শীতে আসলে অনেকেরই হাত-পা ঘামে । ফলে পোহতে হয় নানা দুর্ভোগ। আবার পা ঘেমে যাওয়ার কারনে এ থেকে সৃষ্টি হতে-পারে দুর্গন্ধ। এ নিয়েও অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় অনেককে।
হাত-পা ঘামলে..
হলিফ্যামিলি হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক আফজালুল করিম বলেন, হাত-পা কেন ঘামে তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো বের করা যায়নি। তবে বংশগতভাবে এ রোগ থাকা, শরীরের ভেতরের ভারসাম্যহীনতা, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা প্রভৃতি কারনে হাত-পা ঘামতে পারে। সাধারণত তিনভাবে হাত-পা ঘামা কমানো যেতে পারে। এক হলো অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত এক ধরনের বিশেষ লোশন হাত-পায়ে ব্যবহার কারলে হাত-পা ঘামা কমে যায়। আর একটি হলো বিশেষ ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রে হাত-পা সেঁকে নিলে হাত-পা ঘামা কমে যাবে। পরবর্তী সময়ে এটি দেখা দিলে আবার একইভাবে সেই বৈদ্যুতিক যন্ত্রে হাত-পা সেঁকে নিতে হবে। এসব পদ্ধতি ছাড়াও একটি বিশেষ ধরনের নার্ভের অস্ত্রোপচার করেও হাত-পা ঘামা কমানো যায়। এই অপারেশন নিউরো সার্জনরা করিয়ে থাকেন। তবে হাত-পায়ের ঘাম রোধে যা-ই করা হোক না কেন, তা করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
পায়ের দুর্গন্ধের কারণ
পায়ের দুর্গন্ধের প্রধান কারণ পায়ের ঘাম। আফজালুল করিম জানালেন, ঘেমে যাওয়া পায়ে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে। এ ছাড়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জুতার ভেতর থেকে ঘাম বেরোতে পারে না। অনেকক্ষণ এমন অবস্থায় থাকার ফলে পা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এ ছাড়া জুতা ও মোজা নিয়মিত না পরিষ্কার করলেও পা ও জুতা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে।
কী করবেন
পা থেকে দুর্গন্ধ দূর করতে কী করবেন? এ নিয়ে জানালেন ছেলেদের সৌন্দর্য চর্চার প্রতিষ্ঠান রেজরস এন সিজরসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সব সময় পা পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে এসে পায়ে শ্যাম্পু লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে পরিষ্কার করে শুকনো তোয়ালে দিয়ে পা মুছে ফেলতে হবে।
প্রতিদিন ব্যবহার করা মোজা ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে ব্যবহার করতে হবে। জুতাও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। জুতার মধ্যে পাউডার দিতে পারেন। প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে এসব রোদে দেওয়া যেতে পারে। সুতি মোজা ব্যবহার করাই ভালো কারণ এতে পা কম ঘামে ও ঘাম শোষণ করে। আর যাঁদের পা বেশি মাত্রায় ঘামে, তাঁরা বেশি ঘাম শোষণ করতে পারে এমন জুতা কিনতে পারেন।
হাত-পা ঘামছে? November 11, 2009
চুলের যত্ন নিন November 11, 2009
