খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম

সবচেয়ে দামি ল্যাম্প October 10, 2009

Filed under: Earth — rezowan @ 6:02 pm

পৈতৃক সূত্রে ২৪৫ কোটি টাকার মালিক হলে চরম কিপটেরও হয়তো হাত খুলে যায়। আর লুইস কমফোর্ট টিফানি তো ছিলেন একজন চিত্রশিল্পী। তাই বাবার কাছ থেকে পাওয়া ২৪৫ কোটি টাকার মধ্য থেকে বিরাট একটি অংশ দিয়ে ১৮৭৫ সালে লুইস কমফোর্ট টিফানি অ্যান্ড আর্টিস্টস নামের একটির ট্রাস্ট চালু করেছিলেন তিনি, যার অর্থায়নে সেখানে শিল্পীদের হাতে তৈরি হতো বিভিন্ন ধরনের চমত্কার সব অলংকরণ সামগ্রী। সেগুলোর মধ্যে ল্যাম্প ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয় আর জনপ্রিয়। অল্প কদিনেই সেই ল্যাম্পগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চড়া দামে বিক্রি করেছিলেন তাঁরা। ১৯০৬ সালে টিফানি স্টুডিও থেকে লোটাস নামের সেই ল্যাম্পগুলো বিক্রি করা হয়েছিল প্রায় ৫৩ হাজার টাকায়। তা বেশ পুরোনো কথা। এখন আর সেই লোটাস ল্যাম্পের ছড়াছড়ি নেই বাজারে। পৃথিবীতে আর একটিমাত্র লোটাস ল্যাম্পই টিকে আছে এখন। এবং তা ১৯৯৭ সালের ১২ ডিসেম্বর নিউইয়র্কের এক নিলামে বিক্রি করা হয় প্রায় ২০ কোটি টাকায়! পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ল্যাম্পের তালিকায় তাই লোটাস ল্যাম্পের নামটিই সবার ওপরে।

 

মাছে কেন মেছো গন্ধ থাকে? October 10, 2009

Filed under: Animal,Earth — rezowan @ 5:58 pm

মেছো গন্ধটা মাছে থাকবে না তো কি গরুর গোশতে থাকবে? শিরোনাম পড়ে যে-কেউ এ প্রশ্নটিই আগে করবেন। কিন্তু এটা তো সবাই জানি, গোশত অনেকক্ষণ খোলা রাখলেও তেমন গন্ধ হয় না, তাহলে মাছে কেন বিচ্ছিরি গন্ধ হয়? পানি থেকে তুলে আনার পর ঘণ্টা দুয়েক মাছ তাজা থাকে, এর পরই একটা আঁশটে গন্ধ বেরোয়, যা সবার কাছেই একটু অস্বস্তিকর মনে হয়। এর কারণ হলো, মাছের আমিষ গরু, খাসি বা মুরগির গোশতের চেয়ে আলাদা। এর উপাদানগুলো বিভিন্ন এনজাইম (জৈব রাসায়নিক পদার্থ) ও ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে খুব দ্রুত ভেঙে যায় বা পচতে শুরু করে। মাছের অ্যামিনো এসিড ভেঙে সৃষ্টি হয় অ্যামোনিয়া, বিভিন্ন ধরনের সালফার যৌগ ও অ্যামিনিস নামের রাসায়নিক দ্রব্য। এগুলোই দুর্গন্ধ ছড়ায়, যাকে আমরা বলি মেছো গন্ধ। অ্যামোনিয়া ও অ্যামিনিস হলো ক্ষার, যা এসিড দ্বারা প্রশমিত হয়। এ জন্যই লেবুর রসে মাছের গন্ধ দূর হয়, কারণ এতে আছে সাইট্রিক এসিড। গোশতের চেয়ে মাছ দ্রুত নষ্ট হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, বড় মাছ ছোট মাছ খায় এবং ওই মাছ পরিপাকের জন্য এনজাইম বের হয়। এ অবস্থায় বড় মাছটি ধরা পড়লে টানাহেঁচড়ায় পেটের এনজাইম বেরিয়ে মাছে পচন-প্রক্রিয়া শুরু করে। এ জন্যই মাছ ধরার পর তার পেট চিরে নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেললে একটু বেশিক্ষণ ওই মাছ টাটকা থাকে। তৃতীয় কারণটি হলো মাছের অসম্পৃক্ত চর্বি, যা সহজে জারিত হয়ে দুর্গন্ধযুক্ত জৈব এসিডে পরিণত হয়। কিন্তু গোশতের সম্পৃক্ত চর্বি কোলেস্টেরলসমৃদ্ধ, খেতে বেশি মজা এবং জারিত হতে কিছু বেশি সময় লাগে। তাই গরু বা মুরগির গোশতের পচন বিলম্বিত হয়। মনে রাখা দরকার, মাছের মেছো গন্ধ থাকলেই সেটা পচে গেছে বলে ধরে নেওয়া যায় না, বলা যায় সেটা টাটকা নয়। খুব বেশি দুর্গন্ধ ছড়ালে অবশ্য সেটা পচা মাছ ধরতে হবে। বরফ দিয়ে রাখলে ব্যাকটেরিয়া টিকতে পারে না এবং এভাবে মাছ বেশিক্ষণ টাটকা রাখা যায়।

 

জাদুর ভাত October 10, 2009

Filed under: Earth — rezowan @ 5:56 pm

বাহ! চাল না ফুটিয়েই ভাত!

