খাজাঞ্চিখানা

ফজলে রেজওয়ান করিম

বনসাই December 14, 2009

Filed under: Plants(গাছ-পালা) — rezowan @ 3:38 am

অনেক যতেœর পর এ ডুমুরের গাছটি নয় বছরে বেড়ে হয়েছে ১৩ ইঞ্চি। ইতিমধ্যে ডুমুর গাছে ফল ধরেছে। এ রকম অসংখ্য বনসাইয়ের মালিক প্রভাষক বায়েজিদ বোস্তামী। তার স্বপ্নজুড়ে রয়েছে বনসাই। বায়েজিদের বাসাবাড়ির ছাদে ও ঘরে শোভাবর্ধন করছে নানা প্রজাতির বনসাই। পাবনার চাটমোহর পৌর সদরের আফ্রাতপাড়া মহল্লায় তার বাড়িতে রয়েছে একটি চমৎকার বনসাই বাগান। ছবি : রকিবুর রহমান টুকুন
চাটমোহর

 

রেমা-কালেঙ্গায় নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে-বনের খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ছে December 4, 2009

Filed under: Plants(গাছ-পালা) — rezowan @ 1:22 pm
প্রকাশিত হয়েছে প্রথম আলো’য়
কালেঙ্গা এলাকায় এখনো টিকে আছে কিছু প্রাকৃতিক গাছ।
তবে খাদ্যশৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন গাছ গজাচ্ছে না। জন্ম নিচ্ছে লতা আর ঝোপ
ছবি: প্রথম আলো