ছেলেদের চুল নিয়ে অনেকে নানা সমস্যায় ভোগে। তখন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় চুল। কীভাবে চুলের যত্ন নিলে সমস্যা দূর হবে, অনেকেই তা ঠিকমতো জানে না।
এ সময় আবহাওয়া কিছুটা শুষ্ক। বাতাসে ধুলোবালির পরিমাণও বেশি, তাই চুল রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি চুল পড়া, চুলের ডগা ফেটে যাওয়া, চুল ভেঙে যাওয়াসহ বিভিন্ন চর্মরোগও দেখা দিতে পারে। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগায় চুলের খুশকি। এ থেকেই বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চুলের যত্নের নানা দিক নিয়ে কথা বললেন পারসোনা এডামসের রূপসজ্জাশিল্পী দেলওয়ার হোসেন। চুলের যত্নে তিনি দিলেন নানা টিপস
চুল সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। এতে চুলে খুশকির পরিমাণ কমে আসবে। শুকনো চুল দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার ভালো করে চিরুনি দিয়ে আঁচড়ান। এতে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন সচল থাকবে। এতে চুল থাকবে সতেজ ও সুন্দর। মাথা ভেজা অবস্থায় চুল না আঁচড়ানোই ভালো।
সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন তেল গরম করে মাথায় অন্তত ২৫ থেকে ৩০ মিনিট ম্যাসাজ করতে হবে। এরপর তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে ভালোভাবে চেপে মাথায় তিন-চার মিনিট পেঁচিয়ে রাখতে হবে। এরপর অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।
মাথায় খুশকি হলে পেঁয়াজের রস দিয়ে ভালোভাবে মাথা ম্যাসাজ করে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে যে স্থানে খুশকি রয়েছে, সেখানে এ রস লাগাতে হবে। এরপর শ্যাম্পু লাগিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
চুলের উজ্জ্বলতা ফিরে পেতে রাতে রিঠাফল অথবা চায়ের পাতা ভিজিয়ে রেখে সকালবেলা ওই পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেললে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
হেয়ার স্যালন থেকে ডিপ কন্ডিশনার ট্রিটমেন্ট অথবা হেয়ার শাইনিং ট্রিটমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া চুলের মধ্যে শুষ্ক ভাব বা জটের আধিক্য দেখা দিলে ড্যামেজড হেয়ার ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন। সঙ্গে অন্তত দুবার প্রোটিন চিকিত্সা নিতে পারেন।
কলা, ডিমের কুসুম, আপেল, পেঁপে, আঙুর, কমলা ইত্যাদি ব্লেন্ডারে মিশিয়ে ৩০-৪০ মিনিট চুলে লাগিয়ে রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুলে চুলের রেশমি ভাব ফিরে আসবে।
লম্বা বা বড় চুল রাখতে হলে প্রতি মাসে অন্তত ১৫ দিন পরপর চুলের ডগার ফাটা অংশ কেটে ফেলতে হবে। ডগা ফাটা থাকলে চুলের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়। লম্বা চুলে খুশকির প্রবণতা বেশি হলে টকদই, লেবুর রস ও নিমপাতার রস একত্রে মিশিয়ে ৩০ মিনিট চুলে লাগিয়ে রেখে তা ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে দুই দিন এভাবে করলে ভালো ফল পেতে পারেন।