এ যে একেবারে ‘মেঘ না চাইতেই জলে’র মতো ব্যাপার!
ক্লান্ত হয়ে ফিরলেন বাইরে থেকে, রান্নাঘরে ঢুকলেন, একটি হাড়িতে চাল রেখে তাতে ঢেলে দিলেন পানি। ব্যাস! ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করার পরই ভাত তৈরি! তাড়া আছে? তাহলে হাড়িতে দিন ফুটন্ত জল, ছেড়ে দিন চাল, পনের মিনিটেই সাদা সাদা ভাত প্রস্তুত! চুলো ধরানোর কোনো প্রয়োজনই নেই! তবে স্বাদটা আমাদের চেনা ভাতের মতো হবে তো?
এ রকমই একটি খবর বেরিয়েছে ৭ অক্টোবরের প্রথম আলোয়। ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের কটকের কেন্দ্রীয় চাল গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা এ রকম এক ধরনের চাল উদ্ভাবন করেছেন, যা পানিতে ভেজালেই হয়ে যাবে ভাত।
সাদা সাদা ভাতের কথা ভাবলেই জুড়িয়ে যায় প্রাণ। আমাদের খেঁটে খাওয়া মানুষ একটি কাচা মরিচ আর লবণ দিয়েই খেয়ে নিতে পারেন অনেকগুলো ভাত। এই খাওয়াতে আনন্দ আছে বলেই তারা তা খান, এমন নয়, পুষ্টিকর খাবারের অভাবেই এ রকম খাদ্যাভাস গড়ে ওঠে। পানি ভাতের সঙ্গে শুকনো মরিচ আর একটা বাসী ইলিশের টুকরো পেলে কি অসাধারণ তৃপ্তি নিয়ে খিদে মেটানো যায়, তা কি নতুন করে বলার? ভাত-কাপড়ের যোগান থাকলে মানুষের প্রাথমিক মৌলিক চাহিদা মেটে, এর সঙ্গে বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য যোগ হলে ভাবনা থাকে না আর।
নতুন এই উদ্ভাবনের খবরে মনে বয়ে যায় প্রশান্তির সুবাতাস। এতে তো জ্বালানি খরচও বেঁচে যায়! ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলেই নাকি নতুন উদ্ভাবিত চালের চাষ করা সম্ভব। হয়ত বাংলাদেশেও ফলতে পারে এই শস্যকণা। বাজার থেকে চাল কিনে নেওয়াতেই যা কষ্ট, এরপর এই ভাত সরাসরি উঠে আসবে খাবার প্লেটে!
বিভিন্ন দেশে রয়েছে বিভিণ্ন খাদ্যাভ্যাস। কারো কাছে রুটি প্রধান খাদ্য, কারো কাছে ভাত। আমাদের বাংলা নামের এই ব-দ্বীপের মানুষেরা ভাতের সঙ্গেই মিতালি পাতিয়েছে। এখন চালের দাম একটু একটু বাড়ছে। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চালের দাম থাকলে মানুয ভালো থাকে। চুলোয় ফোটানো ভাত হোক আর পানিতে ভিজিয়ে তৈরি ভাত হোক, তা সাধারণ মানুষের পাতে যেন পড়ে, সেটাই মূখ্য। আমরা ভাত নিয়ে কথা বলছি, যা খিদে মেটানোর সঙ্গে সঙ্গে হূদয়ও জুড়ায়। সবার পাতে ভাত আছে, সে কথা ভাবলেই প্রফুল্ল হয়ে ওঠে মন। ভাত থাকুক সবার পাতে।
জা.রে.নূ

 

হ্রদের নগর কসমোপলিটন সিটি October 10, 2009

Filed under: Earth — rezowan @ 5:53 pm
কসমোপলিটন সিটি হিসেবে জুরিখ আর জেনেভার জুড়ি নেই।

সিটি দুটিই গড়ে উঠেছে বিশাল দুটি লেকের ধারে। জুরিখ লেকের আয়তন ৮৮ বর্গ কিলোমিটার আর জেনেভা লেকের ৫৮২ বর্গ কিলোমিটার। আয়তনের দিক দিয়ে জেনেভা লেক বড় হলেও নাগরিক জীবনের সুযোগ-সুবিধা সিটি দুটিতে রয়েছে। সৌন্দর্যের দিক দিয়ে হয়তো জুরিখ ও জেনেভা দুটি লেকই উপভোগ্য। যদিও জেনেভা লেকের বক্ষে ভাসমান রেস্তোরাঁ ও পানির ফোয়ারাটি ইউরোপের উচ্চতম দর্শনীয় ফোয়ারা। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য, লেক সিটি হিসেবে লুজার্নের তুলনা মেলা ভার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩৬ মিটার উঁচু, ১১৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের লুজার্ন লেকের শেষ মাথায় লুজার্ন সিটি চোখ মেলে তাকিয়ে দেখার মতো। অন্য দুটি সিটির মতো লুজার্ন সিটিও গড়ে উঠেছে লেকের ধারেই। তবে লেক থেকে বেরিয়ে যাওয়া নদীর ধারা ও নদীর ওপর চ্যাপেল ব্রিজ শহরটিকে করে তুলেছে আরও আকর্ষণীয়।
বলা হয়ে থাকে, জুরিখ ব্যবসায়িক কেন্দ্র আর লুজার্ন হলো সুইসদের প্রাণ। লুজার্ন দেখার পর মনে হলো কথাটা শতভাগ সত্যি। লুজার্নে এসে যখন দাঁড়ালাম তখন বেলা প্রায় সাড়ে ১১টা। জুরিখ থেকে রেলপথে লুজার্ন মাত্র এক ঘণ্টা ১৫ মিনিটের পথ। এই সময়টা জানালার পাশে পাইনের সারি, পাহাড়, পাহাড়ের মাথায় ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ ও সবুজ ঘাসের উপত্যকা দেখেই কেটে যাবে। আকাশে চমত্কার সূর্য। স্টেশন থেকে বেরিয়েই লেকের মিষ্টিমধুর হাওয়ায় মনটা ভরে গেল। কিছু শহর আছে প্রথম দেখাতেই খুব আপন করে নেয়। লুজার্নে পা দিয়েই মনে হলো, আহা, এই তো আমার শহর! স্বচ্ছ নীল লেক, লেক থেকে বেরিয়ে যাওয়া নদী, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে জনজীবন, মনটাকে মুহূর্তে ভালো করে দেয়।
সেন্ট্রাল সুইজারল্যান্ডের বড় শহর লুজার্ন।
মধ্যযুগে ছোট একটি জেলেপাড়া থেকে বর্তমান লুজার্নের সৃষ্টি। স্টেশন থেকে বেরিয়ে রুশ নদীর উত্তর পারে মধ্যযুগীয় পুরোনো শহর। পাথরের ছোট ছোট রাস্তা। ছোট ছোট দোকান, ঘরবাড়ি। পুরোনো শহরের পাশেই গড়ে উঠেছে আধুনিক লুজার্ন। নতুন ও পুরোনোর সমন্বয় দৃশ্যতই সুন্দর। নদীর পাড় ধরে হেঁটে গেলেই টাউন হল, শিল্পী পিকাসোর মিউজিয়াম। মিউজিয়ামে শিল্পকর্ম ছাড়াও রয়েছে পিকাসোর ২০০ ছবি। আরেকটু হেঁটে গেলেই লোয়েন্ডেন মল বা লায়ন মনুমেন্ট। পাথরের কাদা দিয়ে বানানো ডেনিশ স্থপতি বার্টেল থরওয়ালসেনের মুমূর্ষু সিংহের মূর্তিটি খুবই দর্শনীয়। ১৭৯২ সালে ফরাসি বিপ্লবের সময় ৭৫০ জন সুইস সৈন্যকে পাঠানো হয়েছিল প্যারিসে। কেউ আর ফেরেনি, সিংহের মতো যুদ্ধ করে প্রাণ দিয়েছিল সবাই। সেই বীরদের স্মরণে ১৮২০ সালে তৈরি হয় লায়ন মনুমেন্ট। লেখক মার্ক টোয়েন মনুমেন্টটি দেখে বলেছিলেন, ‘স্যাডেস্ট অ্যান্ড মোস্ট মুভিং পিস অব রক ইন ওয়ার্ল্ড’।
লুজার্নের আধুনিকতম স্থাপনা প্রায় অর্ধেকটা লেকের ওপর স্থাপিত বর্তমান কনসার্ট হল। এ হলেই হয়ে থাকে আন্তর্জাতিক সংগীতানুষ্ঠান।
লুজার্নের আকর্ষণ বোধহয় শহরের মধ্যে রুশ নদীর ওপর অপূর্ব সুন্দর চ্যাপেল ব্রিজ।
দ্বাদশ শতকে সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি ২০৪ মিটার লম্বা ব্রিজটি ইউরোপের সবচেয়ে পুরোনো কাঠের ব্রিজ। ব্রিজটি খোলা নয়, পুরোটা কাঠের ছাউনি দিয়ে ঢাকা। কাঠের ছাদে অসংখ্য খোদাই করা রঙিন ছবি। ছবিগুলোতে শহর রক্ষাকারী সেইন্ট মউরিটাস ও লুজার্নের ইতিহাস তুলে ধরা। ছবিগুলো দ্বাদশ শতকে রং-তুলি দিয়ে আঁকা হলেও এখনো উজ্জ্বল। ব্রিজের পাশেই ১৪০ ফুট লম্বা ইটের তৈরি কয়েকটি ওয়াটার টাওয়ার। এই টাওয়ারগুলো সে যুগে বন্দিশালা, নির্যাতনকক্ষ, টাকশাল ও ওয়াচ টাওয়ার হিসেবে ব্যবহূত হতো।
যদি কখনো মন খারাপ হয় তবে লুজার্ন লেকের পাশে এসে দাঁড়ান, মন আপনা-আপনি ভালো হয়ে যাবে কিংবা যে কথাটি বারবার চেষ্টা করে বলতে পারছেন না, লুজার্ন লেকের নীল জলের পাশে এসে দাঁড়ান—সে কথাটি হূদয় থেকে বেরিয়ে আসবে। লেক সিটি লুজার্নের আকর্ষণ উপেক্ষা করা কঠিন।