সুন্দরবনের পর দেশের সবচেয়ে বড় ও প্রাকৃতিক বন রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য। শুকনো ও মিশ্র চিরহরিত্ এই বন জীব ও উদ্ভিদবৈচিত্র্যে দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ এলাকা। কিন্তু গাছ চুরি আর বনের গাছ কেটে অবৈধভাবে কৃষিজমি বৃদ্ধির কারণে ইতিমধ্যে বনের চারটি বিটের (অংশ) মধ্যে রশিদপুর বিট প্রায় বিরান হয়ে গেছে। বাকি বনও হুমকির মুখে। এ অবস্থায় মাটির গঠনগত কারণে এ বনের খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙে পড়ছে।
রেমা-কালেঙ্গার অবস্থান হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায়। সাম্প্রতিক গণনা অনুযায়ী, ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৬৭ প্রজাতির পাখি, সাত প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৬৩৮ প্রজাতির গাছপালা, লতাগুল্ম রেমা-কালেঙ্গাকে সাজিয়ে তুলেছে। দেশের সবচেয়ে বড় বন সুন্দরবনের উদ্ভিদবৈচিত্র্য মাত্র ৩৩০ প্রজাতিতে সীমাবদ্ধ।
এখানকার বানরজাতীয় প্রাণীর বৈচিত্র্য এ বনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। বনের ছনবাড়ি, রেমা ও কালেঙ্গার কিছু অংশে গেলেই রিসাস বানর, কুলু বানর, লাজুক বানর, চশমাপরা হনুমান, লালচে হনুমানের দেখা মেলে। আছে আন্তর্জাতিকভাবে বিপন্ন পাখি লালমাথা ট্রগন, রাজ ধনেশ, ইমপেরিয়াল পিজিয়ন। বিপন্ন স্তন্যপায়ীদের মধ্যে কাঁকড়াখেকো বেজি, উড়ুক্কু কাঠবিড়ালি, রামকোটা কাঠবিড়ালিও দেখা গেছে বনের ভেতরে দুই দিনের অবস্থানে।
গত ১২ ও ১৩ নভেম্বর বনে গিয়ে চোখ আটকে যায় এক-দেড় শ বছরের পুরোনো প্রাকৃতিক মহীরুহ চাপালিশ, গর্জন, বনক, জারুল, ভূতি আওয়াল, পাহাড়ি আওয়াল, লোহা, হরগোজা, বোলো, বট, শ্যাওড়া, ডুমুর, গামার, বৈলাম, বনমালী, শাল গাছে। সঙ্গে আছে বন বিভাগের বোনা সেগুন, আগর, বহেড়া, কাঁঠাল, আমলকী, হরীতকী, ডেউয়া ও চালিতা গাছ। কিন্তু চোরদের হাত থেকে কোনো গাছই রেহাই পাচ্ছে না। বনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রতি রাতেই বনের কোনো না কোনো অংশে কাটা হচ্ছে গাছ। এতে একসময়ের আঁটোসাঁটো এই প্রাকৃতিক বন এখন লতা-ঝোপের জঙ্গল হতে চলেছে।
বনের আশপাশেই বসবাস করছে কিছু সাঁওতাল, ওঁরাও, মণিপুরিসহ সত্তর-আশির দশকে পুনর্বাসিত নোয়াখালীর নদীভাঙা মানুষজন। সংখ্যায় পুনর্বাসিতরা এখন আদিবাসীদের ছাড়িয়ে গেছে।
অভয়ারণ্যটি ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৯৬ সালে একে সম্প্রসারিত করায় বর্তমান আয়তন এক হাজার ৭৯৫ হেক্টর। এই অভয়ারণ্যের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। ২০০১-০২ সালের মধ্যে রশিদপুর বিটের অধিকাংশ প্রাকৃতিক গাছ রাজনৈতিক প্রভাবপুষ্ট গাছকাটা দস্যুদের হাতে উজাড় হয়ে যায়।
বনের পথে পথে: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল হয়ে চা-বাগান দিয়ে সংরক্ষিত বনের কালেঙ্গা এলাকায় ঢুকে চোখে পড়ল পাহাড়ি ছড়ার ওপর কাঠের গুঁড়ি। বন বিভাগের গাড়ি চলাচলের জন্য এ ব্যবস্থা। জানা গেল, সব সময় এ ব্যবস্থা থাকে না। না রাখার কারণ, জঙ্গলে যখন-তখন ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তা, ইকো ট্যুরিস্ট ও সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ।
কালেঙ্গায় বনের কোল ঘেঁষে প্রায়ই ধানক্ষেত চোখে পড়ল। আধ ঘণ্টা হাঁটার পর চোখে পড়ল কাটা গাছের গোড়া, গাছ নেই। একটু এগিয়ে গিয়ে আরও পাঁচটা এমন ‘মোথা’ পাওয়া গেল। এক জায়গায় কাটা গাছটিও পড়ে থাকতে দেখা গেল। পাশের লক্ষ্মীছড়ার পানি কমে যাওয়ায় চোরেরা গাছটি নিতে পারেনি বলে জানালেন স্থানীয় পথপ্রদর্শক।
কয়েকটি টিলা পেরিয়ে আসামিলতায় ঢাকা ঝোপড়ানো জঙ্গল। কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে আছে একটি গাছ। কোনো ছাল-বাকল নেই। ডালপালাও ছাঁটা। এটি হারগোজা গাছ। এই ছাল স্থানীয়ভাবে মশা তাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। এক মণ হারগোজার ছালের দাম ৬০ টাকা। এক একটি গাছ থেকে প্রায় পাঁচ মণ ছাল পাওয়া যায়। কিছুদিনের মধ্যে গাছটিও চুরি হবে বলে জানায় বনবাসীরা।
মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএইডের অর্থায়নে এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা নিসর্গসহায়ক প্রকল্পের গড়া নজর মিনারের (ওয়াচ টাওয়ার) কাছে কয়েকটি চাপালিশ গাছে পাঁচটা লালচে হনুমান (কেপড লেঙ্গুর) চোখে পড়ল। বিডিআর ক্যাম্পের কাছে একটি অশ্বত্থগাছে জড়ানো ফলবান বৈলামের গাছে গোটা পঞ্চাশেক হরিয়াল ছিল। হলুদ পা হরিয়াল ও চকোলেট পিঠের পম্পিডু হরিয়াল। গাছে আরও বসে ছিল বসন্ত বাউরি, ভীমরাজ, কাঠশালিক, হলুদ ঝুঁটির কাঠঠোকরা।
বনের ভেতরে নিসর্গের করা বনবাংলোয় ফিরতে ফিরতে বোঝা গেল এই অভয়ারণ্যটি নির্ভয়ে টিকে থাকতে পারছে না। বিকেল, সন্ধ্যা, পরদিন সকালে বিভিন্ন পেশার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ত্রিপুরা সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় বনের অবস্থা আরও খারাপ।
চুরির ইতিবৃত্ত: বন দপ্তরসহ বিভিন্ন সূত্র জানায়, ২০০১ ও ২০০২ সালে স্থানীয় প্রভাবশালী মন্ত্রিপুত্র রশিদপুর থেকে ব্যাপক হারে সেগুনকাঠ কাটিয়ে নেন। তত্কালীন বিট কর্মকর্তা বাধা দিলে তাঁকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। পরে তাঁকে বদলিও করে দেওয়া হয়। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ ছয় মাস ও বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসেও এ এলাকায় নির্বিচারে গাছ কাটা হয়।
সূত্রগুলো জানায়, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ছুরুক মেম্বার, বড়জুষের খায়ের মিয়া ও ছোট আলাই মিয়া বনদস্যুদের সংগঠক। তাঁদের সহায়তা করেন শাহাদত, তাজু, আলাউদ্দিন, জিয়ন, ছিদ্দিক, হোসেন, বেলাল প্রমুখ।
সাধারণত গাছ কেটে এসব নেতাকে নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য গাছপ্রতি কর্মীরা পান ১০০ টাকা করে। দলপতি পান ২০০ টাকা। গাছ আনা হয় বড়জুষ। এখানে চুনারুঘাট, রানীগঞ্জের মহালদারদের দালালেরা সিএফটি হিসাবে কাঠ কেনেন। এরপর ঠেলাগাড়িতে কাঠ চানুরুঘাট-রানীগঞ্জের করাতকলে আনা হয়।
কাঠ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে চোরাই কাঠের মধ্যে সেগুন কাঠ বিক্রি হয় প্রতি সিএফটি ৮০০ টাকা, কাঁঠাল ৬০০, আওয়াল কাঠ ৬০০, চাপালিশ ও জারুল কমবেশি ৫০০ টাকা হারে। এখন সবচেয়ে বেশি কাটা হচ্ছে কাঁঠালগাছ। আর প্রতিদিন অন্তত ১০টি গাছ করাতকলে পৌঁছায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
বেড়ায় ক্ষেত খায়: বন পাহারা ও ব্যবস্থাপনার জন্য স্থানীয় গ্রামবাসীকে নিয়ে ১৫৫ সদস্যের নিসর্গ সহায়তা প্রকল্প কো-ম্যানেজমেন্ট (সহব্যবস্থাপনা) কমিটি আছে কালেঙ্গা বন অফিসের সহায়তার জন্য। এরা পালা করে রাতে বনরক্ষীর সঙ্গে টহলে বের হতো। তবে এখন এদের কাজ বন্ধ। আর বন বিভাগের নেতৃত্বে প্রকল্প যুব প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, গণ্যমান্য ব্যক্তি, বন ব্যবহারকারী দলগুলোকে নিয়ে ৫৫ জনের একটি কমিটি করে দিয়েছিল নিসর্গ। এদের দায়িত্ব ছিল প্রতি মাসে বনের অবস্থা পর্যালোচনা করে উন্নয়নের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, বর্তমানে বন বিভাগের বিশেষ করে কালেঙ্গা বিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের অনীহার কারণে কোনো সভা হয় না। গাছচোরদের সহায়তাকারী হিসেবে অনেকেই এই বিট কর্মকর্তার নামও বলেছেন। তবে এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য জানা যায়নি।

বনের ছনবাড়ি অংশে গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। বনের ভেতরের ছড়া শুকিয়ে যাওয়ায় গাছটি নিতে পারেনি চোরের দল