চুল শুকাতে যতটা সম্ভব হেয়ার ড্রায়ার এড়িয়ে চলুন, এর অতিরিক্ত ব্যবহারে চুল শুষ্ক ও রুক্ষ হতে পারে। চুলের জট ছাড়াতে মোটা দাঁতের চিরুনি কার্যকর। প্রখর রোদেও চুল শুকানো উচিত নয়, এতে চুলের ডগা ফেটে যেতে পারে।
রাস্তায় চলার সময় লম্বা চুল খোলা না রাখাই ভালো। কারণ, ময়লা ও ধুলোবালিতে চুল রুক্ষ ও শুষ্ক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ক্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। তবে তা আবার দীর্ঘ সময় ধরেও ব্যবহার করবেন না।
সপ্তাহে অন্তত একবার হারবাল অয়েল ট্রিটমেন্ট নিলে চুলের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়।
চুলের সৌন্দর্যের ওপর নির্ভর করে অনেক কিছুই। চুলের যত্নে সচেতনতাই আপনার চুল রাখবে সুস্থ ও স্বাভাবিক।
মাথায় ক্যাপ, টুপি বা হেলমেটের ব্যবহার ও সতর্কতা
মাথা ও চুলকে ধুলোবালি থেকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন টুপি বা ক্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। যাঁরা মোটরসাইকেল চালান, তাঁদের নিয়মিত হেলমেট ব্যবহার করতে হয়। দীর্ঘসময় হেলমেট, টুপি পরে থাকলে চুলে নানা সমস্যা দেখা দেয়। এতে চুলের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়্য। বৃদ্ধি পেতে পারে খুশকি। এ ছাড়া হেলমেট বা ক্যাপ ব্যবহারে চুলে ঘাম জমে তা নরম হয়ে যায়; ফলে চুল পড়ে যায়। এসব সমস্যা এড়াতে হেলমেট ব্যবহারের আগে মাথায় পাতলা কাপড়ের স্কার্ফজাতীয় কিছু পরে নিতে পারেন। হেলমেট ব্যবহারের আগে প্রতিদিন সকালবেলা তা রোদে শুকাতে দিতে হবে।
হেলমেট ব্যবহার করলে মাঝেমধ্যে কুসুম গরম তেল ২০-২৫ মিনিট মাথায় ম্যাসাজ করে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে হবে। আর ক্যাপ বা টুপি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম মানতে পারেন। ফলে ক্যাপ, টুপি, হেলমেট ব্যবহারের পরও আপনার চুলের সমস্যা হবে না। চুলে ঠিকমতো আলো-বাতাস লাগতে দিন। ধুলো এড়িয়ে চলুন, এতে ভালো থাকবে আপনার চুল।
কোমল পানীয়তে বিপত্তি November 4, 2009
কোল্ডড্রিংসের মূল উপাদান যদিও পানি কিন্তু একে সুস্বাদু আর দৃষ্টিনন্দন করতে মেশানো হয় নানান ধরনের রাসায়নিক পদার্থ। কোল্ডড্রিংসের বিপত্তি বলতে খুব সাধারন এক সমিৰায় দেখা গেছে যারা প্রতি মাসে অনত্দত একবার কোল্ডড্রিংস পান করে থাকেন তারাও টাইপ টু ডায়াবেটিকস এর ঝুঁকিতে ভোগেন। এ থেকেই অনুমান করা যায় কোল্ডড্রিংসের ৰতির কথা। এর কারণ হলো কোল্ডড্রিংসের চিনি আর অতিরিক্ত ক্যালরি। আর তাই কোল্ডড্রিংসের কারণে খুব দ্রম্নতই ওজন বেড়ে যায়। ওজন বাড়ার সাথে সাথে শুরম্ন হয় নানান ধরনের ওজন জনিত সমস্যা। শরীরটাকে কমিয়ে আনতে যারা প্রতিদিন সকাল-বিকাল নানান কসরৎ করে থাকেন তারা হয়তো নিজের অজানত্দেই প্রতি নিয়ত বোতলে বোতলে এই কোমল পানীয় পান করে চর্বি জমাচ্ছেন। অপর পৰে কোল্ডড্রিংস কিন্তু শুধুই ক্যালোরি বৃদ্ধি করে কিন্তু পেট ভরায় না। ফলে আরো খেতে ইচ্ছে করে।