জুরিখ: ১৪.০৮.২০০৯

লিখেছেন লিয়াকত হোসেন, স্টকহোম, সুইডেন ।প্রকাশিত হয়েছে প্রথম আলো’য়

 

চিড়িয়াখানা October 10, 2009

Filed under: Animal,Earth — rezowan @ 5:48 pm

 ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব জু অ্যান্ড অ্যাকুরিয়ামের জরিপ অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ৬০০ মিলিয়ন লোক চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করে। বিশ্বে প্রায় দুই হাজার ৮০০ চিড়িয়াখানা ও অ্যাকুরিয়াম আছে।

 জার্মানিতে সবচেয়ে বেশিচিড়িয়াখানা আছে। দেশটির নিবন্ধিত চিড়িয়াখানার সংখ্যা ৪১৪। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিড়িয়াখানার সংখ্যা ৩৫৫।
 খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে চীনা সম্রাট তানকি ‘হাউস অব ডিয়ার’ নামে একটি চিড়িয়াখানা গড়ে তোলেন।
 খ্রিস্টপূর্বদ্বিতীয় শতাব্দীতে গ্রিসের বেশির ভাগ শহরে চিড়িয়াখানা গড়ে ওঠে। আলেকজান্ডার দ্যগ্রেট অধিকৃত রাজ্য থেকে প্রাণী সংগ্রহ করে এসব চিড়িয়াখানায় বিলিয়ে দিতেন।
 আধুনিক যুগে প্রতিষ্ঠিত সবচেয়ে পুরোনো হচ্ছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা চিড়িয়াখানা। এটি ১৭৬৫ সালেসর্বসাধারণের জন্যখুলে দেওয়া হয়।
 ১৮৬০ সালেপ্রতিষ্ঠিত মেলবোর্ন চিড়িয়াখানা আর সেন্ট্রাল পার্কজু যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম চিড়িয়াখানা।
 কিছু চিড়িয়াখানা আছে,যেগুলোতে প্রাণীদের খাঁচায়বন্দীকরে না রেখেউন্মুক্তভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে দর্শকেরা গাড়িতে বসে বা খাঁচার মধ্যথেকে প্রাণী দর্শন করে থাকে। ইংল্যান্ডের হুইপস্ন্যাড পার্ক, সান দিয়েগোর ওয়াইন্ড এনিম্যালপার্ক, নর্থ ক্যারোলাইনা জু এবংমেলবোর্নের ওয়েরিবি ওপেন রেঞ্জ জু এ ধরনের চিড়িয়াখানা।
ওয়েবসাইট অবলম্বনে
এস এ পনির

 

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশবন্ধু October 10, 2009

Filed under: Earth,People — rezowan @ 5:44 pm



 মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নাম লিখিয়েছিলেন পরিবেশ আইনবিদদের খাতায়। বিষাক্ত পণ্যবাহী জাহাজ প্রবেশে বাধা, বাতিল জাহাজ ভাঙার সময় পরিবেশদূষণ বন্ধ, নির্বাচনী প্রচারণার নামে পরিবেশদূষণসহ বহু জনস্বার্থ মামলার পেছনের মানুষ তিনি। পরিবেশ রক্ষায় অবদানের জন্যই তিনি পেয়েছেন গোল্ডম্যান পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কার। সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত টাইম সাময়িকী তাঁকে দিয়েছে ‘হিরোজ অব এনভায়রনমেন্ট খেতাব’। তাঁকে নিয়ে এবারের মূল রচনা।

ভারি অন্যরকম একটা ব্যাপার হলো সেবারের ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার। যেখানে-সেখানে যেমন-খুশি দেয়াললিখন। বিকট শব্দে মাইক বাজিয়ে প্রচার-প্রচারণা। রাস্তা আটকে যখন-তখন মিছিল-শোভাযাত্রা। নির্বাচনের আগে এসব একরকম অলিখিত নিয়ম দাঁড়িয়ে গিয়েছিল রাজধানীতে। কিন্তু সেবার, মানে ১৯৯৪ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ঠিক আগে আগে এমন ধারার প্রচারণা যেন একদম মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। শোনা যায়, পুরান ঢাকার কিছু অলি-গলি সেবার সত্যিকার অর্থেই পুরোপুরি ছেয়ে গিয়েছিল কেবল পোস্টার আর পোস্টারে। এমনকি দিনের বেলায়ও কিছু গলিতে ঢোকার আগে হারিকেন বা টর্চলাইট জরুরি হয়ে পড়েছিল। চারপাশের মানুষের কান ঝালাপালা করে প্রচার-প্রচারণা সেটাও চলছিল পুরোদমে। রাজধানীর একটি দেয়ালও সম্ভবত নিস্তার পাচ্ছিল না দেয়াললিখনের হাত থেকে। প্রতিবারের মতো হয়তো এভাবেই ঘনিয়ে আসত নির্বাচনের চূড়ান্ত দিন। আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই হয়তো কোনো একজন পদপ্রার্থী নির্বাচিত হতেন রাজধানীর মেয়র। কিন্তু বাদ সাধল বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)। এককথায় মোটামুটি বিস্ময়কর একটি কাজ করল বেলা। নির্বাচনের হপ্তাখানেক আগে আদালতে জনস্বার্থে একটি মামলা ঠুকে দিল তারা। তাদের দাবি, নির্বাচনী প্রচারণার নামে এই পরিবেশন দূষণ—আমজনতার দুর্ভোগ বাড়ানো চলবে না কিছুতেই। ঘটনা শুনে নড়েচড়ে বসলেন রাজনীতিবিদেরা। বিস্ময় চেপে রাখতে পারলেন না এমনকি মাননীয় বিচারকও। বিস্ময়কর তো বটেই! সেই ১৮৬০ সালের আইনেই পরিষ্কার বলা আছে এ সবকিছু। অথচ এই আইন নিয়ে এত দিন মাথা ঘামানোর প্রয়োজন মনে করেনি কেউ। যুগের পর যুগ ধরে চলে এসেছে এই অনাচার। আইন পুরোপুরি সাধারণ জনগণের পক্ষে। আদালতের রায়ও হলো তাই। নির্বাচনী প্রচারণার নামে পরিবেশ দূষণ চলবে না। অবস্থা বেগতিক দেখে পদপ্রার্থীরাও এবার শামিল হলেন সুস্থ নির্বাচনী প্রচারণার পক্ষের মানুষদের কাতারে।