বন কেটে ক্ষেত: বন বিভাগের পাহারায় সহায়তাকারী গ্রামবাসীকে অভয়ারণ্য লাগোয়া সমতলে ফসল বোনার জন্য পরিবারপ্রতি এক কেয়ার (৩৫ শতাংশ) করে জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু গ্রামবাসী বন বিভাগের অসাধু কর্মচারীদের সহায়তায় বন কেটে এই জমি বাড়িয়েছে। ৩০ থেকে ৫০ কেয়ার জমির মালিকও এখন আছেন সেখানে।
সংরক্ষণ কেন জরুরি: শুধু বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের বনে বৃষ্টিপাত হয়। প্রায় পাঁচ মাস শুকনো থাকে বলে এ ধরনের বনভূমিকে বলা হয় শুকনো রেইন ফরেস্ট। দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন ও পশ্চিম-মধ্য আফ্রিকার জঙ্গল হচ্ছে ভেজা রেইন ফরেস্ট। ওই সব অঞ্চলে প্রায় প্রতিদিন কিছু মাত্রায় বৃষ্টিপাত হয়।
এ ধরনের বনে গাছপালা অনেক লম্বা হয়। বন হয় তিন স্তরবিশিষ্ট। মাটি থেকে ২৫ ফুট উঁচু এলাকার আবহাওয়া থাকে ভেজা আর গরম। মাটিতে গাছের ডালপাতার পুরু স্তর জমে পচে সার হয়। সেখান থেকেই গাছগুলো খাদ্য পায়। তবে বালু মাটির কারণে এমন বনে মাটির নিচে গাছের খাদ্য তেমন থাকে না।
ওপরের দিকে পরবর্তী ২৫ ফুট এলাকায় কিছুটা বাতাস বয়। এখানে বানর, কাঠবিড়ালি, গেছো ব্যাঙ, উড়ুক্কু সাপ আর গাঢ় রঙের পাখিদের রাজত্ব। গানের পাখি, শিকারি পাখি ও প্যাঁচা এদিকটায় থাকে।
সবচেয়ে ওপরের স্তরে ধনেশ, পাহাড়ি ময়না, ট্রগন প্রভৃতি বসবাস করে।
মূল মাটি অনুর্বর বলে এ ধরনের বনের গাছ কাটা পড়লে বৃষ্টির কারণে বনের প্রথম স্তরের সারযুক্ত মাটি ধুয়ে যায়। সেখানে দ্রুত লতা, ঝোপজাতীয় গাছ গজিয়ে ওঠে বটে কিন্তু মূল গাছ আর ফিরে আসে না।
শত শত বছরে গড়ে ওঠা এ ধরনের বনভূমি যে খাদ্য-শৃঙ্খল তৈরি করে টিকে ছিল, তার অনেকটাই রেমা-কালেঙ্গার বনে ভেঙে পড়েছে। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পাঁচ-সাত বছরের মধ্যে বনের কিছু টিলা ন্যাড়া হয়ে যেতে পারে।
বনের অবস্থা জানিয়ে কথা বলতে চাইলে প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) আবদুল মোতালেব জানান, রেমা-কালেঙ্গার বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একজন বন সংরক্ষকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতিমধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে এসেছে। তাদের প্রতিবেদন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

পপি মাদক November 17, 2009

Filed under: Plants(গাছ-পালা) — rezowan @ 4:49 pm

মাদকের নেশায় মত্ত থাকার আত্মবিধ্বংসী খেলার মাঝে হারিয়েছি জীবনের মূল্যবান সময়। বোধদয় হয়নি …..

পপি মাদকের অন্যতম প্রাকৃতিক উপাদান সচরাচর অনেকেই একটা ভুল ধারনা নেই যে সব পপি ফুল থেকেই মাদক দ্রব্য তৈরী হয়। আসলে তা নয়। এই পপি ফুলেরই আবার অনেক নিরীহ প্রজাতি রয়েছে আমাদের বাগানে শোভা পায়। জীবন বিনাশী এই গাছ আমাদের কাছে বর্জনীয় হোক।
এই পপি থেক আফিম বা অপিয়াম তৈরী হয়। যা মরফিন ডেরেভেটিভ।
বৈজ্ঞানিক নামঃ Papaver somniferum যা Papaveraceae পরিবারের একটি উদ্ভিদ আফিম/ Opium poppy নামে সবার কাছে পরিচিত।
ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে চারা ……..
ফুল এবং ফল আস্তে আস্তে পরিপক্ক হচ্ছে
পরিপক্ক ফলের মধ্যে ব্লেডের আচর ব্যাস ৪-৫ ঘন্টা অপেক্ষা বেরিয়ে আসে Raw Opium চাষী তা সংগ্রহ করে।
এর পর বিভিন্ন রাসয়নিক প্রক্রিয়ায় অন্যান্য ডেরেভেটিভ বানানো হয়।
বুঁদ হয়ে যাওয়া আফিমের নেশায়।

এর আরেক খালাতো ভাই হলো হিরোইন
হিরোইন- সাধারনত সাদা দানাদার (স্ফোটিক)পদার্থ, অবস্থাভেদে সাদা পাউডারের মতও হয়ে থাকে। হিরোইন সম্পর্কে বলতে গেলে সবার আগে
যে বিষয়টা বলা দরকার তা হল “মরফিন” ও “কোডেইন”। হিরোইনের সবচেয়ে নিকটতম আত্মীয় হল মরফিন।
সাধারনত হিরোইন ব্যাথার ও রিক্রেয়েশিনাল ওষুধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। হিরোইন সাধারনত ডাইএসিটাইল মরফিন হিসাবে রাসায়নিক ভাবে পরিচিত। আর সেকারনেই হিরোইনের যাবতীয় রসায়ন মরফিনের ভিতরেই।
হিরোইনের ইতিহাস অনেক পুরাতন। ওপিয়াম পপি খৃষ্টপূর্ব ৩৪০০ তে মেসোপটেমিয়াতে চাষ শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়। ঊনিশ শতকে ওপিয়াম থেকে মরফিন ও কোডেইনের রসায়ন সম্পর্কে মানুষ জানতে শুরু করে।
১৮৭৪ সালে বৃটিশ ডাক্তার এলডার রাইট সেন্ট ম্যারি হাসপাতালে মরফিনের সাথে এসিটিক এনহাইড্রাইড গরম করতে গিয়ে প্রথম হিরোইন আবিষ্কার করেন। সাথে আরও দেখাতে সক্ষম হন যে মরফিনের থেকে হিরোইনের কার্যক্ষমতা অনেক বেশী। রাইটের আবিষ্কার এরপরে প্রায় ২৩ বছর ঐ টুকুর ভিতরেই সীমাবদ্ধ ছিল। এরপরে জার্মান রসায়নবিদ হফম্যান ল্যাবরেটরীতে স্বতন্ত্রভাবে হিরোইন প্রস্তুত করেন। মূলত জার্মান রসায়নবিদের আবিষ্কারের পর থেকেই হিরোইন নামটি পরিচিতি পেতে শুরু করে। জার্মান শব্দ heroisch (heroic) থেকে হিরোইন নামের উৎপত্তি। হফম্যান গবেষনায় আরও দেখান যে হিরোইন মরফিনের থেকে ২-২.৫ গুন বেশি শক্তিশালী।
ওপিয়ামের অন্যতম উপাদান হল মরফিন। দেখতে ছবির মত। মরফিন সরাসরি সেন্ট্রাল নার্ভাস সিসটেমে (CNS) কাজ করে তাই ব্যাথা কমাতে এর জুড়ি নাই।