অনেক সময়ই আমরা ফাস্টফুডের সাথে কোল্ডড্রিংস পান করে থাকি। এতে ঘটনাটা আরো খারাপ পর্যায়ে যায়। খাবারের সাথে কার্বনেটেড চিনি-পানি পেটে মারাত্মক এসিড ফর্ম করতে পারে। বিশেষ করে তৈলাক্ত খাবার, ভাজা-পোড়া খাবারের সাথেই আমরা কোল্ডড্রিংস বেশী খাই। আর সেখান থেকেই ঘটে বিক্রিয়া। খাবার থেকে অতিরিক্ত তেল আর কোল্ডড্রিংসের ক্যালরি মিশে আমাদের শরীরে থরে থরে জমতে থাকে মেদ। চট করে এই মেদ ধরা পরে না বলে তরম্নন-তরম্ননীরা হয়তো এই পানিয়ের ৰতিটায় প্রভাবিত হন না। কিন্তু একটা সময় যখন শরীর ভারি হয়ে পড়বে তখন কোল্ডড্রিংস থেকে বিরত থাকলেও জমে যাওয়া চর্বি জন্ম দেবে অনেক রকম অসুস্থতার।
তরম্নন আর উদ্যোমী থাকতে প্রয়োজন শক্ত দৃঢ় হাড়। কিন্তু আপনার প্রিয় কোমল পানীয় এই হাড়ে ৰয় ধরাতে পারে। এর প্রধান কারণ কোমল পানীয়ের কার্বোনেটেড যেকোন পানীয়ে থাকে ফসফরিক অ্যাসিড যা হাড়ের স্বাস্থ্যের ৰতি করে। এই ফসফরিক এসিড এতোটাই খারাপ যে এর প্রভাবে হাড়ের স্বাভাবিক উন্নতিতে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম খেলেও তা আপনার শরীরে অকার্যকর হয়ে থাকবে।
কোল্ডড্রিংস থেকে বাঁচতে
খাবার পানীয় হিসেবে সবচেয়ে উপযোগী হলো পানি। তৃষ্ণা মেটাতে কেবলই বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিৎ। এর কোনো বিকল্পই নেই। চেষ্টা করম্নন এক বোতল পানি সবসময় সঙ্গে রাখতে। এতে পথে ঘাটে আপনাকে কোমল পানীয় দিয়ে তৃষ্টা মেটাতে হবে না। সারাদিন পানির পাশাপাশি চা, কফি, লাচ্ছি, দুধের সরবত, ফলের জুস খেতে পারেন। বাড়িতে নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন আইস টি। এখন সুপার শপগুলোতে কিনতে পাওয়া যায় নানা রকম আইস টি। নিয়ম করে যদি আপনি কোমল পানিয় এড়িয়ে চলতে পারেন তাহলে অর্থ আর স্বাস্থ্য দুটোই রৰা হবে।
ক্লান্তির ছাপ পড়বে না মুখে October 27, 2009
কাল রাতভর জেগে অনেক কাজ করতে হয়েছে? ভালো ঘুম হয়নি? আগামীকাল অফিসে বা অন্য কোথাও কোনো জরুরি মিটিং আছে বা অনুষ্ঠান আছে, যেখানে চেহারাটা একটু সতেজ থাকা প্রয়োজন। অথচ আগের রাতে ঘুমের অভাবে চোখের কোণে পড়েছে গাঢ় কালি। চেহারাটাও দেখাচ্ছে ক্লান্ত। এ সমস্যা দূর করতে পারসোনার সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাসের সঙ্গে কথা বলে কিছু টিপস দেওয়া হলো:
চোখের ফোলা ভাব ও কালো দাগ
চোখের ফোলা ভাব ও ক্লান্তি দূর করতে কানিজ আলমাসের পরামর্শ হলো—আগের রাতে ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা ব্যবহূত টি-ব্যাগ দিয়ে ১৫ মিনিট শুয়ে থাকবেন। তারপর চোখ থেকে কান পর্যন্ত হালকা ম্যাসাজ করলে ক্লান্তি কেটে যাবে। পার্টিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি চোখের হালকা মেকআপের প্রতি জোর দিয়েছেন। অন্যান্য দিন যাঁরা মাশকারা বা আইশ্যাডো ব্যবহার করেন না, তাঁরা কাজল, মাশকারা, ম্যাট পাউডার, আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। তবে তা হালকা রঙের হতে হবে। চোখের নিচের কালো দাগ ঢাকার জন্য কনসিলার লাগাতে পারেন। কনসিলার ব্যবহার করা