খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম

১০৭ বছর বয়সে ২৩ তম বিবাহের আশা September 25, 2009

Filed under: Marriage(বিয়ে) — rezowan @ 5:51 pm
Published in Daily Jaijaidin
 

দুই বছর ধরে পরিবার তিনটি একঘরে September 25, 2009

Filed under: Marriage(বিয়ে) — rezowan @ 2:13 pm

নিম্নবর্ণের মেয়েকে বিয়ে করায় লালমনিরহাটের সদর উপজেলার রতিধর গ্রামে এক স্কুলশিক্ষকসহ তিনটি পরিবারের সদস্যদের দুই বছর ধরে একঘরে করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সমাজপতিদের নির্দেশ অনুযায়ী তিন মণ ছাগলের মাংস দিয়ে ১০০ হিন্দু পরিবারের সদস্যদের ভূরিভোজ না করানোর কারণে ২০০৭ সালের ২২ জুন থেকে পরিবারগুলোকে একঘরে করে রাখা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার রতিধর গ্রামের সহদেব কুমার রায় নায়েকের ছেলে ও দেউতিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মৃণাল কান্তি কয়েক বছর আগে শিবরাম গ্রামের বৈশ্য বর্ণের শিখা রানীকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। মৃণাল কান্তি ক্ষত্রিয় বর্ণের হওয়ায় সমাজপতিরা এই বিয়ে মেনে নেননি। কয়েকজন সমাজপতি ২০০৭ সালের ১৯ জুন সহদেব কুমারের বাড়িতে এসে এই বিয়ে বৈধ করার জন্য পুনরায় ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁরা ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে ১০০টি হিন্দু পরিবারের সদস্যদের তিন মণ ছাগলের মাংস দিয়ে ভূরিভোজ করানোর নির্দেশ দেন। এই নির্দেশ না মানলে তাঁর পরিবারকে একঘরে করে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।
স্কুলশিক্ষক মৃণাল কান্তি অভিযোগ করেন, সমাজপতিদের কথামতো তাঁরা ২০০৭ সালের ২১ জুন পুনরায় বিয়ের আয়োজন করেন। কিন্তু সমাজপতিদের নির্দেশ অনুযায়ী তিন মণ ছাগলের মাংস দিয়ে ১০০ হিন্দু পরিবারের সদস্যদের খাওয়াতে পারেননি। এই কারণে আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সমাজপতিরা ২২ জুন থেকে তাঁদের, তাঁর জ্যাঠা বিষামচন্দ্র রায় নায়েক ও মেশো নগেন্দ্রনাথ রায়ের পরিবারকে একঘরে করে রেখেছেন।
মৃণাল কান্তি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার প্রথম সন্তান সোমির কান্তির অন্নপ্রাসনে গ্রামের পুরোহিত প্রফুল্ল ভট্টাচার্যকে পূজার জন্য ডেকেছিলাম। কিন্তু তিনি আসতে রাজি হননি। পরে অন্য গ্রাম থেকে পুরোহিত এনে কাজ চালিয়েছি।’
রতিধর মৌজার পুরোহিত প্রফুল্ল ভট্টাচার্য বলেন, ‘মৃণাল নিচু জাতের মেয়েকে বিয়ে করেছেন। এটা সমাজপতিরা মেনে নেননি, তাঁদের দেওয়া শর্তও মৃণাল মানেননি। এমন অবস্থায় আমি কী করে ওদের বাড়িতে পূজা পার্বণে অংশ নিই।’
পঞ্চগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৃণালের পরিবারকে যে কারণে একঘরে করে রাখা হয়েছে তা বেআইনি। তিনি বলেন, ‘আমি গ্রামের সবাইকে মানবিক কারণে সমস্যাটির সমাধান করার জন্য বলেছি।’
পঞ্চগ্রাম বৈদিক সমাজকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শিবু প্রসাদ বসুনিয়া বলেন, অসমবর্ণের বিয়ের অজুহাত তুলে একজন স্কুলশিক্ষক ও তাঁর আত্মীয়দের পরিবারকে দুই বছর ধরে একঘরে করে রাখা অমানবিক। বিষয়টির সমাধান করার জন্য তাঁরা চেষ্টা চালাচ্ছেন।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুর রহমান জানান, মৃণালসহ তিনটি পরিবারকে একঘরে করে রাখার বিষয়টি তিনি লোক মারফত জানতে পেরেছেন। এই ব্যাপারে তিনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।
সমাজপতিদের মধ্যে একজন শিবুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। (প্রথমআলো’র লালমনিরহাট প্রতিনিধি)
 
এই খবরটি নেওয়া হয়েছে..দৈনিক প্রথম আলো থেকে

 

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.