এই মামলার পেছনের মানুষটি ছিলেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। পরিবেশ আইনজীবী সমিতির হয়ে এটিই ছিল তাঁর প্রথম আইনি লড়াই। সেই আইনি লড়াইয়ে জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু এতটুকুকেই এখনো যথেষ্ট মনে করেন না তিনি। ‘আদালতের রায় আমাদের পক্ষে গিয়েছিল। এখন আগেকার মতো ভোটের আগে যথেচ্ছা প্রচারণা কমেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটের আগেই এসব বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে প্রার্থীদের। কিন্তু তারপরও আমি মনে করি না আমরা পুরোপুরি সফল হতে পেরেছি।’ বলছিলেন রিজওয়ানা হাসান।

জনস্বার্থে নির্বাচনী প্রচারণার নামে পরিবেশ দূষণ বন্ধের জন্য মামলা। এটি ছিল সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নামের অসম সাহসী এক তরুণ আইনবিদের লড়াইয়ের শুরু মাত্র। এরপর আইনবিদ হিসেবে তাঁকে নামতে হবে আরও অনেক ঘোরতর কঠিন সমরে। এমনকি হুমকি আসবে তাঁর জীবনের ওপরও। সেসব কথার আগে আমরা একটুখানি দেখে নিই রিজওয়ানার শুরুটা।

ঢাকার ধানমন্ডির পুরোনো বাসিন্দা তাঁরা। বাবা সৈয়দ মহিবুল হাসান ও মা সুরাইয়া হাসানের একমাত্র কন্যা তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে লেখাপড়া করেছিলেন। কিন্তু প্রচলিত ধারার আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার তৈরি করবেন এমন ইচ্ছা ছিল না কোনোকালেই। আইনের সঙ্গে থেকেই যদি করা যায় সমাজের মানুষের জন্য একটা কিছু—এমন একটা কাজই তিনি খুঁজছিলেন মনে মনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার বছরখানেকের মাথায় মিলে গেল তেমনই একটা কাজের সুযোগ। তখন সবেমাত্র মহিউদ্দীন ফারুকের নেতৃত্বে কাজ শুরু করেছে পরিবেশ আইবজীবী সমিতি। ১৯৯৩ সালের জুলাই মাসে রিজওয়ানা হাসান যোগ দিলেন বেলায়। রিজওয়ানা মোটামুটি ভালোবেসে ফেলেছিলেন তাঁর কাজকে।

সোজা কথায়, আইনের সহায়তা নিয়ে পরিবেশের সুরক্ষা আর জনমানুষের হয়ে কাজ করার লক্ষ্য নিয়েই চলছিল মহিউদ্দীন ফারুকের গড়া এই সংগঠন। কিন্তু ১৯৯৭ সালে হঠাত্ মৃত্যু এসে ছিনিয়ে নিল তাঁকে। রিজওয়ানা হাসানের সামনে তখন একদিকে কাণ্ডারি হারা এক সংগঠন, অন্যদিকে কমনওয়েলথ বৃত্তির লোভনীয় হাতছানি। ভেবেচিন্তে প্রিয় সংগঠনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়াটাই ঠিক করলেন তিনি।

মৃত্যুর পরোয়ানা
পেটে ভাত নেই। পরনে কাপড় নেই। অভাব আর অভাব। সইতে না পেরে শেষে একদিন ঘর ছাড়ে সাজু। কাজের খোঁজে এখানে-ওখানে ঘুরতে ঘুরতে শেষমেশ এসে কাজ পায় চট্টগ্রামের একটি জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ডে। খালি হাতে জাহাজ ভাঙার কাজ। দৈনিক ১৬ ঘণ্টা গাধার খাটুনি। তবুও সাজু নামের ১৯ কি ২০ বছর বয়সী এই তরুণ মুখ বুজে মেনে নিয়েছিল সব। শুধু দুই বেলা খাবার মিলবে এই আশাতেই হয়তো। কিন্তু সাজুর খুব ছোট্ট এই স্বপ্নের দুনিয়াটাই ভেঙে চুরমার হয়ে যায় একদিন। জাহাজ ভাঙার কাজ করার সময় ওপর থেকে আচমকা ভারী একটা লোহার পাত এসে পড়ে সাজুর ওপরে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মারা যায় সাজুর সঙ্গী শ্রমিকটি। ভারী পাতের আঘাতে পুরোপুরি আটকে যায় সাজুর চোয়াল। গুরুতর আঘাত নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকে সাজু। কিন্তু টনক নড়ে না সাজুর মালিকপক্ষের। এমনকি সাজুর চিকিত্সার ব্যয় বহনেও কোনো গরজ দেখায় না তারা। খবর পেয়ে এগিয়ে আসে বেলা। সাজুকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। মালিকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য মামলা হয়। বাধ্য হয়ে শেষমেশ রাজি হয় তারা। দীর্ঘ সময় জীবন্মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকে শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যায় সাজু। কিন্তু ভারী কাজ করার ক্ষমতা চিরতরে হারিয়ে ফেলে বগুড়ার এই তরুণ।