হয় ত্বকের কালো দাগ, ত্রুটি ও দাগজনিত বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রে। এটি বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। তবে চোখের কালো দাগ ঢাকতে পেনসিল, লিকুইড বা ক্রিম কনসিলার খুবই উপযোগী। এটি আবার বিভিন্ন রঙেরও হয়ে থাকে। যেমন: কালো, গোলাপি, হলদে, জলপাই, কমলা, সাদা, বাদামি ইত্যাদি। চোখের চারপাশের কালো দাগ দূর করার জন্য হলদে, জলপাই ও কমলা কনসিলার খুবই ভালো। যাঁদের গায়ের রং ফরসা তাঁদের হালকা রঙের কনসিলার ব্যবহার করাই ভালো। চোখের কালো দাগের জায়গায় দাগের চেয়ে এক বা দুই রঙের হালকা শেডের কনসিলার ব্যবহার করুন। সব সময় ওপর থেকে নিচে করে ত্বকের সঙ্গে এটি মিশিয়ে নিতে হয়। অবশ্যই কনসিলার লাগানোর পর ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার লাগাতে ভুলবেন না। এটি লাগানোর পর যদি বেশি গাঢ় মনে হয়, তাহলে অল্প আইক্রিম হালকাভাবে তার ওপর লাগিয়ে নিতে পারেন।
চুল
অফিসে যাওয়া নারীদের ক্ষেত্রে চুলে পাঞ্চক্লিপ ও ব্যান্ড দিয়ে অথবা বেণি করে বাইরে গেলেও তাঁদের বেশ স্মার্ট দেখায়। আর স্কুল-কলেজ বা ইউনিভার্সিটি-পড়ুয়া মেয়েরা চুলে ব্লোড্রাই করা থাকলে খুলে রাখতে পারেন কিংবা পনিটেল করে চুল বাঁধতে পারেন।
ঠোঁট
ঠোঁটে হালকা রঙের লিপস্টিক অথবা গ্লস যেকোনোটিই ব্যবহার করতে পারেন।
পানি পান করুন
গরমে প্রচুর পানি পান করতে হবে। একই সঙ্গে সালাদ, টাটকা, খাবার ও লাল চা খেতে পারেন। এতে ত্বকে আর্দ্রতা বজায় থাকবে ও সতেজ লাগবে।
অবশেষে আপনার পছন্দমতো উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরতে পারেন। তবে সব সময়ই খেয়াল রাখতে হবে তা যেন আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই হয়। না হলে আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশে সহায়ক না হয়ে ক্ষুণ্নও করতে পারে। তারপর নিজেকে আয়নার সামনে দেখুন সকালের আলোর জন্য আপনি কতটুকু সুন্দর হলেন।
ঝকঝকে ত্বক ঝরঝরে চুল October 14, 2009
সময়মতো কাশফুল ফুটেছে ঠিকই কিন্তু শরতের আকাশে যেমন থাকার কথা, তেমন সাদা তুলোর মতো মেঘের দেখা নেই। সারা দিন থেমে থেমে ঝরছে বৃষ্টি। ফাঁকে ফাঁকে আবার রোদের দেখাও মিলছে। সব মিলিয়ে না গরম, না ঠান্ডা। এমন সময়ে ত্বক ও চুলের যত্ন কেমন হবে, তা ভাবছেন অনেকেই। এ নিয়েই নানা পরামর্শ দিয়েছেন হারবাল সলিউশনসের স্বত্বাধিকারী সুলতানা পারভীন হক।
‘বাতাসে এখন আর্দ্রতা খুব বেশি। এর প্রভাবেই হতে পারে ত্বক ও চুলের নানা সমস্যা। চুল ঘেমে গিয়ে খুশকি হতে পারে। আবার খুশকি থেকে ত্বকে হতে পারে ব্রণ। একটু সতর্কতার সঙ্গে তাই নিয়মিত যত্ন নিতে হবে এ সময়।’ বললেন সুলতানা পারভীন হক।
ত্বকের জন্য