১৮০৪ সালে জার্মান রসায়নবিদ ফ্রেডরিক এডাম জার্মানির পিডারবর্নে প্রথম মরফিন আলাদা করেন। আলাদা করার পরে তিনি এর নাম দেন Morpheus (মানে the Greek god of dreams) তারপরে morphium। ১৯৫২ সালে ইউনিভারসিটি অব রচষ্টারের প্রফেসর মার্শাল প্রথম ল্যাবরেটরীতে মরফিন তৈরি করেন। মরফিন এখনও চেতনানাশক হিসাবে হসপিটালে ও যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

Morphine
Heroine

ছবিতে ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখবেন মরফিনের আর হিরোইনের মধ্যে সামন্য (কালো অংশ = এসিটাইল গ্রুপ) একটু পার্থক্য। এই সামন্য অংশের জন্যই মরফিনের থেকে হিরোইন বেশি শক্তিশালী। এই এসিটাইল অংশটিই হিরোইনকে লিপিডে খুব দ্রুত দ্রবীভুত হতে সাহায্য করে ফলে হিরোইন খুব দ্রুত ব্লাড ব্রেইন বেরিয়ার ক্রস করে এবং দ্রুত ব্রেইনে ঢুকে পরে। আর ব্রেইনে ঢুকামাত্রই হিরোইন ভেঙ্গে মরফিন হয়ে যায়, এবং মরফিনের যাদুকরী কর্মদক্ষতা প্রদর্শন শুরু করে।
বিষয়টা অনেকটা ঝাল আর দুধের মত। অনেকই হয়ত জানেন ঝাল লাগলে মানুষ দুধ পান করে কারন দুধে, মরিচের যে উপকরনটি ঝালের জন্য দায়ী তা খুব দ্রুতই দ্রবীভুত হয়. যা পানিতে দ্রবীভুত হয় না। ফলে ঝাল মুখের ঝাল কমাতে দুধ সব চাইতে বেশি কার্যকর।
ছবিতে মাঝে নাইট্রোজেনের সাথে যে মিথাইল গ্রুপ আছে তা যদি একটা ফিনাইল গ্রুপ দিয়ে পতিস্থাপিত করা হয় তাহলে যে যৌগ হয় তা মরফিনের থেকে ১৮ গুন বেশি শক্তিশালী।
মরফিনকে আর একটু পরিবর্তন করলে যে যৌগ পাওয়া যায় তা মরফিনের থেকে প্রায় ১০,০০০ গুন বেশি শক্তিশালী। এই ভয়ংকর শক্তিশালী রাসায়নিক যৌগের নাম “ইটোরফিন”।
ইটোরফিনের মানুষের চামড়ার উপরে একফোটা পরলেই মানুষ মারা যায় কয়েক মিনিটের মধ্যে। খুবই সামন্য পরিমানে ব্যবহৃত হয় হাতি বা অন্যান্য বড় প্রাণীকে আয়ত্তে আনার জন্য।
মরফিন থেকে খুব সামন্য পরিবর্তন করে হিরোইন, ইটোরফিন বানানো যায় আর এইকাজে এসিটাইল এনহাইড্রাইড, এসিটাইল ক্লোরাইড ব্যবহৃত হয় বলে আজকাল আর এই সহজলোভ্য জিনিষগুলো বাজারে আর কিনতে পাওয়া যায় না।
writer: পাঙ্খা

 

