খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে ক্ষমতায় যায় মহাজোট: আবদুল জলিল October 5, 2009

আওয়ামী লীগ সাংসদ আবদুল জলিল বলেছেন, মহাজোট সরকারের বিপুল বিজয় ও ক্ষমতায় যাওয়ার পিছনে ছিল বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে সমঝোতা। লন্ডনে স্থানীয় বাংলা টিভির সঙ্গে সাক্ষাত্কারে তিনি আরও বলেন, বর্তমান মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিজিএফআই) সদস্যদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন। এই সাক্ষাত্কারে তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা সম্পর্কেও বিরূপ মন্তব্য করেন।

জানা গেছে, বাংলা টিভির স্টুডিওতে ধারণ করা ৪২ মিনিটের ওই সাক্ষাত্কারটি ‘জনতার মঞ্চ’ নামের অনুষ্ঠানে প্রচারের কথা ছিল। তবে বাংলা টিভি কর্তৃপক্ষ সাক্ষাত্কারটি প্রচার বন্ধ রেখেছেন। এ ব্যাপারে কোনো মহল থেকে বাধা রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলা টিভির নিউজ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক শাসছুল আলম জানান, অনুষ্ঠান প্রচারম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। ঠিক কবে নাগাদ এই অনুষ্ঠান প্রচার হবে বা আদৌ প্রচার হবে কি না এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
এদিকে ব্রিটেনে মার্কেন্টাইল মানি একচেঞ্জ উদ্বোধন করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল। গতকাল বৃহস্পতিবার বার্মিংহামের কভেন্ট্রিতে পর্যটন ট্রাভেল গ্রুপ লিমিটেডের মানি একচেঞ্জ শাখা উদ্বোধন করতে আসলে ৭-৮ জন অজ্ঞাত পরিচয়ের যুবক ট্রাভেল এজেন্টে ঢুকে আবদুল জলিলের ওপড় চড়াও হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। এ সময় তাঁরা আওয়ামী সভানেত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে আবদুল জলিলের মন্তব্যের ব্যাখা দাবি করেন।
বার্মিংহামের কভেন্ট্রিতে অবস্থিত পর্যটন ট্রাভেল গ্রুপের পরিচালক সুলতান আহমেদ ওরফে জালাল উদ্দীন প্রথম আলোকে জানান, দুর্বৃত্তদের সবাই ছিল বাঙালি। তবে তিনি কাউকেই সনাক্ত করতে পারেননি।
জানা গেছে, ব্রিটেনের সময় আনুমানিক বিকেল তিনটার দিকে অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই যুবকেরা আবদুল জলিলকে লাঞ্ছিত করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আব্দুল জলিলকে পেছনের দরজা দিয়ে বের করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, গত মঙ্গলবার লন্ডনের স্যাটেলাইট চ্যানেল বাংলা টিভিতে প্রচারিত সাক্ষাত্কারে আবদুল জলিলের বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে আওয়ামী লীগ সমর্থতেরা এই ঘটনা ঘটাতে পারে। তবে আবদুল জলিলের এমন লাঞ্ছিত হবার পেছনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর চেয়ারম্যান সুলতান শরীফ। তিনি বলেন, আবদুল জলিল একজন মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিতে তিনি ত্যাগী নেতা হিসাবেই পরিচিত, সেই সঙ্গে তিনি আমাদের উপদেষ্টা, তাঁর ওপর এ ধরণের আক্রমন অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি মনে করেন, আবদুল জলিলের ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষরা এ ধরণের কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।

 

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.