ত্বক নিয়মিত পরিষ্কার করাটাই সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করেন সুলতানা পারভীন হক। সকালে, দিনের যেকোনো সময় আর রাতে ঘুমানোর আগে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুতে হবে। যত নরম সাবানই হোক, তাতে ত্বকের জন্য ক্ষতিকর নানা উপাদান থাকে। নিয়মিত সাবান ব্যবহারে মুখের ত্বকে বলিরেখা পড়তে পারে। মুখের ত্বকে তাই সাবান ব্যবহার না করাই ভালো। সপ্তাহে এক দিন যেকোনো স্ক্রাব দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। ত্বকে যাতে তেল না জমে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। নইলে তেল আর ময়লা জমে ব্রণ হতে পারে। ত্বকের তেলতেলে ভাব কাটাতে কমপ্যাক্ট পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। বরফ দিয়ে ম্যাসাজ করলেও উপকার পাবেন। রাতে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে ঘুমালে অবশ্যই ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। যে প্রসাধনীই ব্যবহার করবেন, খেয়াল রাখবেন, তা যেন নামী কোনো কোম্পানির তৈরি হয়।
চুলের জন্য
এ সময় প্রতিদিন চুল ধুতে হবে। যাঁরা বাইরে বেশি কাজ করেন, তাঁরা সম্ভব হলে প্রতিদিনই চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে কন্ডিশনার লাগান। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন গরম তেল ম্যাসাজ করুন। নারকেল তেলই চুলের জন্য সবচেয়ে ভালো। সারা রাত লাগিয়ে রেখে পরদিন শ্যাম্পু করুন। এতে ঘুমও ভালো হবে। তেলের সঙ্গে যেকোনো প্রোটিনসমৃদ্ধ প্যাকও লাগাতে পারেন। ডিম, আমলা, টকদই, এসব দিয়ে তৈরি প্যাক লাগাতে পারেন। রাতে ঘুমানোর আগে চুল ভালো করে আঁচড়ে নিন। লম্বা চুল হলে পাতলা স্কার্ফ দিয়ে মুড়িয়ে ঘুমাতে পারেন। চুলের ডগা ফেটে যাওয়ার ভয় থাকবে না। দিনে চলাফেরার সময় চুল বেঁধে রাখলে কম ময়লা হবে। খুশকি থেকে বাঁচতে চুল সব সময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। চুল ধুয়ে ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিন।
ত্বক পরিচর্যায় স্ক্রাব October 7, 2009
ত্বক পরিষ্কার করা বলতে আমরা ক্লিনজিংই বুঝি। নিয়মিত তা করলেও গুরুত্বপূর্ণ একটা ধাপ কিন্তু প্রায়ই বাদ পড়ে যায়। তা হলো স্ক্রাবিং।
‘আমরা নিয়মিত যে ফেইস ওয়াশ ব্যবহার করে ত্বক পরিষ্কার করি তা মূলত ত্বকের উপরিভাগকেই পরিষ্কার করে, ত্বকের লোমকূপ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। স্ক্রাব ব্যবহারের ফলে ত্বকে লোমকূপের রন্ধ্রে যে ময়লা জমে তা ভালোভাবে পরিষ্কার করা যায়। পাশাপাশি ত্বকও পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি।’ ত্বক পরিচর্যায় স্ক্রাবের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে এভাবেই বলছিলেন রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা আরমান।
ঘরে বসে ভেষজ উপাদান দিয়ে আপনি নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন আপনার ত্বকের উপযোগী স্ক্রাবটি। স্ক্রাব তৈরিতে যে পানি ব্যবহার করবেন তা ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিন। ফলমূল বা শাকসবজি ছেঁচে রস করার আগে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন এবং এগুলো টাটকা দেখে বেছে নিন। বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন স্ক্রাবটি।