ড্রাগন ফল November 13, 2009

Filed under: Plants(গাছ-পালা) — rezowan @ 1:03 pm

ড্রাগন মানে তো রূপকথার সেই ভয়াবহ প্রাণী, যার মুখ দিয়ে আগুন বের হয়। কিন্তু এমন ভয়াবহ প্রাণীটির নামে যে ‘ড্রাগন ফ্রুট’ তা কিন্তু আসলে সুস্বাদু ও লোভনীয় একটি ফল। এতকাল ফলটি আমাদের কাছে ভিনদেশি হয়েই ছিল। এবার সেই ফলে নিজস্ব প্রযুক্তিতেই চাষ শুরু হয়ে গেল বাংলাদেশে।
জুলাই মাসের শেষ দিকে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে এই ড্রাগন ফ্রুটের চমত্কার বাগান দেখে অবাকই হতে হলো। জার্মপ্লাজম সেন্টারে রীতিমতো রঙের মেলা বসেছে এই বাগানে। রংবেরঙের ফল ঝুলে আছে গাছে গাছে। কোনো কোনো গাছে উঁকি দিচ্ছে ফুলের কলি।
ফল চাষের ক্ষেত্রে সেখানে আমাদের নিজস্ব পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। ফালি করে কাটা বাঁশের মাথায় বসানো হয়েছে পরিত্যক্ত টায়ার; তার ওপর তুলে দেওয়া হয়েছে লতা। লতাগুলো দিব্যি ঝুলে পড়েছে চারপাশে। কোনো কোনো গাছে ফুল এসেছে, কোনো কোনোটিতে ফল। সেখানকার জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা সামছুল আলম মিঠু জানিয়েছেন, প্রায় ২০-২৫টি গাছ নিয়ে বাগানের যাত্রা শুরু হলো। ক্রমান্বয়ে বাগানের পরিসর আরও বাড়বে।
ড্রাগন ফ্রুট (Hylocereus undatus) রেড পিটায়া, স্ট্রবেরি পিয়ার, কনডেরেলা প্লান্ট ইত্যাদি নামেও পরিচিত। ১৮৩৬ সালে সর্বপ্রথম জনৈক বিংহাম হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে এর চাষ শুরু করেন। তারপর ধীরে ধীরে পৃথিবীর অন্যান্য উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্য আমেরিকা, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ায় প্রচুর পরিমাণে চাষ হতে দেখা যায়। প্রতি হেক্টরে গড়পড়তা উত্পাদন ২০-২৫ টন। এ ছাড়া ইসরায়েল, কলাম্বিয়া ও নিকারাগুয়ায়ও বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয় ড্রাগন ফ্রুট।
উষ্ণ ও আধা শুকনো অঞ্চলে ফলটি ভালো জন্মে।
ড্রাগন ফ্রুটের গাছ লতানো, মাংসল, খাঁজালো। লোহা, কাঠ বা সিমেন্টের খুঁটি বেয়ে দিব্যি বেড়ে উঠতে পারে। পাকা ফল না ধুয়ে পাঁচ দিন পর্যন্ত ফ্রিজে ভালো রাখা যায়। সচরাচর অন্তত চার রকমের ফল দেখা যায়—লাল বাকল, লাল শাঁস; হলুদ বাকল, সাদা শাঁস; লাল বাকল, সাদা শাঁস; লাল বাকল এবং নীলচে লাল শাঁস। রঙের ভিন্নতা অনুযায়ী স্বাদের ক্ষেত্রেও তারতম্য লক্ষ করা যায়। শাঁসের ভেতর ছোট ছোট অজস্র কালো বীজ থাকে।
বিশ্ববাজারে ড্রাগন ফ্রুটের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। আমাদের দেশে ফলটি একেবারে নতুন হলেও ক্রমেই মানুষ এর স্বাদের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। শুধু ময়মনসিংহেই নয়, বড় আরেকটি বাগান আছে নাটোর শহরের ঝাউতলা এলাকায়। কৃষিবিদ কামরুজ্জামান সেখানে এক বিঘা জায়গার ওপর বাগান করেছেন।
তাতে চার ধরনের ড্রাগন ফ্রুটের ২০০ গাছ লাগিয়েছেন তিনি। এ বছর প্রায় ৫০টি গাছে ফুল হয়েছে, ফল ধরেছে ২৫টি গাছে।
আশা করতে পারি, একসময় ড্রাগন নামের এই ফল আমাদেরই হয়ে উঠবে!

 

বনৌষধি জাফরান October 31, 2009

Filed under: Plants(গাছ-পালা) — rezowan @ 6:47 pm

প্রকাশিত হয়েছে প্রথম আলোয়লিখেছেন নওয়াজেশ আহমদ
জাফরান নিয়ে কয়েক বছর আগে আমাদের দেশে এক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। বিক্সা গাছকে জাফরান বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন বেশ কড়া ভাষায় প্রতিবাদ করে একটা লেখা লিখেছিলাম একটি দৈনিক পত্রিকায়। এখন জাফরানের কথা বলা যাক।

আসলে জাফরান বা কুমকুম তৈরি হয় এক ধরনের পেঁয়াজের মতো ছোট গুল্মের ফুলের গর্ভকেশর থেকে। এই কন্দগুল্মের বৈজ্ঞানিক নাম Crocus sativa, পরিবার Iridaceae। এশিয়া মাইনরের পাহাড়ি এলাকায় এর আদি বসতভূমি। প্রাচীন মিসর ও গ্রিসবাসী এর ব্যাপক ব্যবহার জানত। বিখ্যাত গ্রিক প্রজ্ঞা ও বক্ত ইসোক্রোটিস জাফরানের গুঁড়া দিয়ে বালিশ সুগন্ধি করতেন সুখনিদ্রার জন্য। ফিনিসিয়ান ও রোমানরা একে নানাভাবে ব্যবহার করত। ৯০০ শতকের দিকে আরবরা এই কন্দ সম্প্রসারণ করে স্পেন ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে। বর্তমানে দক্ষিণ স্পেনের আব্রুজি গ্রামে, ইতালি, পারস্য ও কাশ্মীরের পামপুরের উচ্চভূমিতে জাফরানের চাষ হয়ে থাকে। জাফরান অত্যন্ত স্পর্শকাতর আবহাওয়া, জলবায়ু ও মাটির ব্যাপারে। আগস্ট মাসে সাধারণত এর পেঁয়াজের মতো কন্দ লাইন করে চক জাতীয় মাটিতে রোপণ করা হয়। কয়েকটা পাতা গজানোর পর প্রতি কন্দ থেকে দু-তিনটি হালকা বেগুনি রঙের ফুল দেখা দেয়। পাপড়ি ছয়টি। অক্টোবর মাসে এই ফুল সংগ্রহ করা হয় অতি যত্নের সঙ্গে। এরপর ফুলের ভেতর থেকে উজ্জ্বল কমলা রঙের গর্ভকেশর তোলা হয় বিশেষ যত্নসহকারে। এই কেশর শুকিয়েই তৈরি হয় জাফরান। এক পাউন্ড জাফরান তৈরি করতে প্রায় ৮০ হাজার ফুলের প্রয়োজন হয়। সে জন্য আসল জাফরান এত মূল্যবান। কাশ্মীরের জাফরান ঈষত্ লাল ও পদ্মফুল গন্ধি। এটি শ্রেষ্ঠ জাফরান বলে বিবেচিত। দক্ষিণ ইউরোপের জাফরান ফিকে লাল আর গন্ধ অনেকটা কেয়া ফুলের মতো। এর মান মধ্যম। আর ইরানের জাফরান একটু সাদাটে ও মধুর গন্ধযুক্ত। এটা নিম্নমানের।
জাফরানের উল্লেখযোগ্য রাসায়নিক দ্রব্য হচ্ছে: ক্যারোটিন, লাইকোপেন, রাইবোফ্লোবিন, ক্রোচিন ও ক্রসিটিন নামের গ্লাইকোসাইডস। ভারতের প্রাচীন ভেষজ সাহিত্যে জাফরানের সন্ধান পাওয়া যায়। গুণ পর্যায়ে সুগন্ধি, উষ্ণবীর্য, কাশ, বায়ু ও কণ্ঠরোগনাশক। দেহের কান্তিবর্ধক। পেটের নানাবিধ রোগে উপকারী। বিশেষ করে হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে থাকে।
নানা ধরনের খাবার-দাবারে সুগন্ধি ও রঙের জন্য জাফরানের ব্যবহার অতি প্রাচীন। মূল্যবান পোশাক রাঙাতে জাফরানের ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত ছিল।
নজরুলের একটা গানের কলি দিয়ে শেষ করছি জাফরান প্রসঙ্গ।
‘পরি জাফরানী ঘাঘরি চলে সিরাজের পরী…’।