সাজুর হতভাগ্য সেই সঙ্গীর মতো ভারী বস্তুর আঘাতে প্রতিবছর গড়ে কতজন করে মানুষ মারা যায় জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ডগুলোয়? কতজন মানুষ মেনে নেয় পঙ্গুত্ব? বিষাক্ত বর্জ্যে পূর্ণ জাহাজগুলো যখন ভাঙা হয়, তখন কেমন ভয়াবহ পরিবেশগত দুর্যোগ নেমে আসে সৈকতে? বাতিল জাহাজের বিষময় পরিবেশে দিনের পর দিন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে যে মানুষগুলো, তারা বাকিটা জীবন কেমন করে বাঁচে? এসব প্রশ্ন হয়তো তেমন করে ভাবায়নি এ দেশের কাউকে। অথচ সারা বিশ্বের সচেতন মানুষ জানে বিষাক্ত বর্জ্যে পূর্ণ জাহাজ নিজেদের দেশের ভেতরে ঢুকতে দেওয়ার ভয়াবহ পরিণতি। এমনকি জাতিসংঘের একাধিক প্রতিবেদনেও বলা হয়ে গেছে, গ্রিন পিসের তালিকাভুক্ত পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক জাহাজ ভাঙতে দেওয়ার বিপদের কথা। কিন্তু এই অন্যায় বন্ধ করার কায়দা কী? ২০০৩ সালে পরিবেশ দূষণের দায়ে জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ডগুলোর বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি করেন বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এরপর শ্রমিকদের যথাযথ অধিকার আদায়, বিষাক্ত পণ্যবাহী জাহাজের প্রবেশ বন্ধ—এসব কারণে তাঁর দায়ের করতে হয়েছে আরও তিনটি মামলা। তাঁদের ব্যবসার ওপর এমন আঘাত মোটেও সহজে নিতে পারেনি কেউ কেউ। অচেনা জায়গা থেকে একের পর এক হুমকি-ধামকি পাওয়াটা হয়ে ওঠে নিত্যকার ঘটনা। কিন্তু রিজওয়ানা হাসান থেকে গেছেন অবিচল। অবশেষে এ বছরের মার্চ মাসে আসে সাফল্য। পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া জাহাজ ভাঙার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আদালত।
‘লোহা সরবরাহ করে এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। শুধু এই যুক্তিতে বারবার পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু আমি সরকারকে বলব, যদি এই বিধিবহির্ভূতভাবে জাহাজ ভাঙার কাজ চালু থাকে তাহলে আপনারা দাস প্রথাকেও বৈধ করে দিন। আর মাদকব্যবসাও তো কর্মসংস্থান করে। তার মানে কি এই যে আমরা সেটাকেও বৈধ বলে রায় দেব? বিশ্বের পাঁচটা কি সাতটা মাত্র দেশে জাহাজ ভাঙার শিল্প আছে। আর বাকিরা কীভাবে লোহার চাহিদা মেটায়?’ রিজওয়ানা হাসানের এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কি সত্যিই সহজ নয়।
বন্ধুর পথে
শুধু জাহাজ ভাঙার শিল্প নয়। জলাশয় ভরাট করে আবাসন তৈরি কিংবা পলিথিনের যথেচ্ছ ব্যবহার, পাহাড় কাটা, বন ধ্বংস, চিংড়ির ঘের—পরিবেশ আর জনস্বার্থ যেখানেই হুমকির মুখে পড়েছে, তখন সেখানে দেখা মিলেছে রিজওয়ানা হাসান এবং তাঁর সংগঠনের। পরিবেশ আর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্যই পেয়েছেন একাধিক সম্মাননা। পরিবেশ আইন বিষয়ে সচেতনতা তৈরির সুবাদে পেয়েছেন পরিবেশ পুরস্কার-২০০৭। পেয়েছেন জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক পুরস্কার। সবশেষে এ বছর তাঁর হাতে উঠে এসেছে ‘পরিবেশের নোবেল’ হিসেবে পরিচিত গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ।
সম্মাননা মিলেছে। দীর্ঘ সংগ্রামের ইনাম হিসেবে পেয়েছেন আদালতের রায়। কিন্তু এখানেই থামতে চান না তিনি। চট্টগ্রামে অবাধে পাহাড় কাটা চলছে, সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ড নিয়ে বহু কাজ বাকি; আসল দাবিদার গ্রামীণ মানুষের হাতছাড়া হতে চলেছে মধুপুরের বন, একের পর এক অপরিকল্পিত স্থাপনা তৈরির কারণে বিপর্যস্ত সেন্টমার্টিনস দ্বীপের জীববৈচিত্র্য…।

ধানমন্ডিতে তাঁর নিজের অফিসে টাঙানো সাদা বোর্ডটায় লেখা সমস্যার তালিকাটি এরকমই লম্বা। তাঁর আরও একটা পরিচয়, মেয়ে নেহ্লা আর দুই ছেলে যারির ও জিদানের মা তিনি। একসময়ের সহপাঠী আইনবিদ ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিকের ঘরনি। অফিসের শত কাজ সেরে ঘরে ফিরে ছোট্ট ছেলেটিকে ঘুম পাড়িয়ে যখন তাঁর দ্বিতীয় দফায় কথা বলার ফুরসত মেলে, ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ১১টা ছুঁই ছুঁই। সংগ্রামময় পথ পাড়ি দিতে গিয়েই হারিয়েছেন সন্তানদের বহু সুখময় সান্নিধ্য। রিজওয়ানা হাসান জানেন তাঁর লড়াইটা অফিসে সাঁঁটা তালিকার চেয়েও অনেক অনেক বেশি লম্বা। কিংবা কে জানে হয়তোবা তাঁর ফেলে আসা জীবনের চেয়েও অনেক বেশি কণ্টকময়। তার পরও পরিবেশের বন্ধু হয়ে পুরো দেশের মানুষের পাশে থেকেই তিনি কাটাতে চান গোটা জীবন।

লিখেছেন ইকবাল হোসাইন চৌধুরী।প্রকাশিত হয়েছে প্রথম আলো’য়

 

চলন্ত ট্রেন থেকে পড়েও বেঁচে গেল সদ্যোজাত শিশু October 9, 2009

Filed under: Earth — rezowan @ 9:56 pm

মায়ের পেট থেকে পড়েই শিশুটি দেখল, তার বুকের সামান্য উঁচু দিয়ে ছুটছে এক দুরন্ত রেলগাড়ি। কয়েক সেকেন্ড ধরে শুধু ঝমঝম আওয়াজ। পৃথিবী কি এ রকম? ট্রেন চলে গেল। শিশুর চোখের সামনে ফুটে উঠল তারাভরা আকাশ।

তার মা ছিলেন সেই ট্রেনেই। শৌচাগারে গিয়েছিলেন। সেখানেই আচমকা প্রসব। শৌচাগারের ছয় ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ গলে শিশুটি পড়ল রেললাইনে। ঘোর কাটতে সময় লাগেনি মায়ের। যেই মুহূর্তে তিনি বুঝলেন, তখনই চলন্ত ট্রেনের দরজা খুলে দিলেন ঝাঁপ। যাত্রীরা ভাবল, তিনি আত্মহত্যা করছেন। চেইন টেনে ট্রেন থামানো হলো। যাত্রীরা নেমে মহা বিস্ময়ে দেখল, ছেলেকে বুকে জড়িয়ে হেঁটে আসছেন সেই মা। ছেলে অক্ষত। সামান্য ছড়ে যাওয়া ছাড়া চোট লাগেনি মায়েরও। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ-পূর্ব রেলের চক্রধরপুর ডিভিশনের গামারিয়া ও বীররাজপুর স্টেশনের মাঝে। মা-ছেলে দুজনই এখন পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। বিপদ নেই কারোর।

