিশোরীরা হেচড়াপূজার আয়োজন করে। হেচড়াপূজার আয়োজন হিসেবে গ্রামের মেয়েরা বাড়ির ভেতর বা বাইরের উঠানে ফাল্গুন মাসের শুরুতে কুল বা বরইগাছের একটি শাখা পুঁতে দেয়। সেই শাখায় সাত রকম দেশি ফুল সাজিয়ে হেচড়াপূজার আস্তানা তৈরি করা হয়। প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় সেই আস্তানার সামনে বসে গ্রামের মেয়েরা সমবেত কণ্ঠে হেচড়াপূজার গান গেয়ে থাকে।
সাধারণত গ্রামের মেয়েরা বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে মুক্ত থাকার জন্যই এই পূজা ও গান করে থাকে। এটা মূলত গ্রামজীবনের ঘরোয়া উত্সব। গানের কথা সাধারণত এ রকম—
‘মনের মতো করব পূজা মা তোমার ওই চরণে
ফুলও দিব জোড়ায় জোড়ায় মা বসন যত লাগে
মনের মতো করব পূজা মা তোমার ওই চরণে
মালা দিব জোড়ায় জোড়ায় মা বসন যত লাগে
মনের মতো করব পূজা মা তোমার ওই চরণে
শাঁখা দিব জোড়ায় জোড়ায় মা বসন যত লাগে
মনের মতো করব পূজা মা তোমার ওই চরণে’
গোপালগঞ্জের মতুয়াদের এই হেচড়াপূজার কথা বলতে গেলে তাঁদের প্রধান মেলাটির কথাও বলতে হয়। মতুয়াদের প্রতিষ্ঠিত সর্বপ্রধান মেলার নাম বারুণী মেলা। মতুয়ারা বলেন মহাবারুণী। প্রতিবছর মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী অর্থাৎ চৈত্র মাসের পূর্ণিমার আগের দিন হরিচাঁদ ঠাকুরের লীলাক্ষেত্র গোপালগঞ্জ জেলার ওড়াকান্দি গ্রামে সপ্তাহব্যাপী এই মেলা শুরু হয়।
Recent Comments