জাফরান একটি সুন্দর ফুল বেশির ভাগ ভারতে কাশ্মীরে জন্মায়। যেটি ওজনের মধ্যে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা মূল্যবান মসলার একটি । এইটি গ্রিসে প্রথম চাষ করা হয়েছিল। বিরিয়ানীতে রংএর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।

এক অজানা কারণে জাফরান ফল তৈরী করতে পারে না। যার ফলে এটা বংশ বিস্তারের জন্য মানুষের সাহয্য প‌্রয়োজন হয়। ক্রোমগুলি মাত্র এক বছর পর্যন্ত বেচে থাকে এবং এর মধ্যেই এই ক্রোমগুলিকে মাটিতে রোপন করতে হয়। এইটার বাংলা নামঃ জাফরান
অন্যান্য স্থানীয় নামঃ saffron Za’afaran, Zaafaran Kesar, Zafran
বৈজ্ঞানিক নামঃ Crocus sativus পরিবারঃ Iridaceae (Iris family)

বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস

জগৎ/রাজ্য: Plantae
বিভাগ: Magnoliophyta
শ্রেণী: Liliopsida
বর্গ: Asparagales
পরিবার: Iridaceae
উপরিবার: Crocoideae
গণ: Crocus
প্রজাতি: C. sativus
দ্বিপদ নাম
Crocus sativus

 

বনৌষধি দুধিয়া/বড় কেরুই October 17, 2009

Filed under: Plants(গাছ-পালা) — rezowan @ 11:16 pm

 দুধিয়া—এই জনপ্রিয় নামকরণের পেছনে হয়তো এর নরম কাণ্ড ভাঙলে দুধের মতো সাদা কষ বের হওয়ার বিষয়টি থাকতে পারে। তবে এর পোশাকি নাম বড় কেরুই। এক অতি সাধারণ বীরুধ। আমাদের দেশে রাস্তাঘাটের পাশেই এদের জন্মাতে দেখা যায়। ধানি জমির পাশে ও বসতবাড়ির জঙ্গলা জায়গায় এদের দেখতে পাওয়া যায়। আমি এদের দেখেছি মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস থেকে ইন্দোনেশিয়ায় ক্ষেতখামারের ধারে। অতি নগণ্য আগাছা হয়েও ভেষজগুণে সে এক সমৃদ্ধ উদ্ভিদ।
এই নরম বীরুধ বর্ষজীবী, সোজা ও অবনতভাবে জন্মে থাকে। এক-দুই ফুট উঁচু। কাণ্ড রোমযুক্ত। পাতা সরল ও বিপরীত। কিনারা করাতের মতো কাটা কাটা। বৃন্ত ছোট ছোট। পাতার শিরা বেশ স্পষ্ট। পুষ্প-বৃন্ত ছোট। ফুল একলিঙ্গী। মানে স্ত্রী ও পুরুষ ফুল আলাদা, তবে একই পুষ্পগুচ্ছে জন্মে থাকে। প্রতিটি পুষ্পগুচ্ছে একটি স্ত্রী ফুল মাঝখানে জন্মে থাকে আর পুরুষ ফুল অনেকগুলো তার চারদিকে ঘিরে থাকে। বীজ ছোট ধূসর রঙের। সাধারণত শীতকালে ফুল হয়ে থাকে। সব থেকে মজার কথা হলো, রাস্তার ধারের এই আগাছা ভারতীয় বনৌষধির বিখ্যাত গ্রন্থ রাজনিঘণ্টুতে এক স্থান করে নিয়েছে। এর সমালংকৃত নাম হলো: খরস্কন্ধ, প্রিয়াল, নবদ্রু, তাপসপ্রিয়। ভারতীয় বনৌষধির তালিকায় এর প্রধান গুণ রক্ত আমাশয় ও পেট বেদনায় ব্যবহূত হয়। প্রসূতিদের স্তন্যদুগ্ধের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে থাকে। গাছের সাদা কষ জীবাণুনাশক। এর সাদা কষে ও কাণ্ডে আছে গ্লাইকোসাইডস, স্টেরোল নামের রাসায়নিক পদার্থ। চীনা-থাই ভেষজ তালিকায় গাছের নির্যাস অ্যাজমা ও মৃগী রোগের এক উপকারী ভেষজ। পুরান কাশিতে এর উপকার পাওয়া যায়। এই প্রজাতির নাম Euphorbia hirta আর পরিবার Euphorbiaceae। আমাদের দেশে এর আরও কয়েকটি ঘনিষ্ঠ ভেষজ প্রজাতি আছে। যেমন: বাজবারন, মনসাসিজ, ছোট কেরুই ও শ্বেত কেরুই।

 

মানুষখেকো গাছ October 15, 2009

Filed under: Plants(গাছ-পালা) — rezowan @ 1:29 pm
প্রাণীরা জীবন ধারণের জন্য বিভিন্ন প্রাণী শিকার করে। তারপর কোনও প্রকার রান্না বান্না ছাড়াই শিকার করা প্রাণীটিকে খেয়ে ফেলে তারা। সবাই মাংসখেকো উদ্ভিদের নাম শুনে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সত্যি কথা হলো মানুষ খেয়ে ফেলে এমন কোন উদ্ভিদের দেখা এখনো পায়নি উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা। তবে কিছু উদ্ভিদ আছে যারা ছোট ছোট পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে । এদের বলে মাংসখেকো উদ্ভিদ।