মুলতানি মাটির গুঁড়ো ২ চামচ, ১ চামচ গোলাপ জল, পাকা পাতি লেবুর রস এক চামচ, ১০ ফোঁটা ওডিকোলন মিশিয়ে তুলোর প্যাডের সাহায্যে মুখমণ্ডলে লাগান। ২০ মিনিট পর প্রথমে ঠান্ডা পানি ও পরে কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন।
দুই চামচ শসার রস, একটি মুরগির ডিমের সাদা অংশ, পাতি লেবুর রস আধা চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন।
তিন চামচ মসুর ডাল, এক চামচ শসার রস, এক চামচ মধু একসঙ্গে মেশান। তারপর মুখমণ্ডলে লাগান। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
টমেটোর রসও স্ক্রাব হিসেবে খুব উপকারী। এটি মুখের রোদে পোড়া কালো দাগ দূর করে।
চার চামচ দুধ, দুই চামচ ময়দা, তিন চামচ গোলাপ জল ব্যবহার করতে পারেন স্ক্রাব হিসেবে।
চার চামচ বেসন, এক চামচ চিনাবাদাম বাটা, দুই চামচ গাজরের রস মিশিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন স্ক্রাব।
দুই চামচ চন্দন বাটা, এক চামচ মুলতানি মাটি, সঙ্গে মধু মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
যাদের ত্বক শুষ্ক ওপরের যে উপাদানটিই স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করতে চান তারা এর সঙ্গে এক চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন।
স্ক্রাব মুখে থাকা অবস্থায় কথা বলবেন না। এতে ত্বকের ক্ষতি হয়। স্ক্রাব ব্যবহারের পর খুব ভালোভাবে মুখমণ্ডল ধুয়ে ফেলুন। হালকাভাবে ঘড়ির কাঁটার দিকে অথবা বিপরীতে ম্যাসাজ করতে পারেন। এতে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে এবং ত্বক আরও বেশি সজীব হবে।
যারা অনেক বেশি ব্যস্ত থাকেন, তারা কাজ সেরে নিজের জন্য একটু সময় বের করে নিন। এ ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন বাজারে পাওয়া বিভিন্ন ধরনের স্ক্রাব।
বাজারে এই সময়ে যেসব স্ক্রাব পাওয়া যাচ্ছে তার মধ্যে এপ্রিকট ফেসিয়াল স্ক্রাব পাবেন ৫৫০ টাকায়। সিকে ওয়ান ফেসিয়াল স্ক্রাব ১৮০ টাকায়, অয়েল ফ্রি একনে ওয়াশ (নিউট্রেজিনা) ৭১০ টাকায়, ইয়ং চিন ডার্ক স্পট ফেস স্ক্রাব ২২০ টাকায়, লরিয়েল ৫৫০ টাকায়, লেডি ডায়না ১৮০ টাকায়, ওলে টোটাল ইফেক্ট ২৭৫ টাকায়।
ছেলেদের রূপচর্চায় বিউটি পার্লার October 4, 2009
অফিস বা বাড়ির কেনাকাটা, কোনো গুরম্নত্বপূর্ণ খবরা-খবর পেঁৗছানো ইত্যাদি কাজ ছেলেরাই বেশি করে থাকে। সকাল থেকেই শুরম্ন হয় এই দৌড়ঝাঁপ। এজন্য তাদের ঘরের বাইরে বেশি সময় কাটাতে হয়। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, ধুলোবালির প্রলেপে ত্বকের রঙ তামাটে ও রম্নৰ হয়ে যায়। ত্বকের এ রম্নৰতা দূর করতে প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন। ত্বকের যত্নে ছেলেরা এখন সচেতন। বিউটি পার্লারে তারা শুধু চুল কাটতে নয়, এর পাশাপাশি চুল সাজানো, শ্যাম্পু, ম্যানিকিউর, বিস্নচ ফেসিয়াল, বডি মাসাজ, বডি প্যাক, গ্রম্নম প্যাকেজও করছে। গ্রম্নম প্যাকেজ মানে বিয়ের এক সপ্তাহ আগে বিস্নচ ফেসিয়াল, মেনিকিউর, শ্যাম্পু, বডি মাসাজ, চুল সেটিং, চুলে রঙ দেয়া, হাত-পা মাসাজ করে বরকে সুন্দর করে তোলা। পুরম্নষের ত্বকের যত্ন, স্কিন সমস্যা, চুল পড়া, চুল বেঁকে যাওয়া, খুশকি দূর করা ইত্যাদি সমস্যায় পরামর্শ ও সমাধান দেয়া হয় বিউটি পার্লারে। হাত-পায়ের যত্নের জন্য রয়েছে পেডিকিউর, মেনিকিউর, বিস্নচ, মাসাজ ইত্যাদি।