উড়িষ্যার সুন্দরগড় জেলার লালিনপাড়ার বাসিন্দা অন্তঃসত্ত্বা রিঙ্কু রায় তাঁর স্বামী ভোলা রায়ের সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে বিহারের পাতোড়া জেলার পাহলানপুরের এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল তাঁদের চার বছরের মেয়ে মুসকান। উঠেছিলেন ডাউন টাটা-ছাপড়া এক্সপ্রেস ট্রেনে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে রিঙ্কু রায় শৌচাগারে যান। এরই মধ্যে তাঁর প্রসববেদনা শুরু হয়। রিঙ্কু রায় বসে পড়েন শৌচাগারে। রিঙ্কু শৌচাগারেই একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। অসাবধানতাবশত সদ্যোজাত শিশুটি শৌচাগারের প্যান গলে রেললাইনের ওপর পড়ে যায়। এ দৃশ্য দেখে রিঙ্কু চিত্কার দিয়ে বেরিয়ে আসেন শৌচাগার থেকে। তখন ধীরগতিতে চলছিল ট্রেনটি। আর অপেক্ষা না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেন তিনি। ছুটতে থাকেন ট্রেনের পেছন দিকে। এরই মধ্যে ট্রেনের গার্ড তাঁর ঝাঁপ দেওয়া দেখে চেইন টেনে থামিয়ে দেন ট্রেনটি। ততক্ষণে টের পেয়ে যান রিঙ্কু রায়ের স্বামী। ট্রেনের গার্ড ও রিঙ্কুর স্বামী ছুটে যান।
রেল সূত্রে জানা গেছে, শৌচাগারের পাইপের ব্যাস ছয় ইঞ্চি। পুরুলিয়া হাসপাতালের শিশু বিভাগের কর্তব্যরত চিকিত্সক রতন দাস বলেন, ‘ট্রেনের শৌচাগারের পাইপ দিয়ে সদ্যোজাত শিশু গলে যেতেই পারে। আশ্চর্য হচ্ছে, চলন্ত ট্রেন থেকে পড়েও শিশু ও মায়ের সুস্থ থাকা! শিশুটির ওজন দুই কিলো ৪০০ গ্রাম। ওর তো কোনো চোটই লাগেনি। শিশুটির মায়ের বাঁ কাঁধ আর দুই হাত সামান্য ছড়ে গিয়েছে।’
পুরুলিয়া স্টেশনের রেলকর্মীরা নবজাতককে ডাকছেন ‘দুরন্ত’ বলে। ‘মৃত্যুঞ্জয়’ বলছেন হাসপাতালের নার্সরা। আনন্দবাজার পত্রিকা।

 

বিশ্বে প্রতি চারজনের একজন মুসলমান October 9, 2009

Filed under: Earth — rezowan @ 9:20 pm

 মার্কিন গবেষণার ফল–বিশ্বে প্রতি চারজনের একজন মুসলমান
বিশ্বে ৬০০ কোটির বেশি মানুষের মধ্যে ১৫৭ কোটিই ইসলাম ধর্মের অনুসারী। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ মুসলমান বাস করে এশিয়া মহাদেশে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পিউ ফোরাম অন রিলিজিয়াস অ্যান্ড পাবলিক লাইফ এ গবেষণা চালায়। তিন বছর ধরে বিশ্বের ২৩২টি দেশ ও অঞ্চল থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। গত বুধবার গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

এতে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ২০ শতাংশ মুসলমান জনগোষ্ঠী বাস করে। ইউরোপে বাস করে ২ দশমিক ৪ শতাংশ ও যুক্তরাষ্ট্রে দশমিক তিন শতাংশ। ১৫ শতাংশের বেশি মুসলমানের বাস আফ্রিকার সাহারা প্রান্তীয় অঞ্চলে। গবেষণার তথ্য থেকে আরও জানা গেছে, লেবাননের চেয়ে জার্মানিতে বেশি মুসলমান বাস করে। আর রাশিয়ার মুসলমান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা জর্ডান ও লিবিয়ার মোট মুসলমান জনগোষ্ঠীর চেয়ে বেশি।
গবেষকেরা প্রায় দেড় হাজার উত্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। উত্সগুলোর মধ্যে ছিল জনসংখ্যা সমীক্ষা, জনসংখ্যাতাত্ত্বিক গবেষণা, সাধারণ জনসংখ্যা জরিপ ইত্যাদি। গবেষণার ফল সম্পর্কে জ্যেষ্ঠ গবেষক ব্রায়ান গ্রিম বলেন, গবেষণার ফল দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। মুসলমান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা যা আশা করা হয়েছিল, তার চেয়ে বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আমানি জামাল বলেন, ‘আরবরাই মুসলিম এবং মুসলিমরাই আরব’ গবেষণার ফল থেকে এ ধারণা ভেঙে গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ কোটির বেশি মুসলমান বিশ্বের এমন সব দেশে বাস করে, যেখানে ইসলাম সংখাগরিষ্ঠের ধর্ম নয়। গবেষণায় আরও বলা হয়, বিশ্বে মুসলমান জনগোষ্ঠীর ১০ থেকে ১৩ শতাংশ শিয়া ও ৮৭ থেকে ৯০ শতাংশ সুন্নি সম্প্রদায়ভুক্ত। বেশির ভাগ শিয়া ইরান, পাকিস্তান ও ইরাকে বাস করে। বিবিসি।

 

বিশ্বের সেরা শহর October 8, 2009

Filed under: Earth — rezowan @ 2:58 pm

এই পৃতিবীতে কত সুন্দর সুন্দর জিনিস আছে আমরা কি তার সব জানি? জানলেও অল্প কয়েকটা জানি। এই পৃথিবীতে অনেক সুন্দর সুন্দর শহরও আছে। সে শহর গুলো দেখতে না জনি কত সুন্দর। দেখতে না পারলেও আজকে জানব বিশ্বের সেরা শহর কোন গুলো।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন Mercer গত ২৮ এপ্রিল ২০০৯ এক জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিশ্বের ২১৫টি শহরের মধ্যে চালানো হয় এ জরিপ।
* বসবাসের জন্য বিশ্বের সেরা তিন শহর- ১। ভিয়েনা (অস্ট্রিয়া), ২। জুরিখ (সুইজারল্যান্ড) ও ৩। জেনেভা (সুইজারল্যান্ড)।
*অবকাঠামোগত দিক থেকে বিশ্বের সেরা তিন শহর- ১। সিঙ্গাপুর, ২। মিউনিখ (জার্মানি) ও ৩। কোপেনহেগেন (ডেনমার্ক)।
* বসবাসের জন্য উপযোগিতা বিবেচনা করে ঢাকার অবস্থান ২০৫ এবং অবকাঠমোগত দিক থেকে ১৯৭। * জরিপের সর্বশেষ (২১৫তম) অবস্থানে রয়েছে ইরাকের রাজধানী বাগদাদ

Vienna, Austria
Zurich, Switzerland
Geneva, Switzerland
Singapore
Munich, Germany
Copenhagen, Denmark
Dhaka, Bangladesh
Baghdad, Iraq
 