মাংসখেকো উদ্ভিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উদ্ভিদ হলো কলস উদ্ভিদ, ফ্লাইপেপার ট্র্যাপ, স্ন্যাপ ট্র্যাপ, ব্লাডার ট্র্যাপ, লবস্টার-পট ট্র্যাপ, ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ ইত্যাদি।
বাংলাদেশের বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে খুঁজলেও এই উদ্ভিদ খুঁজে পাওয়া যায় (ফজল ভাই, মাকবুহ ভাই, সজলদাকে জিজ্ঞেস করতে হবে)। সেখানে সূর্য শিশির, ভেনাস ফ্লাই ট্র্যাপ নামের একাধিক মাংসখেকো উদ্ভিদ আছে।
সাধারণত যেসব এলাকার মাটিতে পুষ্টি উপাদান কম (বিশেষ করে নাইট্রোজেন) এবং মাটি ভেজা সেখানে মাংসখেকো এই উদ্ভিদগুলোকে জন্মাতে দেখা যায়। কারণ মাটি থেকে পুষ্টি না পাওয়ায় এর অভাবটা এরা পোকামাকড় খেয়ে মিটিয়ে থাকে। দক্ষিণ আমেরিকাতে মাংসখেকো উদ্ভিদ সবচে বেশী দেখা যায়। এছাড়া এশিয়ার কিছু দেশেও এর দেখা পাওয়া যায়।
এই উদ্ভিদগুলো পোকামাকড়কে ধরার জন্য নানা ধরনের ফাঁদ পাতে। আর পোকামাকড়ও সেই ফাঁদে সহজেই ধরা পড়ে।

কলস উদ্ভিদ দেখতে অনেকটা কলসের মতো। তাই এর নাম কলস উদ্ভিদ। এই কলসের উপরের দিকে ফুলের মতো দেখতে লাল রঙের চমৎকার একটি অংশ থাকে। এই অংশে মধুর মতো রস নিংসৃত হয় যা পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করে। মধুলোভী পোকামাকড় এই কলসের উপরে বসে মধু সংগ্রহ করতে গেলেই ঘটে যায় বিপত্তি। কারণ পিচ্ছিল কলসের উপর বসার কিছুক্ষনের মধ্যেই সে পা পিছলে কলসের মধ্যে পড়ে যায়। এরপর কলসের ভেতরের এক ধরনের রস এসে পোকাটিকে আটকে ফেলে। তারপর কলস উদ্ভিদ আরও কিছু রসের সাহায্যে পোকাটাকে হজম করে ফেলে। তবে সেরা মাংসখেকো উদ্ভিদ সম্ভবত ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ। আমেরিকার সাউথ ও নর্থ ক্যারোলিনায় এই উদ্ভিদগুলো ব্যাপকভাবে বিভিন্ন প্রকারে পাওয়া যায়। উদ্ভিদগুলো প্রায় এক ফিটের মতো লম্বা হয়। ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের পাতাগুলো দেখতে অনেকটা মুখের চোয়ালের মতো। এই পাতাগুলো তিন থেকে ছয় ইঞ্চির মতো লম্বা হয় এবং এতে ছোট ছোট অনেকগুলো লোম থাকে।

পোকামাকড় যদি কখনো এই পাতার উপর বসে তাহলে এই পাতা মুহুর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। কারণ ভেনাস ট্র্যাপের পাতা খুবই সংবেদনশীল। তাই আধ সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে সে তার পাতা বন্ধ করে ফেলতে পারে। ঠিক এই সময় আবার পাতার লোমগুলোও পোকাকে বাইরে বের হতে বাধা দেয়। ফলে পাতার মাঝখানে পোকা আটকা পড়ে। এর পর আর কী, পাতা থেকে বিশেষ এক রস বের হয়ে পোকাকে হজম করতে শুরু করে। এভাবে একটা পোকা হজম করতে ভেনাস ট্র্যাপের ১০ দিনের মতো সময় লাগে। একটি পোকা হজম শেষ হলে ওই পাতাটা আবার খুলে যায় নতুন কোন পোকাকে ধরার আশায়। একটি পাতা তিন থেকে চারটি পোকা ধরতে পারে, তারপর তার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়, নতুন পাতা শুরু করে শিকারের কাজ।

কিছু কিছু বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন, পরিবর্তিত পরিবেশে টিকে থাকতে গিয়ে বিবর্তনের মাধ্যমে এই সব উদ্ভিদ মাংসভূক হয়েছে। কিন্তু অনেকেই বিজ্ঞানীদের এই মতবাদ সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করেন।

এখন তো মানুষ শখ করে বাড়িতে টবে চাষ করছে মাংসখেকো বা মাংসভূক উদ্ভিদ।
যেখান খেকে সাহায্য নিয়েছিঃ
(ক) মানুষ আবার খায় নাকি গাছ? (এজাজুল করিম)
(খ) বিডি কিডস
(গ) ভয়ংকার আফ্রিকা
(সৃংগৃহীত লেখায় সামন্য পরিবর্তিত)
writer সুজন

 

কর্পস ফুল October 10, 2009

Filed under: Plants(গাছ-পালা) — rezowan @ 5:59 pm

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জিনিসগুলোর মধ্যে ফুলই হয়তো সবার ওপরের স্থানটি দখল করে আছে। সুন্দর কিছু দেখলেই আমরা তা ফুলের সঙ্গে তুলনা করি। পৃথিবীতে ফুল নিয়ে যে কত গান, কবিতা লেখা হয়েছে আর আঁকা হয়েছে কত ছবি, এর হিসাবটা উদ্ধার করা এক কথায় অসম্ভব। কোথায় নেই ফুল! জন্ম থেকে মৃত্যু ফুল সৌন্দর্য আর পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে মানুষের জীবনের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার। ফুলের হাজারো রঙের বাহার আর মনকাড়া বিচিত্র সৌরভ সবাইকে মাতাল করে, রাঙিয়ে তোলে জীবনকে। তাই আমরা দেশকে একটি ফুলের সঙ্গে তুলনা করে বলি, ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি…।’ পৃথিবীর এই বিশাল ফুলরাজ্যে কত আকারের ফুল যে রয়েছে, কোনো হিসাব নেই। তবে পৃথিবীর সব ফুলবাগানের অগণিত ফুলের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফুলটির কথা জানি আমরা। ফুলটির নাম কর্পস। বিজ্ঞানীরা ডাকেন অ্যামোরফোফ্যালাস টাইটেনাম নামে। প্রায় ৮০ কিলোগ্রাম ওজন আর ১২ ফুট উচ্চতার তীব্র কটু গন্ধযুক্ত এই ঢাউস ফুলগুলো প্রিয়জনকে উপহার দিতে চাইলে রীতিমতো ঘাম ছুটে যাবে আপনার, সন্দেহ নেই তাতে!