চুলের চর্চা : চুল সেটিং থেকে শুরম্ন করে চুলে জেল অয়েল, ক্রিম বা মেহেদি লাগানো, শ্যাম্পু ওয়াশ, চুল ডাই, কালো এবং মাথা মাসাজ করা হয়। পার্লারের বিভিন্ন ধরনের চুল কাটার ক্যাটালগ দেখে নিজের চুলের ডিজাইনও করে নিতে পারেন।
মুখের পরিচর্যা : ফেসওয়াশ, দাড়ি ও গোঁফ কাটা, ফেসিয়াল এবং বিস্নচ করা। চোখ রিফ্রেসমেন্ট, ভ্রূ পস্নাক, নাকের বস্নাক হেডস ওয়াশ, পা [পেডিকিউর] হাত [মেনিকিউর] পরিচর্যা ও কান ফোড়ানো, কানে রিং ও কান পরিষ্কার করা হয়।
মাসাজ : অনেক ধরনের বডি মাসাজ অথবা পেডিকিউর রয়েছে। ফুট মাসাজ পায়ের তলা থেকে সম্পূর্ণ পা মাসাজ করা হয়। এছাড়া অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে দাড়ি বা গোঁফ ট্রাইনিং বা ডাই করা। আর বাইড গ্রম্নম প্যাকেজে বড়দের জন্য রয়েছে গোঁফ-দাড়ি ফেসিয়াল, বস্নাক হেডস পরিষ্কার ও রিফ্রেসমেন্টসহ আরো অনেক কিছু।
উল্কি : ফেসওয়াশ সেলুনে উল্কি করানো হয়।
এই সেবাগুলো পেতে খরচ পড়বে_ চুল কাটা ৯০, শেভ ৬০, শ্যাম্পু ৭০, হেয়ার স্প্র্রে ৫০-৮০, হেয়ার মুজ ৫০, হেয়ার সেটিং ৮০, নিয়মিত মাসাজ ১০০, বিগান ৫০০, বেভলন ৪৮০, হাই স্প্রিড ৪০০, বারন্ডি ৬০০, রেড মেহগনি ৬০০, হেনা ৪০০, হেয়ার স্টোন ১ হাজার ২০০, ফেসবিস্নচ ১৫০ টাকা ও ফেসওয়াশ ২০০ টাকা। গ্রম্নম প্যাকেজ [বরের জন্য] ১৫ হাজার টাকা, গ্রম্নম প্যাকেজ [চুল কাটা, শেভ, তেল, শ্যাম্পু, মেনিকিউর, বিস্নচ ফেসিয়াল, বডি মাসাজ] ৩০০ টাকা, নরমাল ফেসিয়াল ৪৫০, গেস্নভানিক ফেসিয়াল ৬০০, ভেজিটেবল পাইলিং ফিসিয়াল ৬০০, ওজোন ৬০০, থার্মো হার্ব ৭০০, বডি স্ক্রাব ১ হাজার ৪০০, বডি মাসাজ ৫০০, মেনিকিউর ১৫০, পেডিকিউর ২০০, গার্লিক হেয়ার ট্রিটমেন্ট ৪০০, কন্ডিশনার ট্রিটমেন্ট ৩০০, বডি প্যাক ১০০০-২০০০, বায়োটিক হেয়ার ট্রিটমেন্ট ৫০০, পেয়ার পলিস ২০০, হাত মাসাজ ১০০, পা মাসাজ ২০০ ও ঘাড় ব্যথা হলে মাসাজ ৩০০ টাকা।
কোথায় করাবেন : বনানীতে টোটাল কেয়ার, সিসিলি, মমতাজ পস্নাজায় ফেসওয়াশ, গুলশান এভিনিউতে বায়োটিক হারবাল সেলুন, পিউর, শোরম্নম স্কিন কেয়ার সেন্টার, গুলশান-২ এ হাবিব অ্যাট পারসোনা, ধানম-ি হোসেন পস্নাজায় হেয়ারোবিক্স, ধানম-ি-৩২ এ চেরোকি, অর্কিড পস্নাজায় শীতল, এনাম র্যাংগস পস্নাজায় ম্যানস লুক, শানত্দিনগরে গীতিস হারবাল অ্যান্ড বিউটি, বসুন্ধরা সিটিতে সেনর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে শ্যামল কমফোর্ট সেলুন, সাতমসজিদ রোডের শংকর পস্নাজায় সুপারকাট, রমনা ভবনে ফেমাস, সদরঘাটে ফাইভস্টার। ছেলেদের এসব সেবাদানকারী সেলুনগুলো সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যনত্দ খোলা থাকে।




Recent Comments