গ্রহণ কেন হয় October 8, 2009

Filed under: Earth — rezowan @ 2:29 pm

ছায়া কেন তৈরি হয় তা আমরা সবাই জানি। আলো সরল পথে চলার সময় অস্বচ্ছ কোনও পদার্থে বাধা পেলে আলোর উৎসের উল্টো দিকে ওই পদার্থের আকারে ছায়া তৈরি হয়।
আলোক উৎস একবিন্দু না হলে ছায়ার দুটি অংশ তৈরি হয়Ñ প্রচ্ছায়া (Umbra) ও উপচ্ছায়া (Penumbra) অঞ্চল। এই প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়ার দৈর্ঘ্য নির্ভর করে উৎস থেকে অস্বচ্ছ পদার্থের দূরত্ব এবং যার ওপর ছায়া পড়বে তার অবস্থানের ওপর।
বাড়িতে টিউবলাইটি জ্বালিয়ে মেঝের খুব কাছে হাত রেখে হাতটাকে আস্তে আস্তে ওপরের দিকে উঠালে ব্যাপারটা খুব সহজেই বোঝা যাবে।
সূর্যের ব্যাস চাঁদের ব্যাসের প্রায় চারশ’ গুণ এবং সূর্যের দূরত্বও পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের প্রায় চারশ’ গুণ। ফলে পৃথিবী থেকে চাঁদকে প্রায় সূর্যের সমানই দেখায়। কৌণিক ব্যাস আধা ডিগ্রি। কিন্তু পৃথিবীর সূর্য প্রদক্ষিণ পথ এবং চাঁদের পৃথিবী প্রদক্ষিণ পথ ডিম্বাকৃতি হওয়ায় পৃথিবী থেকে সূর্য ও চাঁদের দূরত্ব সব সময় এক থাকে না। ফলে পৃথিবী থেকে এদের আকারও তুলনামূলকভাবে সামান্য ছোট বড় দেখায়।
পৃথিবী একটি উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। চাঁদ আবার একইভাবে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীকে। সূর্য মহাকাশে একটি বিস্তৃত আলোক উৎস। পৃথিবী ও চাঁদ আলোকহীন অস্বচ্ছ পদার্থ। ফলে এদের যে পাশে সূর্য থাকে তার বিপরীত পাশে ছায়ার সৃষ্টি হয়। কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে সরলরেখায় এলে পৃথিবী ও চাঁদের একের ছায়া অন্যটির উপর পড়ে।
পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়লে চন্দ্রগ্রহণের সৃষ্টি হয়। আর চাঁদের ছায়া পৃথিবীতে পড়লে ঐ ছায়ার অন্তর্গত স্থানে সূর্যগ্রহণের সৃষ্টি হয়। গ্রহণ হতে হলে সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদকে একই সরলরেখায় আসতে হয়।
চাঁদের কক্ষপথ এবং পৃথিবীর কক্ষপথ দুটি যদি একই তলে থাকতো তাহলে সাধারণ হিসেবে প্রতি পূর্ণিমাতে চন্দ্রগ্রহণ এবং প্রতি অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ হওয়ার কথা। সূর্য ও পৃথিবী উভয়ে একই তল, পৃথিবীর কক্ষতল বা ক্রান্তিবৃত্তের তলে অবস্থিত।
কিন্তু চাঁদের কক্ষতল এই তলের সঙ্গে ৫ ডিগ্রী কোণে হেলে থাকে। কাজেই চাঁদের কক্ষতলের অর্ধেক পৃথিবীর কক্ষতলের ওপরে এবং বাকি অর্ধেক পৃথিবীর কক্ষতলের নিচে থাকে। আপন কক্ষপথে পৃথিবী প্রদক্ষিণকালে যে দুই দিন চাঁদ দুই পাতাবিন্দুতে (চাঁদের কক্ষপথ যে দুটি বিন্দুতে ক্রান্তিবৃত্তকে ছেদ করে) পৃথিবীর কক্ষতল ভেদ করে, মাত্র সেই দুটি দিনই চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই তলে অবস্থান করে। কিন্তু, গ্রহণ হতে গেলে এই তিনটিকে একই সমতলে থাকার পাশাপাশি এক সরলরেখাতেও আসতে হবে। চাঁদ এই দুই পাতবিন্দুর কোনো একটিতে বা তার কাছে থাকা অবস্থায় যদি অমাবস্যা বা পূর্ণিমা হয় কেবলমাত্র তখনই সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় এসে গ্রহণ ঘটায়।
যে কোনও বছরে সূর্যগ্রহণের সংখ্যা চন্দ্রগ্রহণের সংখ্যার থেকে বেশি। কোনও বছরে গ্রহণের সর্বনিু সংখ্যা দুই, এবং সে দুটিই হচ্ছে সূর্যগ্রহণ। আর সর্বাধিক গ্রহণ হচ্ছে সাত, যার পাঁচটি সূর্যগ্রহণ ও দুটি চন্দ্রগ্রহণ অথবা চারটি সূর্যগ্রহণ ও তিনটি চন্দ্রগ্রহণ। ১৯৩৫ সালে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ এবং দুইটি চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিল এবং ১৯৮২ সালে হয়েছিল চারটি সূর্যগ্রহণ ও তিনটি চন্দ্রগ্রহণ।
সূর্যগ্রহণ আবার তিন রকম হতে পারে। আংশিক বা খণ্ডগ্রাস, বলয়গ্রাস এবং পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হতে হলে চাঁদের আপাত ব্যাস সূর্যের সমান বা বেশি হতে হবে। সূর্য বেশিদূরে থাকলে এবং চাঁদ বেশি কাছে থাকলে বেশি সময় ধরে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ অনুকূল পরিবেশে সবচেয়ে বেশি স্থায়ী হতে পারে ৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ড পর্যন্ত। আগামী ২১৬৮ সালের ৫ জুলাইয়ের পূূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হবে দীর্ঘস্থায়ী সূর্যগ্রহণ। এর স্থায়িত্বকাল হবে তত্ত্বগতভাবে প্রাপ্ত সর্বাধিক স্থায়িত্বকাল থেকে মাত্র তিন সেকেন্ড কম (৭ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড)।