 

বনৌষধি রক্তচিতা October 9, 2009

Filed under: Plants(গাছ-পালা) — rezowan @ 10:48 pm

নওয়াজেশ আহমদ

সেদিন রামগড়ের এক পাহাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। একটি লিচুবাগান পরিদর্শন করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। চীনা তিন জাতের লিচু দিয়ে সে বাগান সমৃদ্ধ। পাহাড়ি এলাকা, নানা ধরনের গাছ-গাছালিতে আচ্ছন্ন। হঠাত্ বাঁ পাশের এক ঝোপের মধ্যে চোখে পড়ল লাল ফুলে আচ্ছাদিত অনেকগুলো পুষ্পদণ্ড। আমার পরিচিত ফুল বলে মনে হলো। কাছে গিয়ে ভালো করে দেখলাম। হ্যাঁ, এই প্রজাতি আমি ব্যাংককের মাহিদোল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেষজ গাছপালার বাগানে দেখেছি। যার থাই নাম চিত্তামুন ফ্লোয়েন। আমাদের দেশে এই প্রজাতির নাম রক্তচিতা। ফুল ও কচি ডাল লাল রং বলেই হয়তো এই নাম।
বহুবর্ষজীবী ছোট গুল্ম, পাঁচ ফুট উঁচু হতে পারে। গাছের গা আঠালো, পাতা সরল ও একান্তর। পাতার আকার মোটামুটি ডিম্বাকৃতি। পুষ্পবিন্যাস গাছের আগায়, কখনো কখনো পার্শ্ববর্তী। বৃতি কিছুটা আঠালো। ফুলে পাঁচটা পাপড়ি। বেশ লাল রঙের, ফল ক্যাপসুল।
রক্তচিতার মূলে আছে কয়েক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ। এই যেমন প্লাবাজিন, সিটোস্টেরোল, গ্লাইকোসাইডস। থাই-চীনা মতে, তাদের প্রধান ভেষজ গুণ হচ্ছে প্লাবাজিন পাইলস রোগে উপকারী। কারণ এই রাসায়নিক মল পরিষ্কার করতে সাহায্য করে থাকে। তবে মিউকাসে একটু জ্বালাপোড়া করতে পারে। ভারতীয় বনৌষধিতে নব্যের সমীক্ষায় এই প্রজাতির ব্যবহার দেখা যায়। বিশেষ করে হেপাটাইটিস, ডিসপেপসিয়া ও বাতরোগে। লিওকোডারমা চর্মরোগে এর ব্যবহার দেখা যায়। তবে বেশ সাবধানের সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়। রক্তচিতার বৈজ্ঞানিক নাম Plumbago indica। পরিবারের নাম Plumbaginaceae। রক্তচিতার বেশ কয়েকটি ঘনিষ্ঠ প্রজাতি দেখা যায় আমাদের দেশের পাহাড়ি এলাকায়।

This Picture taken from TopTropicals
 

সুসান ফুল October 8, 2009

Filed under: Plants(গাছ-পালা) — rezowan @ 11:37 am
সুসান একটি লতানো ফুলের গাছ। এ দেশে নতুন এসেছে। গেল শীতে দেখেছিলাম খুলনার ডালিয়া নার্সারির সামনের বেষ্টনী ছেয়ে ফেলেছিল কয়েকটা গাছ। ফুলও ফুটেছিল প্রচুর। এবার বর্ষায় খাঁ খাঁ। জানা গেল, গাছের গোড়া আছে, বর্ষার পর থেকে নতুন লতা বেরিয়ে আবার ঝোপ হবে। নতুন গাছ, তাই কোনো বাংলা বা স্থানীয় নাম পাওয়া যায়নি। অন্য কোথাও গাছটা চোখে পড়েনি। লতানো নরম গুল্মপ্রকৃতির গাছ বহুশাখায়িত, লম্বায় চার মিটার পর্যন্ত হতে পারে। পাতা হূপিণ্ডাকার, ত্রিকোণাকার, কিছুটা পানপাতার মতো। তবে পাতাগুলো ছোট। পাতার গোড়া থেকে পাঁচ-সাতটি শিরা উঠে এসেছে। পাতা ৩.৫-১৫ সেন্টিমিটার লম্বা। ফুল ফোটে এককভাবে অথবা কয়েকটা একদলে। পাপড়ি পাঁচটি গভীর খাঁজে বিভক্ত। পাপড়ির রং হলুদ, কেন্দ্রস্থল গাঢ় বাদামি। তবে লালচে ফুলও আছে। ফল গোলাকার, এক সেন্টিমিটার লম্বা। ফল শুকনো বৃতির মধ্যে আবদ্ধ থাকে। বীজ থেকে চারা হয়। মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে বীজ বুনতে হয়। গাছে সেপ্টেম্বরে ফুল ফোটা শুরু হয় এবং পরের বছর মার্চ পর্যন্ত ফুল থাকে। গাছ বহুবর্ষজীবী। বেড়ায় বা ঝুলন্ত ঝুড়িতে লাগানোর উপযুক্ত গাছ। বিশ্বব্যাপী সুসান শোভাবর্ধক গাছ হিসেবে সমাদৃত। গাছটির আদি নিবাস ট্রপিক্যাল আফ্রিকা। ইংরেজি নাম Black-eyed susan, African Sunset, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Thunbergia alata, পরিবার একানথেসি।
 

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.