যদি সূর্য কাছে এবং চাঁদ দূরে অবস্থান করে তাহলে এই পরিস্থিতিতে চাঁদের ছায়া পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না, অর্থাৎ ছোট চাঁদ বড় সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না। তখন বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়। সূর্যকে বালার (জরহম) মতো দেখায়।
গ্রহণের বিভিন্ন পর্র্যায়
সূর্যগ্রহণ উপভোগ করতে এবং গ্রহণ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেতে হলে গ্রহণকালীন কোন সময়ে কী ঘটে, তা জেনে রাখা দরকার। সূর্যগ্রহণের সময়কে মোট চারটি ভাগে বা চারটি স্পর্শে বলতে চাঁদ দ্বারা সূর্য ঢেকে যাওয়া) ভাগ করা হয়। উত্তর গোলার্ধে যখন চাঁদের পূর্বপ্রান্ত দিয়ে সূর্যের পশ্চিমপ্রান্ত ঢাকা পড়তে শুরু করে, সেই মুহূর্ত থেকেই প্রথম স্পর্শের শুরু। অর্থাৎ প্রথম স্পর্শ থেকেই গ্রহণের শুরু। এরপর চাঁদের দেহ সূর্যের পূর্বপ্রান্তে স্পর্শ করবে ততক্ষণ পর্যন্তই গ্রহণের প্রথম স্পর্শ। আমরা সহজেই বুঝতে পারছি, প্রথম স্পর্শের পুরোটাই হবে আংশিক গ্রহণ।
চাঁদের পূর্বপ্রান্ত সূর্যের পূর্বপ্রান্ত স্পর্শ করলে সেটা হবে দ্বিতীয় স্পর্শ। দ্বিতীয় স্পর্শের সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের শুরু। অর্থাৎ চাঁদের দেহ দিয়ে সূর্য সম্পূর্ণরূপে ঢাকা পড়বে।
চাঁদের পূর্বপ্রান্ত আরও এগিয়ে গেলে যখন চাঁদের পশ্চিমপ্রান্ত সূর্যের পশ্চিমপ্রান্ত স্পর্শ করে তখন তৃতীয় স্পর্শ। তৃতীয় স্পর্শে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শেষ হবে। ২২ জুলাইয়ের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের স্থায়িত্ব হবে ৩ মিনিট ৫৮.৫ সেকেন্ড। অর্থাৎ এই সময়টা হচ্ছে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্পর্শে মধ্যবর্তী সময়।
তৃতীয় স্পর্শের পর থেকে সূর্যের পশ্চিমপ্রান্ত ধীরে ধীরে দেখা দিতে শুরু করবে। চাঁদের পশ্চিমপ্রান্ত এবং সূর্যের পূর্বপ্রান্ত পরস্পর থেকে মুক্ত হলে হয় চতুর্থ স্পর্শ। অর্থাৎ স্পর্শে গ্রহণ শেষ। তৃতীয় স্পর্শ থেকে চতুর্থ স্পর্শ পর্যন্ত আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে।
গ্রহণ (জ্যোতির্বিজ্ঞান)
জ্যোতির্বিজ্ঞানে গ্রহণ (ইংরেজি ভাষায়: Eclipse এক্লিপ্‌স্‌) বলতে একটি খ-বস্তুর কারণে অন্য একটি খ-বস্তুর আংশিক বা পূর্ণরূপে আড়াল হওয়াকে বোঝায়। যখন তিনটি খ-বস্তু একই সরলরেখায় অবস্থান করে, তখন তাদের মধ্যে একটি খ-বস্তু থেকে বাকী দুইটি খ-বস্তুর মধ্যে সংঘটিত গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা যায়। যে খ-বস্তুটি আড়াল করে, তাকে বলে গ্রহণকারী খ-বস্তু। আর যে খ-বস্তুটি আড়ালে চলে যায়, তাকে বলে গ্রহণকৃত খ-বস্তু।

যেমন – যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চাঁদ অবস্থান নেয়, তখন পৃথিবীপৃষ্ঠের পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে সূর্য চাঁদের পেছনে আড়ালে চলে যায় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। আবার পৃথিবী যখন চাঁদ ও সূর্যের মধ্যে আসে তখন পৃথিবীর আড়ালে চাঁদ ঢাকা পড়ে এবং চন্দ্রগ্রহণ হয়। চন্দ্রগ্রহণ সূর্যে অবস্থিত কাল্পনিক পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে ঘটলেও, চাঁদের দিকে মুখ করে থাকা পৃথিবীপৃষ্ঠের মানুষেরাও এই চন্দ্রগ্রহণের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, কেননা সূর্য একটি তারা বলে তার আলো পৃথিবীতে বাধা পায় এবং চাঁদ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায়। সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হল একটি তারা ও দুইটি অন্য ধরনের জ্যোতিষ্ক নিয়ে গঠিত ব্যবস্থায় সংঘটিত গ্রহণ।
এছাড়া প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম উপগ্রহগুলি যখন তাদের গ্রহের পেছনে চলে যায়, তখন পৃথিবীর পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে তাদেরও গ্রহণ ঘটে।
একটি যুগ্ম তারা ব্যবস্থার কক্ষপথের তল পৃথিবীর মধ্য দিয়ে বা খুব কাছাকাছি অতিক্রম করলে পৃথিবীর পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে পর্যায়বৃত্তভাবে একটি তারা অপরটির গ্রহণ ঘটায়। এই ধরনের গ্রহণ হল দুইটি তারা ও একটি অন্য ধরনের জ্যোতিষ্ক নিয়ে গঠিত ব্যবস্থায় সংঘটিত গ্রহণ।
যখন গ্রহণকারী বস্তুর আপাত আকার গ্রহণকৃত বস্তুটির আপাত আকারের চেয়ে অনেক বড় হয়, তবে সেই ঘটনাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিশেষ পরিভাষায় “অদৃশ্যকরণ” (occultation অকাল্টেশন) বলে। যেমন – চাঁদের পেছনে দূরের কোন তারা, নীহারিকা বা গ্রহের সম্পূর্ণ ঢাকা পড়ে যাওয়া, অথবা কোন প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম উপগ্রহের কিংবা অনুসন্ধানী মহাকাশযানের সৌরজগতের কোন খ-বস্তুর পেছনে সম্পূর্ণ ঢাকা পড়ে যাওয়া।
যখন অপেক্ষাকৃত ছোট একটি খ-বস্তু অনেক বড় একটি খ-বস্তুর সামনে দিয়ে চলে যায়, এবং খুব ছোট আকারের গ্রহণ ঘটে, তখন তাকে গ্রহণ না বলে জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় “অতিক্রম” (transit ট্রানজিট) বলে। বুধ ও শুক্র গ্রহ দুইটি প্রায়ই সূর্যকে এ অর্থে “অতিক্রম” করে। ছোট উপগ্রহগুলি তাদের নিজ নিজ গ্রহগুলিকে “অতিক্রম” করতে পারে।
সূর্যগ্রহণ
চাঁদ যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবীসূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোন দর্শকের কাছে সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায় (কিছু সময়ের জন্য)। এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলা হয়। আমাবশ্যার পরে নতুন চাঁদ উঠার সময় এ ঘটনা ঘটে। পৃথিবীতে প্রতি বছর অন্তত দুই থেকে পাচঁটি সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে শূন্য থেকে দুইটি সূর্যগ্রহণ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়।[১] পূর্ণ সূর্যগ্রহণ একটি চমৎকার প্রাকৃতিক ঘটনা যা পর্যবেক্ষণের জন্য অনেক লোক দূর-দূরান্তেও ভ্রমণ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে ২২শে জুলাই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়। যা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষের মাঝে এ ঘটনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

 

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.